Samakal:
2025-04-04@02:00:38 GMT

অর্থের অপচয়, ফল পেল না রাষ্ট্র

Published: 4th, March 2025 GMT

অর্থের অপচয়, ফল পেল না রাষ্ট্র

চুনারুঘাট উপজেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নতুন সম্ভাবনা হয়ে সামনে এসেছিল কেদারাকোর্টে অবস্থিত বাল্লা স্থলবন্দর। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের আশা ছিল, বদলে যাবে এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি। অন্যান্য বন্দর এলাকার মতো কেদারাকোর্টেও বাড়বে কর্মসংস্থান। তবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের অসহযোগিতায় সে স্বপ্ন ভাঙার দ্বারপ্রান্তে।
ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের হতাশায় ডুবাল বাল্লা স্থলবন্দর বন্ধের আশঙ্কা। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ অলাভজনক হওয়ায় একাধিক স্থলবন্দর প্রাথমিকভাবে বন্ধের সুপারিশ করেছে; যার একটি হচ্ছে চুনারুঘাটের এ স্থলবন্দরটি। কর্তৃপক্ষের একটি উচ্চপর্যায়ের যাচাই কমিটি এ প্রতিবেদন দিয়েছে।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাল্লা স্থলবন্দরের বাংলাদেশ অংশে অবকাঠামো নির্মাণ হলেও ভারতীর অংশে কোনো অবকাঠামো ও সড়ক সুবিধা না থাকায় স্থলবন্দরের কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ভারতীয় অংশে অবকাঠামো ও সড়ক সুবিধা না থাকায় বাল্লা স্থলবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রাখা যেতে পারে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.

) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি অলাভজনক ও কার্যক্রমহীন স্থলবন্দরের কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেন। উক্ত কমিটি চুনারুঘাটের বাল্লা স্থলবন্দরটি পর্যালোচনা করে বন্ধের সুপারিশ করেছে।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৫১ সালে ৪.৩৭ একর জায়গায় বাল্লা স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠিত হয়। ৭১ বছর পর ২০১২ সালে বাল্লা স্থলবন্দর আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যে আগের স্থান থেকে ২ কিলোমিটার পশ্চিমে কেদারাকোট এলাকায় ১৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় করা হয় প্রায় ৪৯ কোটি টাকা। এরপর এখন এটি বন্ধ হয়ে যাওয়া হতাশার।
তারা বলছেন, অবকাঠামো নির্মাণকাজ সমাপ্ত হলেও ভারতীয় অংশে তৎপরতা না থাকায় একটি স্বপ্নের অপমৃত্যু হলো। স্বাভাবিকভাবেই কমিটি বাল্লা স্থলবন্দরটি বন্ধের সুপারিশ করেছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নৌপরিবহন, শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনেনি। অর্থের অপচয় হয়েছে। দেশের জনগণের উন্নয়নের জন্য যেসব স্থলবন্দর উপকারী হবে, সেগুলো সচল রাখা হবে।
২০১৬ সালের ২৩ মার্চ বর্তমান বাল্লা স্থল শুল্কবন্দরটি পাশ কাটিয়ে বাল্লা থেকে ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে গাজীপুর ইউনিয়নের ১৩ একর জমি অধিগ্রহণ করে কেদারাকোর্ট এলাকায় বাল্লা স্থলবন্দর নির্মাণ করা হয়। কাজ শেষ হয় ২০২৩ সালের জুনে। পরে বাল্লা স্থলবন্দরকে দেশের ২৩তম স্থলবন্দর ঘোষণা করেন তৎকালীন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী এবং হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জের তৎকালীন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব অশোক মাধব রায়ের তদবিরে বাল্লা শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর ঘোষণা করা হয়।
আধুনিক স্থলবন্দরে যা যা দরকার, তার সবই আছে বাল্লা বন্দরে। যেমন– ওয়্যারহাউজ, ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড, ট্রাক পার্কিং ইয়ার্ড, ওপেন ইয়ার্ড, প্রশাসনিক ভবন ও ডরমিটরি। এসব স্থাপনা নির্মাণকাজে ব্যয় হয়েছে ৪৯ কোটি ৯০ লাখ  টাকা। বাল্লা স্থলবন্দর নির্মাণের আগে এ স্থানে শতাধিক পরিবার বসবাস করতেন। স্থলবন্দর নির্মাণ কাজ শুরু হলে তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ অনেকেই ক্ষতিপূরণের পুরো টাকা এখনও পাননি।
এদিকে বন্দর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সেখানে ১৬টি পরিবার স্থলবন্দরের সীমানার ভেতরে বসবাস করছেন। ভেতরে গরু-বাছুর চড়াচ্ছেন আর বন্দর পাহারা দিতে দেখা গেছে মাত্র একজন আনসার সদস্যকে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা সিন্ডিকেট করে বন্দর এলাকায় কয়েক একর জমি কিনেছিলেন। এখন সেই জমিও তাদের গলার কাঁটা। বন্দর চালু না হওয়ায় এখন তারা চড়া দামে জমিও বিক্রি করতে পারছেন না। চড়া মূল্য দেখালেও জেলা প্রশাসন থেকে অধিগ্রহণ করা জমির তেমন মূল্য তারা পাননি।
চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরের যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ। ভারতের অংশে কোনো কাজ হয়নি। ভারত যদি স্থলবন্দর নিয়ে কোনো আগ্রহ না দেখায় এবং সহযোগিতা না করে, তাহলে বাল্লা স্থলবন্দর কোনো কাজে আসবে না।
 

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: অপচয় অবক ঠ ম ন পর ব এল ক য় বন ধ র গ রহণ

এছাড়াও পড়ুন:

স্থলবন্দরের মাধ্যমে সুতা আমদানি বন্ধের সুপারিশ

উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি হচ্ছে বলে অনেক দিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা। এতে দেশীয় সুতা উৎপাকরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না বলেও জানাচ্ছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি বন্ধ বা মূল্য সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি লিখেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাকসুদা খন্দকার স্বাক্ষরিত এক চিঠি দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) দেওয়া তথ্য, অংশীজনের মতামত এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানে সাব্যস্ত হয়েছে যে, বাংলাদেশে সব ধরনের সুতা আমদানিতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ঘোষিত দাম অপেক্ষা স্থলবন্দর থেকে সুতা আমদানিতে উল্লেখযোগ্য হারে অবমূল্যায়ন করা হয়। দেশীয় সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ অবমূল্যায়িত দামের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পারছে না।

এতে আরও বলা হয়– চীন, তুরস্ক, উজবেকিস্তান ও বাংলাদেশে উৎপাদিত সুতার গড়মূল্য প্রায় সমান। অথচ স্থলবন্দর ব্যবহার করে আমদানি করা সুতার দাম অনেক কম। ভারতের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে উৎপাদিত সুতা কলকাতায় গুদামজাত করে দ্রুত শিপমেন্ট করার কারণে দেশের ভেতরে কম দামে প্রবেশ করছে। ফলে দেশীয় সুতার পরিবর্তে স্থলবন্দর দিয়ে আসা সুতা বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পখাত অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে সব স্থলবন্দরের মাধ্যমে সুতা আমদানি বন্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি বা  এসআরওতে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংশোধনী জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।

এর আগে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে দেওয়া এক চিঠিতে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি নিষিদ্ধ করার দাবি জানায় সুতা ও বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ। বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল স্বাক্ষরিত ওই চিঠিটি এনিবআরকেও দেওয়া হয়।

এনবিআরে দেওয়া চিঠিতে বিটিএমএ সভাপতি উল্লেখ করেন, বিগত সরকার নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির অনুমতি দেয়। এসব স্থলবন্দরে সুতার মান যাচাই করে শুল্কায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা কারিগরি সক্ষমতা নেই। শুধু আংশিক আমদানির অনুমোদন দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট শিল্পের পর্যবেক্ষকদের মতে, এর ব্যাপক অপব্যবহার হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় সুতাকলগুলো।

চিঠিতে আরও বলা হয়, কার্যাদেশ কম পাওয়াসহ বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত স্থানীয় মিলগুলো। বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প যখন গভীর সংকটে, তখন বাংলাদেশে ভারতের টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যা দেশের স্বার্থবিরোধী।

এতে আরও বলা হয়, স্থলবন্দর ব্যবহার করে সুতা আমদানি বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দেশের টেক্সটাইল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এতে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। ফলে বিদেশি সুতা নির্ভরশীলতা বেড়ে যাবে, আমদানি ব্যয় বাড়বে। একইসঙ্গে বাড়বে বেকারত্ব।
 

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ঈদের পর খাবার ও যাতায়াত খরচ বাঁচাতে যা করবেন
  • ঈদে আমদানি বন্ধ থাকায় যশোরে ফলের দাম বেড়েছে
  • স্থলবন্দরের মাধ্যমে সুতা আমদানি বন্ধের সুপারিশ