Risingbd:
2025-04-04@04:50:50 GMT

নিজের তৈরি বিমানে উড়লেন যুবক

Published: 4th, March 2025 GMT

নিজের তৈরি বিমানে উড়লেন যুবক

চার বছরের চেষ্টায় নিজের তৈরি বিমানে আকাশে উড়লেন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি জুলহাস মোল্লা (২৮)।

সোমবার (৩ মার্চ) পরীক্ষামূলক প্রথম ওড়েন তিনি। তবে মঙ্গলবার (৪ মার্চ) বেলা ১১টায় মানিকগঞ্জের শিবালয়ের যমুনার চরে তার বিমানের আকাশে ওড়া দেখতে কয়েকশ’ মানুষ ভিড় করেন।

বিষয়টি নজরে আসে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মনোয়ার হোসেন মোল্লার। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানটি আকাশে ওড়ানোর সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন তিনি। এ প্রচেষ্টার জন্য পরে তিনি জুলহাসকে আর্থিক সহযোগিতাও করেন।

জুলহাস মোল্লা দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া এলাকার জলিক মোল্লার ছেলে। যমুনা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে বর্তমানে শিবালয় উপজেলার ষাইটঘরের তেওতা এলাকায় বসবাস করছেন তারা।

জুলহাসের বাবা জলিল মোল্লা বলেন, “ছয় ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে জুলহাস আমার পঞ্চম সন্তান। সে ২০১৪ সালে দৌলতপুরের জিয়নপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে। তবে অর্থের অভাবে আর পড়াশোনা হয়নি তার। পরে ঢাকায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ নেয় সে।”

তার ছেলে ছোট বেলা থেকেই ‘প্লাস্টিক কাটাকাটি করে’ কিছু বানানোর চেষ্টা করতো জানিয়ে জলিল মোল্লা বলেন, “ছোটকালেও প্লাস্টিক কেটে সে অনেক কিছু বানাইছে। এ বিমান বানানোর কাজ চার বছর ধরে করছে। গতকাল সোমবার ৫০ ফুট ওপরে তার বিমান উঠছে। সে সফল হয়েছে।”

এ বিষয়ে জুলহাস মোল্লা বলেন, “বিমানটি গ্যাসোলিন ইঞ্জিনে পেট্রোল বা অকটেন দিয়ে চলে। ১ লিটারে ২৫-৩০ কিলোমিটার ওড়ানো যাবে। ‘সেভেন হর্স পাওয়ারের’ পানি তোলার মোটরের মূল ইঞ্জিনের সঙ্গে বিমানটিতে এসএস, লোহা ও অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করা হয়েছে।”

জেলা প্রশাসক মনোয়ার হোসেন বলেন, “আজ কিছু আর্থিক সহযোগিতা করে জুলহাস মোল্লাকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। পরে সরকারিভাবে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”

ঢাকা/চন্দন/এস

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর

এছাড়াও পড়ুন:

যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা তাঁর সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমি আমাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছি যে, প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন হলে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অনুযায়ী আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করব।’

আজ শুক্রবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ সাধারণ নারী-পুরুষ, শিশু ও যুবক একটি নৃশংস সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয় মাসব্যাপী গণহত্যায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিল।

বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের জনগণ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সংগত ও স্বাধীন সমাজের স্বপ্ন দেখেছিল, যেখানে প্রতিটি সাধারণ মানুষ তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, গত পনেরো বছরে আমাদের জনগণ বিশেষ করে যুবসমাজ, ক্রমাগত তাদের অধিকার ও স্বাধীনতা সংকুচিত হতে দেখেছে। তারা রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অবক্ষয় ও নাগরিক অধিকারের অবমাননা প্রত্যক্ষ করেছে।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সাধারণ জনগণ একটি নৃশংস স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। কিন্তু স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রায় ২ হাজার নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যাঁদের বেশির ভাগই তরুণ। প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে ১১৮টি শিশু।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ তার ইতিহাসে এক নবজাগরণ প্রত্যক্ষ করেছে।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, যেসব ছাত্রনেতা এই গণজাগরণে নেতৃত্ব দিয়ে শেখ হাসিনার দুর্নীতিগ্রস্ত ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করেছে, তারা তাকে অনুরোধ করেছিল এই সংকটময় মুহূর্তে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আমাদের জনগণের স্বার্থে এই দায়িত্ব গ্রহণে সম্মত হয়েছি’।

সরকারপ্রধান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে তারা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বলিষ্ঠ ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার গ্রহণ করবে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা সুশাসন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই ও অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই বিষয়গুলোই আমাদের পরিকল্পিত সংস্কারের মূল লক্ষ্য।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার ইতিমধ্যে বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও সংবিধান সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছে, যাতে জনগণের মালিকানা, জবাবদিহি ও কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়।

অধ্যাপক ইউনূস জানান, এই কমিশনগুলো ইতিমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে। যা বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করেছি। আমি নিজেই যার নেতৃত্ব দিচ্ছি এবং এতে ছয়টি কমিশনের প্রধানেরা রয়েছেন। এই কমিশনগুলো যে সুপারিশগুলো জমা দিয়েছে, তা পর্যালোচনা এবং গ্রহণ করার জন্য এ কমিশন গঠন করা হয়েছে।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা যখন বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করছি, তখন আমরা দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে অবিচলভাবে কাজ চালিয়ে যাব, তারা নারী হোক কিংবা জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু হোক।’

অনুষ্ঠানে থাই প্রধানমন্ত্রী ও সম্মেলনের চেয়ারপারসন পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রা, বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মনি পান্ডে, বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রের প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ