রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ‘মব’ তৈরি করে ইরানের দুই নাগরিকসহ তিনজনকে মারধরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

হামলার ঘটনায় আজ বুধবার পুলিশ বাদী হয়ে ভাটারা থানায় মামলা করে। মামলায় ২০০ থেকে ২৫০ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাড্ডা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুজন হক।

এ ঘটনায় ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের বাড্ডা অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মব’ সৃষ্টিতে জড়িত মূল ব্যক্তি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা।

আরও পড়ুনঢাকায় ‘মব’ তৈরি করে ইরানের দুই নাগরিককে মারধর: পুলিশ১৩ ঘণ্টা আগে

পুলিশ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইরানের দুই নাগরিক ডলার ভাঙিয়ে টাকা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশি এক ব্যক্তির সঙ্গে লেনদেন করেন। ওই সময় কিছু ডলার কম পেয়েছেন দাবি করে বাংলাদেশি ব্যক্তি ইরানের নাগরিকদের বহনকারী গাড়িতে আঘাত করে ক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। এ সময় আশপাশের লোকজন জড়ো হওয়া শুরু করলে ইরানি নাগরিকেরা ভয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের মারধর করেন।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মুদ্রা বিনিময় করা বাংলাদেশি ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য জড়িত ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে দুই বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ জানায়, আহত ইরানের দুই নাগরিক হলেন মোহাম্মদ আহমদ (৭৪) ও তাঁর নাতি মো.

মেহেদী (১৮)। তাঁরা বাংলাদেশে ঘুরতে এসেছেন। আহত অন্যজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনি দুই বিদেশি নাগরিককে তাঁর গাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে যান।

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ঘটন য়

এছাড়াও পড়ুন:

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে: প্রধান বিচারপতি

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তিনি বলেন, পৃথক সচিবালয় বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

শনিবার দুপুরে রংপুর নগরীর গ্র্যান্ড প্যালেস মিলনায়তনে ইউএনডিপি আয়োজিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্য দক্ষতা বৃদ্ধিতে আঞ্চলিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণসহ বিচারসেবা প্রদানে দক্ষতা বৃদ্ধিতে করণীয় সম্পর্কে আয়োজিত এ সেমিনারে  সভাপতিত্ব করেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জাফর আহমেদ।

সেমিনারে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফান লিলার। এছাড়া, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে স্টিফান লেলার দেশের বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বতন্ত্রীকরণে প্রধান বিচারপতির ঘোষিত বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন এবং উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশের বিভাগের জন্য ঐতিহাসিক এ মুহূর্তে বিচার বিভাগের আধুনিকায়নে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে থাকার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধান বিচারপতি তার বক্তব্যে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিতকরণে বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং তার ঘোষিত বিচার বিভাগ সংস্কারের  রোডম্যাপ বাস্তবায়নের অগ্রগতির বিবরণ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগ সংস্কার সংক্রান্ত রোডম্যাপ এর পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ জুলাই ২০২৪ উত্তর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, বিচারিক সংস্কার শুধু বিভিন্ন খাতভিত্তিক সংস্কারের স্থায়িত্বের মূল চাবিকাঠিই নয়, বরং এটি এখন নিজেই ‘সংস্কার’ শব্দের প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিচার বিভাগ হলো রাষ্ট্রের একমাত্র অঙ্গ, যা বহু দশক ধরে নিজের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের জন্য সক্রিয়ভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে।

এ দাবির কেন্দ্রে রয়েছে নিজেদের সংস্কার কর্মসূচি নিজেরাই নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব। গত আট মাসে এই প্রচেষ্টা অভূতপূর্ব গতি অর্জন করেছে। এখন লক্ষ্য হলো সে উদ্দেশ্য পূরণ করা এবং তা যেন ভবিষ্যতেও টিকে থাকে তা নিশ্চিত করা। একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে, আমরা কখনও ক্ষমতার পূর্ণ পৃথকীকরণের লক্ষের এতটা কাছাকাছি আসিনি। যদি এ সুযোগ কোনোভাবে নষ্ট হয়, তবে তা বিচার বিভাগের মর্যাদা, অখণ্ডতা এবং প্রাসঙ্গিকতার জন্য চরম ক্ষতিকর হবে।

সেমিনারে রংপুর জেলার জেলা ও দায়রা জজ আদালত, মহানগর দায়রা জজ আদালত, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, শ্রম আদালতে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারাসহ রংপুরের বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা এবং কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  

এছাড়া সেমিনারে রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সরকারি কৌশুলি, পাবলিক প্রসিকিউটরসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথি অংশগ্রহণ করেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ