কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও আগামী নির্বাচনে যেন অংশগ্রহণ করতে পারেন এজন্য দোয়া চেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। কারাগারে থেকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে নিরাপদে আছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

আজ বুধবার সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানির আগে আদালতে তোলার আগে এসব কথা বলেন সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। এদিন সকাল ১০টা ৬ মিনিটে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয় আনিসুল হক, শাজাহান খান, কামাল মজুমদার, আতিকুল ইসলাম, সোলায়মান সেলিমসহ অন্য আসামিদের। এ সময় হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও পেছনে হাত রেখে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হাজতখানা থেকে বের করা হয় তাদের। 

হাজতখানা থেকে আদালতে নেওয়ার পথে শাজাহান খানের কাছে কেমন আছেন জানতে চান এক সাংবাদিক। উত্তরে তিনি বলেন, ‘আছি তোমাদের দোয়ায়। দোয়া করবা আমার জন্য।’ তখন ওই সাংবাদিক বলেন, কী দোয়া করব?

উত্তরে শাজাহান খান বলেন, ‘দোয়া করবা যেন তাড়াতাড়ি মুক্তি পেয়ে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা কিভাবে ফিরিয়ে আনা এবং আগামী নির্বাচনে কিভাবে অংশগ্রহণ করতে পারি.

. এ সমস্ত বিষয়ে দোয়া করবা।’ তখন ওই সাংবাদিক আবার বলেন, সবাই বলছে আপনারা দেশের বারোটা বাজিয়েছেন। তখন শাজাহান খান বলেন, ‘আমরা বারোটা বাজিয়েছি না কারা বাজিয়েছে এটা সামনে প্রমাণিত হবে।’  

পরে তাদের কাঠগড়ায় ওঠানো হয়। এ সময় তাদের হাতে হ্যান্ডকাফ, মাথার হেলমেট খুলে দেওয়া হয়। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বিচারক এজলাসে উঠলে তাদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি শুরু হয়। পরে আদালত এক এক করে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

এরপর তাদের আদালত থেকে নামিয়ে সিএমএম আদালতের হাজতখানার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়। তখন আরেক সাংবাদিক জিজ্ঞাসা করেন, আপনি এত হাসেন কেন। তখন শাজাহান খান বলেন, ‘আমি সবসময় হাসি, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হাসতে থাকব।’ কারাগারে কেমন আছেন জিজ্ঞাসা করলে বলেন, ‘খুব ভালো আছি। কারাগারে থেকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে নিরাপদে আছি।’ এরপর তাকে এজলাস থেকে অন্যান্য আসামির সঙ্গে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: হ জতখ ন

এছাড়াও পড়ুন:

পাবনায় ঈদের দিন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত দুই বন্ধুর মৃত্যু

পাবনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত এসএসসি পরীক্ষার্থী দুই বন্ধু গতকাল শুক্রবার রাতে মারা গেছে। ঈদের দিন বিকেলে বেড়াতে বের হয়ে তারা আহত হয়েছিল।

নিহত ব্যক্তিরা হলো গাইবান্ধা জেলা সদরের কামাল হোসেনের ছেলে নয়ন হোসেন (১৭) এবং পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের সুলতানপুর পূর্বপাড়া গ্রামের হাদিস ব্যাপারীর ছেলে হৃদয় হোসেন (১৭)। নয়ন সুলতানপুর পূর্বপাড়া গ্রামে নানার বাড়িতে থাকত। তারা দাশুড়িয়া দরগা বাজার উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় সূত্র ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবার সূত্র জানায়, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন বিকেলে দুই বন্ধু মোটরসাইকেল নিয়ে বেড়াতে বের হয়। জেলার আটঘরিয়া উপজেলার খিদিরপুর-দেবত্তর সড়কের বেরুয়ান এলাকায় তাদের মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এ সময় দুজন গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে একজনকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ও অন্যজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে নয়ন এবং রাত ২টার দিকে হৃদয়ের মৃত্যু হয়।

দাশুড়িয়া দরগা বাজার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম নিহত দুজনের পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, দুই বন্ধুকে ঈশ্বরদীর খালিশপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে। তিনি জানান, নিহত দুজনের ১০ এপ্রিল শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

সম্পর্কিত নিবন্ধ