Samakal:
2025-04-04@01:55:44 GMT

সড়কের বিষফোড়া তিন বাজার

Published: 4th, March 2025 GMT

সড়কের বিষফোড়া তিন বাজার

বাঞ্ছারামপুর-তিতাস-গৌরীপুর ৩০ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়কে যানজট নামক বিষফোড়া তিতাসের বাতাকান্দি ও কড়িকান্দি বাজার এবং দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজার। প্রতিদিন এসব স্থানে যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে যানবাহন। 
বিশেষ করে প্রতি রোববার গৌরীপুর বাজারে ও বুধবার বাতাকান্দি বাজারে সাপ্তাহিক হাট থাকায় যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ফলে কুমিল্লার তিতাস, মেঘনা, হোমনা, মুরাদনগর, দাউদকান্দি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে ১৯৯৪ সালে গৌরীপুর-তিতাস-হোমনা-বাঞ্ছারামপুরের ৩০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়। এ সড়ক ব্যবহার করে কুমিল্লার তিতাস, মেঘনা, হোমনা, মুরাদনগর, দাউদকান্দি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের মানুষ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। এলাকার ব্যবসায়ীরা এ সড়ক ব্যবহার করে তাদের পণ্য আনা-নেওয়া করে। সড়কটি নির্মাণের সময় সড়ক ও জনপথ বিভাগ বাজার এলাকায় রাস্তার দুই পাশে ৩০০ ফুটেরও বেশি জায়গা অধিগ্রহণ করে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসন আমলে কোনো উচ্ছেদ অভিযান না হওয়ায় বেশির ভাগ অংশ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। কড়িকান্দি ও বাতাকান্দি বাজারে একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব জায়গা ভাড়া দিয়ে এবং পজিশন হস্তান্তর করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, গত ২০ বছরে ৩০ কিলোমিটার সড়কের উভয় পাশে অসংখ্য সংযোগ সড়ক থাকায় তৈরি হয়েছে অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ড। ফুটপাত দখল করে যানবাহনের স্ট্যান্ড তৈরি হওয়ায় যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। যানজটে অনেক সময় যাত্রীদের সঙ্গে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের বাগ্‌বিতণ্ডা তৈরি হচ্ছে।
প্রতি রোববার গৌরীপুর বাজারে সাপ্তাহিক হাটের দিন লাখ লাখ ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে। এ সময় আধা-কিলোমিটার সড়ক অতিক্রম করতে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। এ ছাড়া বাজার এলাকায় রাস্তা সরু হওয়ায় এবং ফুটপাতে ভাসমান দোকান থাকায় প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীদের বসে থাকতে হচ্ছে। 
কড়িকান্দি বাজারের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী সড়ক ও জনপথের জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করেছেন। যেখানে যাত্রী দাঁড়িয়ে গাড়িতে ওঠার কথা সেখানে সামিয়ানা টাঙিয়ে অস্থায়ী ফলের দোকান করা হয়েছে। তার ওপর রাস্তার মধ্যে অটোরিকশা স্ট্যান্ড থাকার কারণে দুটি গাড়ি পাশাপাশি যেতে পারছে না। 
বিশেষ করে বাতাকান্দি বাজারে বুধবারের সাপ্তাহিক হাটে গৌরীপুর বাজারের মতো যাত্রীদের ৩-৪ ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে। বাতাকান্দি বাজারের রাস্তার উভয় পাশ দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এ বাজারের চারদিকে অসংখ্য সংযোগ সড়ক থাকায় ৬টি স্ট্যান্ড স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকে শত শত অবৈধ অটোরিকশা।
অটোরিকশাচালক লিয়াকত আলী জানান, গৌরীপুর যাতায়াতে তাদের অতিরিক্ত এক থেকে দুই ঘণ্টা ব্যয় হচ্ছে। বিশেষ করে গৌরীপুর, কড়িকান্দি ও বাতাকান্দি বাজারে প্রতিদিনই যানজট লেগে থাকে। 
ট্রাকচালক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সপ্তাহে চার দিন এ সড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পণ্য নিয়ে যাই এবং নিয়ে আসি। কিন্তু যানজটের কারণে আমাদের সময় এবং খরচ দুটোই বেড়ে গেছে।’
স্কুলশিক্ষক মিজানুর রহমানের ভাষ্য, গৌরীপুর-হোমনা-বাঞ্ছারামপুর সড়কে যানজট লেগেই থাকে। এ কারণে অতিরিক্ত সময় নিয়ে আগেভাগে বাড়ি থেকে বের হতে হচ্ছে। অনেক সময় যানজট থাকলে চালক আর যেতে চান না, রাস্তায়ই নামিয়ে দেন।
কথা হয় সড়ক ও জনপথ বিভাগের গৌরীপুর অঞ্চলের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছি। এ অভিযান শেষ হলেই গৌরীপুর মোড় থেকে বাঞ্ছারামপুর পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালাব।’
 

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: সড়ক ক ল ম ট র সড়ক ৩০ ক ল ম ট র ন র ম ণ কর য নজট

এছাড়াও পড়ুন:

মহাসড়কের সেই স্থানে বসল অপরিকল্পিত গতিরোধক

সংসদীয় কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে থাকা ১ হাজার ১৮৮টি অপ্রয়োজনীয় গতিরোধক (স্পিডব্রেকার) অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। ২০২০ সালের সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কয়েক বছরে ৭৫৫টি গতিরোধক অপসারণও করা হয়েছে। তবে বুধবার মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নির্দেশে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া বন বিট অফিসের দক্ষিণ পাশে গতিরোধক নির্মাণ করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। 

অথচ সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক কারিগরি নির্দেশিকাতেও উল্লেখ আছে, মহাসড়কে অপরিকল্পিত গতিরোধক অপসারণ করতে হবে। খুব জরুরি হলে রেট্রো-রিফ্লেকটিভ রঙের মাধ্যমে স্থাপন করতে হবে ‘রাম্বল স্ট্রিপ’। বিশেষ ধরনের এই স্ট্রিপ গতিরোধ না করে গতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ নতুন স্থাপন করা গতিরোধককে ‘রাম্বল স্ট্রিপ’ দাবি করলেও আদতে এটি সাধারণ স্পিডব্রেকার বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় বাসিন্দারা এমন গতিরোধক স্থাপনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তারা বলছেন, এতে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে। নির্জন এই স্থানে গতিরোধকের কারণে ডাকাতি ও ছিনতাই বাড়ারও শঙ্কা রয়েছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সমীক্ষায় যুক্ত থাকা বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর যে গতিরোধক স্থাপন করা হয়েছে, সেটি কোনোভাবেই গতি নিয়ন্ত্রণের রাম্বল স্ট্রিপ নয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।  প্রাণহানির সঙ্গে গাড়ির যন্ত্রাংশও দ্রুত নষ্ট হবে।’ 

সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘চুনতি অভয়ারণ্যের কাছাকাছি এই অংশের প্রায় এক কিলোমিটার সড়কটি ঢালু। এতে বেশ কয়েকটি বিপজ্জনক বাঁক আছে। দুর্ঘটনা রোধে রেল এবং পানিপথে লবণ পরিবহনের পরামর্শ দিয়েছি।’

সরেজমিন দেখা যায়, লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া বন বিট অফিসের দক্ষিণ পাশে দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন এলাকায় মহাসড়কে গতিরোধক নির্মাণের কাজ চলছে। জাঙ্গালিয়ার ঢালু এলাকায় আট ইঞ্চি উচ্চতার চার থেকে ছয়টি করে গতিরোধক নির্মাণ করা হয়েছে। ৩০ থেকে ৪০ ফুট অন্তর  ছয়টি গতিরোধক স্থাপন করা হয়। তিন থেকে চারটি গতিরোধক বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। একটিতে রং করা হচ্ছে। বালু ঢেকে দেওয়া গতিরোধকগুলো খেয়াল করছেন না চালকরা। তাছাড়া এই পয়েন্টে সতর্কতামূলক কোনো সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়নি। গতকাল এই পয়েন্টের কাছে একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিলে পড়ে যায়। 

ঈদের ছুটিতে টানা তিন দিনে এ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জনের প্রাণহানি এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। বুধবার একসঙ্গে ১০ জনের প্রাণহানির পর তিন উপদেষ্টাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপপ্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনা রোধে গতিরোধক স্থাপন করা হচ্ছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, জাঙ্গালিয়া ডাকাতিপ্রবণ এলাকা। এ এলাকার মহাসড়কের এক পাশে চুনতি অভয়ারণ্য, অন্য পাশে সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এ কারণে এলাকাটিতে ছিনতাইসহ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গেল ছয় মাসে ২৩টি মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় লোকজন শঙ্কা,  গতিরোধকে যানবাহনের গতি কমলে ডাকাতি কিংবা ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়বে। এ নিয়ে ফেসবুকেও তুমুল সমালোচনা চলছে।

হাইওয়ে পুলিশের দোহাজারী থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘এই রাম্বল স্পিড স্থাপনের ফলে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রিত হবে, দুর্ঘটনার হার কমবে। তবে, এলাকা নিরিবিলি হওয়ায় বিছিন্ন ঘটনাও ঘটার শঙ্কাও রয়েছে।’

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইনামুল হাছান জানিয়েছেন, উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম পরিদর্শনের পর বাঁক অপসারণের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • মহাসড়কের সেই স্থানে বসল অপরিকল্পিত গতিরোধক