যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠনে আরব নেতারা যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রস্তাবেই অটল রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির এক কর্মকর্তা।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র ব্রায়ান হিউস এক বিবৃতিতে বলেন, (আরব নেতাদের) বর্তমান প্রস্তাবে গাজার বাস্তবতাকে আমলে নেওয়া হয়নি। বর্তমানে গাজা বসবাসের অনুপযোগী। ধ্বংসস্তূপ ও অবিস্ফোরিত জঞ্জাল থাকায় সেখানে মানুষের পক্ষে বসবাস করা সম্ভব নয়।

ব্রায়ান হিউসের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হামাসমুক্ত গাজাকে পুনর্গঠনের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পরিকল্পনায় অটল রয়েছেন। ওই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি আনতে আমরা আরও আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী।’

আরও পড়ুনগাজা নিয়ে বিকল্প প্রস্তাব গ্রহণ করল আরব দেশগুলো১৬ ঘণ্টা আগে

যুদ্ধপরবর্তী গাজা পুনর্গঠনের জন্য ট্রাম্পের দেওয়া প্রস্তাবের বিকল্প প্রস্তাব গ্রহণ করতে গতকাল মঙ্গলবার মিসরের রাজধানী কায়রোতে এক জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন আরব বিশ্বের নেতারা। এতে মিসরের দেওয়া প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ‘সত্যিকার শান্তি’ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

মিসরের দেওয়া প্রস্তাবে গাজার শাসনভার অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে হস্তান্তর করতে হামাসের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ (পিএ) পুনর্গঠিত হওয়ার আগপর্যন্ত শাসনভার ওই অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে থাকবে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়, পুনর্গঠনের জন্য গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দাকে নিজেদের বসত-ভিটা ছাড়ার দরকার নেই।

ট্রাম্পের প্রস্তাবে গাজাবাসীকে জর্ডান ও মিসরে সরিয়ে দিতে বলা হয়েছিল। ইসরায়েল–সমর্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সেই প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছিল, গাজাকে পুনর্গঠিত করে মধ্যপ্রাচ্যের ‘নয়নাভিরাম পর্যটনকেন্দ্রে’ পরিণত করা হবে। উপত্যকাটির নিয়ন্ত্রণ থাকবে ওয়াশিংটনের হাতে।

দক্ষিণ গাজায় বাজার করছেন এক ফিলিস্তিনি নারী। ইসরায়েলের অবরোধের কারণে উপত্যকাটিতে নিত্যপণ্যের দাম এখন বেড়েছে, ২১ জানুয়ারি ২০২৫.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ইসর য় ল

এছাড়াও পড়ুন:

মিয়ানমারে বাংলাদেশি সশস্ত্র বাহিনীর উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম

মিয়ানমারে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বাধীন বিশেষ উদ্ধারকারী ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদানকারী দল। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে বাংলাদেশি দলটি এখন মিয়ানমারে অবস্থান করছে।

শনিবার (৫ এপ্রিল) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অদ্যাবধি চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ মিয়ানমার ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের ধ্বসে পড়া ভবন পরিদর্শন করা হয় এবং ক্লিয়ারিং অপারেশনের জন্য প্রতিবেদন দেওয়া হয়। আগামীকাল সরকারি কিছু কার্যালয়ের ভবনে ক্লিয়ারিং অপারেশনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি শনিবার ১ হাজার শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট যবুথিরি জেনারেল হাসপাতাল ও ১০০ শয্যা বিশিষ্ট লি ওয়ে হাসপাতালে বাংলাদেশি চিকিৎসকদলের বিশেষজ্ঞরা ১৫০ জনকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মেডিকেল টিমের সার্জিক্যাল বিশেষজ্ঞরা দুই জন ক্যান্সার রোগীর জটিল অস্ত্রোপচারে এবং অর্থোপেডিক সার্জনগণ একটি জটিল সার্জারিতে অংশগ্রহণ করেন। এ পর্যন্ত মোট ২২৭ জনকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

আগামীকাল রবিবারও বাংলাদেশি উদ্ধারকারী ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদানকারী দলের কার্যক্রম স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অব্যাহত থাকবে বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।

ঢাকা/হাসান/রফিক

সম্পর্কিত নিবন্ধ