অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানার বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে। ২০২৩ সালে ‘অ্যানিম্যাল’, ২০২৪ সালে ‘পুষ্পা ২’ সিনেমার পর গত ভালোবাসা দিবসে মুক্তি পাওয়া ‘ছাবা’ সিনেমাও সুপারহিট। সিনেমার সাফল্যে যখন উদযাপনের মধ্যে দিয়ে দিন পার করছিলেন ঠিক সে সময়েই নতুনভাবে চর্চায় এলেন তিনি।

রাশমিকা মান্দানার জন্ম ভারতের কর্নাটকে। কন্নড় সিনেমা দিয়েই অভিনয় দুনিয়ায় হাতেখড়ি হয়েছে তাঁর। সেই কন্নড় ভাষাকেই কিনা ‘উপেক্ষা’ করছেন রাশমিকা!

সম্প্রতি ‘পুষ্পা’ অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন কর্নাটকের কংগ্রেস বিধায়ক রবিকুমার গৌড়া গণিগা।

বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দেওয়ার জন্য সরকারি আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন রাশমিকা। তাতেই চটেছেন কংগ্রেস বিধায়ক। রবিকুমার গৌড়া গণিগার দাবি, ‘রাশমিকাকে এজন্য শিক্ষা দেওয়া উচিত।’

এই বিধায়ক বলেন, ‘‘রাশমিকা মান্দানা কর্ণাটকে কন্নড় সিনেমা ‘কিরিক পার্টি’ দিয়ে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। গত বছর যখন আমরা তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম তখন তিনি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।’

তাঁর দাবি, রাশমিকা নাকি আমন্ত্রণ ফিরিয়ে বলেছিলেন, ‘আমার বাড়ি হায়দরাবাদে, আমি জানি না কর্ণাটক কোথায়, আমার এত সময়ও নেই। আমি আসতে পারব না।’

রবিকুমার গৌড়া গণিগার দাবি, ‘আমাদের এক বিধায়ক বন্ধু রাশমিকাকে প্রায় ১০-১২ বার তাঁর বাড়িতে আমন্ত্রণ জানাতে গিয়েছিলেন, তবে তিনি রাজি হননি। এ ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেই তিনি বড় হয়েছেন, আর কন্নড় ইন্ডাস্ট্রিকেই তিনি উপেক্ষা করেছেন। তাই আমাদের কি উচিত নয়, তাঁকে শিক্ষা দেওয়া?’

কংগ্রেস নেতার এই মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি নেতা রাজীব চন্দ্রশেখর। তিনি পাল্টা বলেন, ‘আপনারা কখনোই রাহুলের কংগ্রেসের থেকে গুন্ডাদের আলাদা করতে পারবেন না। রাহুল গান্ধীর দলের এই বিধায়ক একজন অভিনেত্রীকে শিক্ষা দিতে চান। আমি কংগ্রেসের বড় নেতাদের বলব সংবিধান পড়তে। যেখানে অভিনেত্রীসহ প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ভুলে যাবেন না। আপনাদের এই গুন্ডা এমপির আইন এবং নাগরিকদের অধিকারকে সম্মান করতে বাধ্য।’

সম্প্রতি ‘ছাবা’র প্রচারের সময় হায়দরাবাদের এক হলে রাশমিকা মান্দানা বলেন, ‘আমি তো আদতে হায়দরাবাদেরই মেয়ে। কারও সাহায্য ছাড়াই এই ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছিলাম এবং আশা করি, আজ আমি আপনাদের পরিবারের একজন।’ রাশমিকার এ মন্তব্যে হায়দরাবাদবাসী খুশি হলেও চটেছিলেন কর্ণাটকের বাসিন্দারা।

এর কারণ, রাশমিকার জন্ম কর্ণাটকের কুর্গে। তিনি কন্নড় সিনেমা ‘কিরিক পার্টি’ (২০১৬) দিয়ে অভিনয় দুনিয়ায় পা রাখেন। যদিও জনপ্রিয়তা পান তেলেগু সিনেমার হাত ধরে। এ মুহূর্তে হায়দরাবাদ শহরেরই বাসিন্দা রাশমিকা।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: হ য়দর ব দ

এছাড়াও পড়ুন:

ঈদের পর শুরু হোক আদর্শ ডায়েট

পবিত্র রমজান মাসে আমাদের খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন ঘটে। শরীর ক্রমেই এ পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়। এরপর আসে ঈদ। ঈদের দুই–তিন দিন খাবারের বেলায় বেশি বিধিনিষেধ মানা হয় না। এত কিছুর পর এবার স্বাভাবিক লাইফস্টাইলে ফিরে আসার সময় হয়েছে। শরীরকে আবার রোজকার আদর্শ খাদ্যাভ্যাসে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। রোজা শেষে নিয়মিত খাবারের ধরনে ফেরার সময় হজমে অস্বস্তি ও বিপাকীয় ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। এমনকি শরীরের ওজনও বাড়তে পারে। 

লক্ষ রাখুন

পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার দিয়ে শুরু করুন। গরম পড়েছে, তাই ভারী খাবার কমিয়ে দিন। বাড়তি খাওয়া এড়ানোর চেষ্টা করুন।

ভারী ব্যায়াম শুরু করার আগে হাঁটার মতো হালকা ব্যায়াম দিয়ে শুরু করুন।

ফল, শাকসবজি ও শস্যের মতো খাবারগুলো অগ্রাধিকার দিন। শর্করা, আমিষ, ভালো চর্বি ও ভিটামিন–মিনারেলসমৃদ্ধ সুষম খাবারে
অভ্যস্ত হোন।

 

খাদ্যতালিকায় রাখুন

ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট পেতে ফলমূল ও শাকসবজি।

লাল আটার রুটি, ওটস বা লাল চালের ভাতের মতো শস্যজাতীয় খাবার।

মুরগি, গরুর মাংস, মাছ বা ডিমের মতো উৎস থেকে খাবারে প্রোটিন যোগ করুন। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার রাখুন।

হজমে সহায়তা করার জন্য বেশ খানিকটা ফাইবারজাতীয় (আঁশ) খাবার রাখবেন।

কিছু পরামর্শ 

উৎসব পেরিয়ে গেলে খাবারের মধ্যে সালাদ, শাকসবজি ও স্যুপ রাখুন, যা হজমে সাহায্য করবে এবং শরীরকে বেশি চাপ দেবে না। প্রচুর তাজা ফলমূল খান।

প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা জরুরি। পানি শরীরের টক্সিন বের করতে সহায়ক। পাশাপাশি বাড়িতে তৈরি ফলের রস, দইয়ের লাচ্ছি, ডাবের পানি পান করতে পারেন এ গরমে।

ঈদের পর কাজের চাপে শরীর একটু ক্লান্ত ও ভারী অনুভূত হতে পারে। এর মানে এ নয় যে শারীরিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। ঈদের পর হালকা ব্যায়াম করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট ব্যায়াম করলে শরীরের মেটাবলিজম ঠিক থাকে, খাবার ভালোভাবে হজম হয় ও ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ঈদে কেক, পায়েস, সেমাই, জিলাপি ও অন্যান্য মিষ্টান্ন খাবার বেশি খাওয়া হয়। অতিরিক্ত মিষ্টি গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার খেলে শরীরে ও যকৃতে চর্বি জমতে পারে, রক্তে শর্করা বাড়তে পারে। তাই ঈদের পর মিষ্টি খাবারের পরিমাণ কমিয়ে প্রাকৃতিক বা অর্গানিক উৎস থেকে শর্করা গ্রহণ করুন, যেমন ফলমূল বা জটিল শর্করা।

উৎসবে ভারী খাবার থেকে ফিরে আসার জন্য প্রাকৃতিক ও সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ দুধ, দই, বাদাম, ওটস, চিয়া সিডস ইত্যাদি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

উৎসব ও রোজায় কোষ্ঠকাঠিন্য পরিচিত সমস্যা। এটি থেকে বাঁচতে আঁশযুক্ত খাবার খান। প্রচুর পানি পান করুন।

মনে রাখবেন, রোজায় খাবারের সূচি পাল্টে যায়। রোজার পর আবার তা পরিবর্তন হয়। তাই সকালে স্বাস্থ্যকর নাশতা জরুরি। দুপুরে মাছ, ডাল, সবজি রাখুন। রাতে হালকা খাবার। তাহলে ধীরে ধীরে শরীর স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরতে পারবে।

লাজিনা ইসলাম চৌধুরী: পুষ্টিবিদ পিপলস হাসপাতাল, খিলগাঁও, ঢাকা

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ৬ ম্যাচ বাকি থাকতেই শিরোপা উৎসব পিএসজির
  • কেমন হলো পিএসজির শিরোপা উৎসব
  • উৎসব আমেজে খোয়াই পাড়ের ঐতিহ্যবাহী বান্নি মেলা অনুষ্ঠিত
  • ঈদেও মন খারাপ শিশুদের
  • মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরীতে অষ্টমী স্নানোৎসব 
  • ঈদের পর শুরু হোক আদর্শ ডায়েট
  • কিশোরগঞ্জে খড়ের বিনিময়ে ধান কাটা উৎসব
  • উৎসবে যেভাবে ঘর সাজাবেন
  • ঈদের ছুটিতে বাঙ্গালী নদীতে উৎসবের আমেজ
  • রাঙামাটিতে বিজু সাংগ্রাই বৈসুক বিষু বিহু উৎসব শুরু