কুড়িগ্রামের রৌমারীতে হাতকড়াসহ ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি শাহনেওয়াজ আবির রাজুকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকার দক্ষিণখান থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বুধবার সকালে তাকে রৌমারী থানায় আনা হয়।

রাজু (৩০) উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী এলাকার আলী আজগরের ছেলে। 

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লৎফর রহমান বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার দক্ষিণখান থানা এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব-১। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মাদক ও পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করার ঘটনায় মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসা শেষে তাকে কুড়িগ্রাম জেলহাজতে পাঠানো হবে।

প্রসঙ্গত, ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজুর বিরুদ্ধে এক প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর গ্রামবাসীর তোপের মুখে অভিযুক্ত রাজু পরিবারসহ এলাকা ছেড়ে ধনারচর চরেরগ্রামে তার খালা ও সাবেক নারী ইউপি সদস্য শিরিনা আক্তারের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশে অভিযোগ দেয় ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর পরিবার। ধর্ষণ, মাদক ব্যবসা ও স্থানীয়দের হুমকির অভিযোগে রাজুকে গ্রেপ্তার করতে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে এসআই আউয়াল হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল সাবেক নারী ইউপি সদস্য শিরিনা আক্তারের বাড়িতে অভিযানে যায়। তল্লাশি চালিয়ে কয়েক পিস ইয়াবাসহ রাজুকে আটকের পর হাতকড়া পরায় পুলিশ। এ সময় রাজু, তার মা এবং খালাতো বোন (শিরিনার মেয়ে) পুলিশের ওপর হামলা চালান। এতে এসআই আউয়াল আহত হন। এ সুযোগে হাতকড়াসহ পালিয়ে যান রাজু। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এসআই আউয়ালকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: গ র প ত র কর হ তকড়

এছাড়াও পড়ুন:

মিথ্যা মাদক মামলা দেওয়ার অভিযোগে ভৈরব থানার এসআই ক্লোজড

অটোরিকশা চালক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মাদক মামলা দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ভৈরব থানার এসআই আল মামুনকে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী (বিপিএম সেবা) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, মাদকের সঙ্গে কোন আপস নয়। ৪ এপ্রিল দুপুরে ভৈরবের একটি পরিবার এসআই আল মামুনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে জানতে পেরেছি। এ ঘটনার পর এসআই আল মামুনকে ভৈরব থানা থেকে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রমাণ পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা যায়, ৮ মার্চ রাতে মাদক কারবারি আকবর আলীর ঘর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসআই শ্যামল ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় আকবর ও তার স্ত্রী রুবি বেগমের নামে মামলা না দিয়ে উল্টো তারই ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী ও তার স্ত্রী স্মৃতি বেগমের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেন এসআই আল মামুন ও এসআই শ্যামল। টাকা না দেওয়ায় অটোচালক মোহাম্মদ আলী ও তার স্ত্রীকে এসআই আল মামুন গ্রেপ্তারের হুমকি দেন বলে তারা অভিযোগ করেন।

পরে ১১ মার্চ রাত ১টায় এসআই আল মামুন অটোচালক মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে গিয়ে তাকে আটক করে পুনরায় ১ লাখ টাকা দাবি করে। মামলা থেকে বাঁচার জন্য প্রতিবেশির কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ছাড়া পান অটোচালক ও তার স্ত্রী। 

এ বিষয়ে ৪ এপ্রিল বিকেলে এসআই আল মামুন ও এসআই শ্যামল দেবনাথের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেন, এসআই আল মামুন মাদক কারবারি আকবর ও তার স্ত্রী রুবি বেগমের সঙ্গে যোগসাজশে তাদের মামলায় আসামি করেন।

সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার হলে কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপারের নজরে আসে। ওই রাতেই এসআই আল মামুনকে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক আল মামুন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মামলার বাদী শ্যামল চন্দ্র দেবনাথ। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। 

এ বিষয়ে শ্যামল চন্দ্র দেবনাথের সঙ্গে কথা হলে তিনিও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাদক উদ্ধারের ১ দিন পর মাদক মামলা দায়ের করেছি। কার মাদক দিয়ে কাকে মামলা দিয়েছি তখন তো কেউ এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করেনি।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • মিথ্যা মাদক মামলা দেওয়ার অভিযোগে ভৈরব থানার এসআই ক্লোজড
  • আসামি ছিনিয়ে নিতে পুলিশের উপর হামলা, গ্রেপ্তার ১৬