ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পানির ট্যাংক থেকে তালেব মিয়া (২৮) নামের এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ৷ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে শহরের কলেজপাড়ায় ধন মিয়ার বাড়ির পানির ট্যাংক থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত তালেব জেলা শহরের কান্দিপাড়ার মাইলহাটির মৃত রাজা মিয়ার ছেলে। গত রোববার সন্ধ্যার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

কলেজপাড়ায় ধন মিয়ার একতলার বাড়ির ছাদে পানির ট্যাংক আছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে বাড়ির এক ভাড়াটে ট্যাপ থেকে রক্তসহ দুর্গন্ধযুক্ত পানি বের হতে দেখেন। তিনি বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানান। পরে এলাকার কয়েকজনকে নিয়ে তাঁরা পানির ট্যাংকের ঢাকনা খুলে ভেতরে অর্ধগলিত লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ পানির ট্যাংক কেটে ভেতর থেকে লাশ উদ্ধার করে।

কলেজপাড়ার বাসিন্দা মো.

মামুন মিয়া বলেন, ‘আমার মামি ওই বাড়ির ট্যাপ থেকে রক্তসহ দুর্গন্ধযুক্ত পানি বের হতে দেখেন। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছে, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর রহস্য বের করা দরকার।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, লাশের মুখ থেঁতলে গেছে, মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশে পচনের গন্ধ ধরেছে। কয়েক দিন আগে লাশটি পানির ট্যাংকের ভেতরে ফেলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি মোজাফর হোসেন আরও বলেন, এটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দল আঙুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় শনাক্ত করেছে। প্রথম রমজানের ইফতারের পর থেকে তালেব নিখোঁজ ছিলেন।

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

ওয়ার্নার বলেছিলেন মাথা খাটিয়ে বল করতে, মোস্তাফিজ দিলেন মাথার ওপর বাউন্সার

‘আমি ফিজের জন্য গুগল ট্রান্সলেশন ব্যবহার করছিলাম। চেষ্টা করছি কীভাবে বাংলা বলতে হয়। হা হা। থোরা থোরা।’

২০১৬ সালের এপ্রিলে আইপিএলের মধ্যে ঠিক এমন টুইটই করেছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। ফিজ মানে বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমান, সে বছরই প্রথমবার আইপিএল খেলতে  যান বাংলাদেশের এই বাঁহাতি পেসার। সানরাইজার্স হায়দরাবাদে মোস্তাফিজের অধিনায়ক ছিলেন ওয়ার্নার।

টেবিলের দুই প্রান্তে বসা ওয়ার্নার ও মোস্তাফিজ—এমন একটি ছবি ‘ভাইরাল’ হয়ে গেলে একজনের মন্তব্যের জবাবে অমন উত্তর দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার। যে উত্তরে রসিকতার সুর থাকলেও ওয়ার্নারের বাংলা শেখার চেষ্টা ছিল সত্যি। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মোস্তাফিজের সঙ্গে আলোচনা করতে বেশ বিড়ম্বনায়ই যে পড়তে হতো তাঁকে।

আইপিএলে ভাষা–বিড়ম্বনার ঘটনা অবশ্য নিয়মিতই। ক্রিকেট সাধারণত জাতীয় দলনির্ভর খেলা হওয়ায় ব্যতিক্রম বাদে একটি দলের সবাই এক ভাষায়ই কথা বলেন। সমস্যা দেখা দেয় যখন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বিভিন্ন ভাষাভাষী এক দলে জড়ো হন। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলেও একই চিত্র দেখা যায়।

তবে ভাষা নিয়ে বিড়ম্বনা সেখানে কম হওয়ার বড় কারণ, খেলা চলে প্রায় সারা বছর। লম্বা সময় সবাই একসঙ্গে থাকায় ভাষার প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ওঠাটা সহজ। কিন্তু আইপিএলের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্টগুলো চলে বছরে সর্বোচ্চ দুই মাস। তার ওপর এক ভারতেই বহু ভাষার মানুষের সমাগম।

সরকারি দাপ্তরিক ভাষা হিন্দি ও ইংরেজি হলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত ভাষা ২২টি। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ক্রিকেটার আর বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়েরা যখন একত্রিত হন, তখন যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভাষা নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জেই পড়তে হয় টিম ম্যানেজমেন্টকে।

আরও পড়ুনআইপিএল: ক্রিকেট নাকি ক্রিকেট নয়৩০ মার্চ ২০২৪

আইপিএলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক পীযুষ চাওলাও পড়েছিলেন এমন এক বিড়ম্বনায়। ২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম আসরে চাওলা ছিলেন পাঞ্জাব কিংসে। সেই দলে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্রেট লি, শন মার্শ, কোচ টম মুডিরা।

উত্তর প্রদেশ থেকে উঠে আসা চাওলা ইংরেজি বলতে না পারলেও বুঝতে পারতেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ানদের ইংরেজি নিয়ে পড়েছিলেন ঝামেলায়, ‘ইংরেজি সমস্যা ছিল না; কিন্তু ওদের উচ্চারণ বোঝা কঠিন ছিল।’ লি–মার্শদের ইংরেজি বোঝার জন্য চাওলা তখন যুবরাজ সিংকে অনুবাদক বানিয়ে নিয়ে বলতেন ‘উনি কী বলেছেন বুঝিয়ে দাও তো’। আবার পরবর্তী সময়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সে খেলার সময় কোচ জ্যাক ক্যালিস ও সাইমন ক্যাটিসদের কথা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য রিংকু সিংয়ের দোভাষী হয়ে ওঠেন চাওলাই।

প্রথম আসরে পাঞ্জাবে কোচিং করানো মুডি ২০১৬ আসরে ছিলেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদে। সে বছর বাংলাদেশের মোস্তাফিজকে নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল তাঁর দলকে। ইএসপিএনক্রিকইনফোকে সে কথা জানাতে গিয়ে মুডি বলেন, ‘প্রথম দিকে ওকে নিয়ে সত্যিই সমস্যায় পড়েছিলাম।’

২০১৬ আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদে খেলেন মোস্তাফিজুর রহমান।

সম্পর্কিত নিবন্ধ