লোকসভায় আসন বৃদ্ধি আরও ৩০ বছর বন্ধ রাখার দাবি ভারতে দক্ষিণের রাজনীতিকদের
Published: 5th, March 2025 GMT
ভারতীয় সংসদের চরিত্র আরও ৩০ বছর অপরিবর্তিত রাখা হোক। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের ডাকা আজ বুধবারের সর্বদলীয় বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবে এই দাবি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, লোকসভা ও রাজ্যসভার আসনসংখ্যা এখন যেমন আছে, আরও ৩০ বছর তেমনই থাকুক। এই সময়ে দেশের অন্যত্র জননিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি সফল করা হোক।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন দাক্ষিণাত্যের সব রাজ্যের রাজনৈতিক দল নিয়ে এক যৌথ অ্যাকশন কমিটি তৈরির প্রস্তাব করেন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংসদের বহর বাড়ানো হলে তা দক্ষিণের রাজ্যগুলোর পক্ষে কতটা ক্ষতিকর হবে, সেই বিষয়ে ওই কমিটি সর্বত্র জনমত গঠন করবে, যাতে একযোগে প্রতিরোধ করা সম্ভবপর হয়। ওই প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছে।
তামিলনাড়ুর রাজধানী চেন্নাইয়ে আজ বুধবার ওই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। বৈঠকে ডিএমকে, এআইএডিএমকে, কংগ্রেস, বামপন্থী দলগুলো ছাড়াও অন্যান্য স্থানীয় দলের নেতারা যোগ দেন। তবে বিজেপি, তামিল মানিলা কংগ্রেস ও এনটিকের মতো দল ওই বৈঠক বর্জন করে।
জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভার আসন বৃদ্ধি হলে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর তুলনায় উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম ভারতীয় রাজ্যগুলোর আসন অনেক বেশি বাড়বে। ফলে সংসদে দাক্ষিণাত্যের প্রতিনিধিত্ব ও প্রভাব কমে যাবে। শুধু তা-ই নয়, দক্ষিণের রাজ্যগুলোর আশঙ্কা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, মহারাষ্ট্রসহ হিন্দি বলয়ের আসন এতটাই বেড়ে যাবে যে দাক্ষিণাত্যের সমর্থন ছাড়াই কোনো সর্বভারতীয় দল ভারত শাসন করতে পারবে। এই আশঙ্কা থেকেই তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন রাজনৈতিক প্রতিরোধে উদ্যোগী হয়েছেন।
বিভিন্ন রাজ্যের জনসংখ্যা অনুযায়ী, সংসদের আসনসংখ্যা নির্ধারিত হয়ে আসছে। ১৯৫১, ১৯৬১ ও ১৯৭১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে বিভিন্ন রাজ্যের আয়তন ও জনসংখ্যার নিরিখে লোকসভার আসন সেভাবেই নির্ধারিত হয়ে এসেছে। ১৯৭৬ সালে কেন্দ্রীয় সরকার জননিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি গ্রহণ করার সময় সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ঠিক করে, পরবর্তী ২৫ বছর সংসদের আসনসংখ্যায় কোনোরকম হেরফের ঘটানো হবে না।
কর্মসূচির সাফল্য দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ২০০১ সালে আরেকবার সংবিধান সংশোধন করে সেই মেয়াদ আরও ২৫ বছর বাড়ানো হয়। সেই নিরিখে ২০২৬ সালের পর সংসদের আসনসংখ্যা বৃদ্ধি করার কথা।
ভারতে শেষ জনগণনা হয় ২০১১ সালে। কোভিড-১৯-এর কারণে ২০২১ সালে গণনা সম্ভবপর হয়নি। ২০২৬ সালে তা হওয়ার কথা। শেষ জনগণনার হিসাব অনুযায়ী, সংসদের আসন বৃদ্ধি হলে দেখা যাচ্ছে, তামিলনাড়ুর আসন ৩৯ থেকে বেড়ে হবে ৪১, কর্ণাটকের আসন ২৮ থেকে বেড়ে হবে ৩৬, তেলেঙ্গানা ১৭ থেকে বেড়ে ২০, অন্ধ্র প্রদেশ ২৫ থেকে হবে ২৮। কেরালার আসন ২০টিতেই আটকে থাকবে।
ভারতের দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে এত কম আসন বৃদ্ধির কারণ হচ্ছে ওই অঞ্চলে জননিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির বিপুল সাফল্য। অথচ সেই কর্মসূচির ব্যর্থতার দরুন হিন্দি বলয়ের আসন বাড়বে অনেক বেশি। যেমন উত্তর প্রদেশে আসন ৮০ থেকে বেড়ে হবে ১২৮, বিহার ৪০ থেকে ৭০, মধ্যপ্রদেশ ২৯ থেকে ৪৭, মহারাষ্ট্র ৪৮ থেকে ৬৮টি।
বৈঠকের পর স্ট্যালিন সংবাদমাধ্যমে বলেন, সংসদের আসন বৃদ্ধি আরও ৩০ বছর স্থগিত রাখা হোক। ওই সময়ে দেশের অন্যত্র জননিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি সফল করা হোক, যাতে দক্ষিণের সাফল্যের সঙ্গে অবশিষ্ট ভারতের সাফল্য সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। বর্তমানে ১৯৭১ সালের জনগণনা অনুযায়ী সংসদের আসন নির্ধারিত। সেটাই আগামী ৩০ বছর অপরিবর্তিত রাখা হোক।
মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন বলেছেন, জননিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাফল্যের শাস্তি দাক্ষিণাত্যকে দেওয়া অনুচিত। তিনি মনে করেন, শুধু জনসংখ্যাই সংসদে প্রতিনিধিত্বের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না। দেশের প্রবৃদ্ধিতে রাজ্যের অর্থনৈতিক অবদানও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
ভারতের মোট জাতীয় উৎপাদনের ৩০ শতাংশ দক্ষিণের পাঁচ রাজ্যের অবদান। পাশাপাশি শুধু উত্তর প্রদেশ ও বিহারে থাকেন দেশের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার ২৬ শতাংশ। জন্মনিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে ব্যর্থ এই দুই রাজ্যের প্রতিনিধিরাই সংসদ পুনর্গঠনে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: আরও ৩০ বছর ম খ যমন ত র আসন ব দ ধ র স ফল য জনস খ য র আসন ব দ র আসন ল কসভ
এছাড়াও পড়ুন:
পাটুরিয়ায় কর্মস্থলমুখী মানুষের ভিড়
প্রিয়জনদের সাথে ঈদের ছুটি শেষ করে কর্মস্থলে ছুটছে মানুষ। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে চাপ কমলেও গাজীপুর ও রাজধানী ঢাকার সাভার, আশুলিয়া অঞ্চলের কর্মজীবিরা এ নৌরুটটি ব্যবহার করেন। ফলে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় রাজধানী ঢাকামুখী যানবাহন ও যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে।
ইকবাল হোসেন সাভারের ইপিজেড এলাকায় একটি বেসরকারি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। পরিবার নিয়ে ঈদের ছুটিতে ফরিদপুর গিয়েছিলেন। ইকবাল হোসেন বলেন, “কাল থেকে অফিস খোলা। ঘাট এলাকায় যানবাহন ও যাত্রীদের অনেক ভিড়। ফেরি পার হতে তেমন সময় লাগেনি, তবে ফেরিতে উঠতে সময় লেগেছে। ফেরি পার হয়ে ঘাট এলাকায় এসেছি।”
মরিয়ম বেগম রাজবাড়ী থেকে যাচ্ছেন বলিভদ্র এলাকায়। তিনি বলেন, “লোকাল পরিবহনে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় আসছি। ভিড়ে ফেরিতে উঠতে পারিনি, লঞ্চ ঘাটেও ভিড়। পরে ভিড় ঠেলে লঞ্চে পার হয়েছি। এখন পাটুরিয়া ঘাট থেকে নবীনগর যাবো, তারপর অন্য পরিবহনে বলিভদ্র যাবো। ঘাট এলাকায় অনেক ভিড়।”
ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার নিয়ে ইস্তিয়াক আহমেদ গাজীপুর যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “দৌলতদিয়া ঘাট থেকে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় পৌঁছাতে ৪০ মিনিট সময় লেগেছে। তবে দৌলতদিয়া প্রান্তে ফেরিতে উঠতে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।”
গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসচালক ইসমাইল মিয়া বলেন, “পরিবহনসহ লোকাল বাসে আজ ভিড় বেশি। ঘাট এলাকায় যানবাহনের সিরিয়ালও বেশি। ফেরি সবগুলো চললেও যানবাহনের ভিড় বেশি থাকায় পারাপারে সময় বেশি লাগছে।”
পাটুরিয়া লঞ্চ ঘাটের ব্যবস্থাপক পান্না লাল নন্দী বলেন, “সকাল থেকেই দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া লঞ্চ রুটে যাত্রীদের ভিড় রয়েছে। দৌলতদিয়ায় লঞ্চগুলো যাওয়ার সাথে সাথে পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মধ্যে যাত্রীরা উঠে পড়ছেন। এ নৌরুটে যাত্রী পারাপারে বিশটি লঞ্চ চলাচল করছে।”
শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম ( বাণিজ্য) নাসির মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, “সকাল থেকেই পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটের দৌলতদিয়া প্রান্তে যানবাহন ও যাত্রীদের ভিড় রয়েছে। দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় যানবাহনগুলো সিরিয়ালে রয়েছে এবং এসব যানবাহন সিরিয়াল অনুযায়ী পার করা হচ্ছে। এ নৌরুটে ১৭টি ফেরি দিয়ে যানবাহন ও যাত্রীদের পারাপার করা হচ্ছে। নৌরুটে ভিড় বাড়লেও পর্যাপ্ত ফেরি চলাচল করায় বাড়তি চাপ নেই, কোন ভোগান্তি নেই।”
ঢাকা/চন্দন/টিপু