সাইবার নিরাপত্তা আইনে রাখাল রাহাসহ সবার মামলা প্রত্যাহার দাবি
Published: 5th, March 2025 GMT
সাইবার নিরাপত্তা আইনে মহানবীকে (সা.) কটূক্তিকারী রাখাল রাহাসহ সবার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।
বুধবার (৫ মার্চ) সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী এবং সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি করেন।
তারা বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে দীর্ঘদিনের নির্বাচনহীনতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিভিন্ন পরিষেবা খাতগুলোর বাণিজ্যিকীকরণ, আয় বৈষম্য, দুর্নীতি, বেকারত্ব, অর্থ পাচার, প্রাণ-প্রকৃতির ধ্বংস সাধন এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও নারী-শিশুদের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্যাতনসহ নানা অন্যায়ের কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
এ ক্ষোভকে দমন এবং শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার সাইবার নিরাপত্তা আইনের মত নিবর্তনমূলক আইন তৈরি করে। লেখক মুশতাক আহমেদ, কার্টুনিস্ট কিশোর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা এবং সাংবাদিক শামসুদ্দিন শামসের মতো হাজার হাজার মানুষের উপর বিগত সরকার এ আইনের দ্বারা নিপীড়ন চালিয়েছে।
গত ৭ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সাইবার নিরাপত্তা আইন (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ-২০২৪-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২১ জানুয়ারি আইন উপদেষ্টা বলেছিলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিলে আইন মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বাকি কিছু কাজ শেষ করেই আইনটি বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হবে। এরপর প্রায় দেড় মাস কেটে গেলেও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কাজ শেষ করেনি, আইনটি বাতিলও হয়নি; বরং এই আইনে নতুন নতুন মামলা হচ্ছে।
সরকার ও প্রশাসন এ আইনে মামলা নেওয়া বন্ধের পরিবর্তে মামলা নিচ্ছে এবং তদন্ত ছাড়াই গ্রেফতারের তোড়জোড় করছে, যা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী।
তারা আরও বলেন, সর্বশেষ এ আইনের আওতায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যবই সংশোধন ও পরিমার্জন কমিটির সদস্য রাখাল রাহার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রাখাল রাহা বাক-স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার, শিক্ষা রক্ষার আন্দোলনসহ আওয়ামী আমলের বিভিন্ন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের উদ্যোগে এবং ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতায় জ্ঞান-বিজ্ঞান-মনুষ্যত্ব ধ্বংসের শিক্ষাক্রম-২০২১ বাতিলের আন্দোলনে তিনি ছিলেন আমাদের অন্যতম ভরসাস্থল। শিক্ষাক্রম বাতিলের এই আন্দোলনে তার নেতৃত্বে অভিভাবকরা সংগঠিত হন এবং আন্দোলনকে বেগবান করেন। পরবর্তীতে অন্তবর্তীকালীন সরকার এটি বাতিলের ঘোষণা দেয়।
পাঠ্যবই সংশোধন ও পরিমার্জন কমিটিতে তাকে যুক্ত করার পর থেকেই একটি সংগঠিত অপশক্তি শিক্ষা ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক চিন্তার প্রতিফলন ঠেকাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তাকে বিভিন্নভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়; যা খুবই দুঃখজনক।
তারা দাবি জানিয়ে বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইনসহ সকল নিবর্তনমূলক আইন অবিলম্বে বাতিল এবং রাখাল রাহাসহ সাইবার নিরাপত্তা আইনের আওতাধীন সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। একইসঙ্গে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকা/সৌরভ/মেহেদী
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর সরক র আইন র
এছাড়াও পড়ুন:
‘বিনোদন–দুনিয়ায় টিকে থাকা কঠিন’
ভাগ্যশ্রীর মেয়ে অবন্তিকা দাসানি ‘মিথ্যা’ ওয়েব সিরিজ দিয়ে বিনোদনজগতে যাত্রা শুরু করেন। দার্জিলিংয়ের স্কুলছাত্রী ‘রিয়া রাজগুরু’র চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই তারকা–কন্যা। পরে তেলেগু সিনেমা ‘নেনু স্টুডেন্ট স্যার’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক হয়। এবার ‘ইন গলিয়োঁ মে’ ছবিতে অভিনয় করে অবন্তিকা বলিউডে যাত্রা শুরু করলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অবন্তিকা জানালেন, তারকার সন্তান হলেও শুরুতে তাঁর ফিল্মি সফর মোটেও মসৃণ ছিল না। এমনকি এখনো টিকে থাকা কিংবা নিজের একটা অবস্থান তৈরির জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।
অনেকের ধারণা, ফিল্মি পরিবারের সন্তান মানেই তাঁদের অভিনয়জীবন খুব সহজ। তাঁরা সহজে সবকিছু পেয়ে যান। এসব ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন অবন্তিকা। তাঁর মতে, ভাগ্যই সবকিছু।
এই অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে ভাগ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যতই চেষ্টা করুন না কেন, আপনার ভাগ্য কখনো সহায় হবে, কখনো হবে না। আর এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের এমন কিছু চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়, যা মানুষের বিশ্বাসই হয় না।’ তিনি জোর গলায় বললেন, ‘অনেকেই মনে করেন যে আমাদের মা-বাবা ইন্ডাস্ট্রিতে আছেন, তাই আমরা সহজেই কাজ পেয়ে যাই। কিন্তু এটা ভুল ধারণা, ভুল! আমি যে কতবার অডিশন দিয়েছি আর কতবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছি, সে সংখ্যা আমার মনেও নেই। আরে, এসব তো প্রতিদিনই আমার জীবনে ঘটতে থাকে। তা সত্ত্বেও আমি আশায় থাকি যে একদিন হয়তো ভালো কোনো কাজ পাব। আর যেখানে আমি দেখাতে পারব যে সত্যি আমার প্রতিভা আছে কি না, নিজেকে প্রমাণ করতে পারব।’
মা ভাগ্যশ্রীর পথ অনুসরণ করে অভিনয়জগতে এসেছেন অবন্তিকা। মায়ের দেওয়া একটা মূল্যবান পরামর্শ সব সময় মনে রাখেন তিনি। ‘মাম্মা একটা কথা সব সময় বলেন, সংলাপ বলার সময় বা কোনো অ্যাকশন করার সময় আমার ভেতরের আবেগ যেন আমার চোখে ফুটে ওঠে। আমার চোখে যদি সেটা ধরা না পড়ে, তাহলে তার কোনো মানেই হয় না। চোখে যেন দৃশ্যের সত্যতা প্রকাশ পায়। মাম্মা আমার অডিশন টেপ করার সময় কখনো কখনো বলেন যে আমার চোখে আবেগ ধরা পড়ছে না, আবার যেন করি। মাম্মার কাছ থেকে পাওয়া এটাই আমার সবচেয়ে বড় শিক্ষা,’ বললেন অবন্তিকা।
ছোটবেলায় কখনো অভিনেত্রী হতে চাননি অবন্তিকা। লন্ডনে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আর মার্কেটিং নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। করপোরেট জগতে কাজ করতেন। কিন্তু অবন্তিকার ভেতরে লুকিয়ে থাকা শিল্পীসত্তা তাঁকে সব সময় বিনোদনজগতে টানত। আর তাই করপোরেট জীবন মোটেও উপভোগ করতেন না তিনি।
অবন্তিকা বলেন, ‘ছোটবেলায় আমাকে সবাই বলতেন যে আমি অভিনয়ই করব। আর এ কথা শুনে আমি খুব বিরক্ত হতাম। আমি চাইতাম না যে আমাকে একটা বাক্সে বন্দী করা হোক। তাই অভিনয় থেকে দূরে পালাতাম। কিন্তু আমি আমার চাকরিজীবন মোটেও উপভোগ করছিলাম না। অভিনয়ের প্রতি এক টান আমি অনুভব করতে শুরু করলাম। তাই আমি অভিনয়ের ওয়ার্কশপ করা শুরু করি। আর অভিনয়ের প্রতি আমার ভালোবাসা জন্মায়।’
গত ১৪ মার্চ মুক্তি পাওয়া ‘ইন গলিয়োঁ মে’ সিনেমাটি লক্ষ্ণৌ শহরের পটভূমিতে নির্মিত। এ সিনেমায় ভিভান শাহ ও অবন্তিকা দাসানি দুই সবজি বিক্রেতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন।