নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরপর দুটি টেস্ট সিরিজ হারার পর খেলোয়াড়দের জন্য একটা বিধিমালা তৈরি করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। সেই বিধামালা কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা খেলোয়াড়দের জন্য প্রযোজ্য। বিধি অনুযায়ী খেলোয়াড়েরা ম্যাচ এড়াতে পারবেন না, সফরের সময় কত কেজি ওজনের লাগেজ বহন করতে পারেবন, সেই সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সফরের সময় পরিবারের সদস্য বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও বিধিমালা জারি করা হয়েছে।

এবার আইপিএলেও এমন কিছু নিয়ম চালু করেছে বিসিসিআই। ২০২৫ সালের আইপিএলে দলগুলো এবং খেলোয়াড়দের জন্য কী কী নতুন নিয়ম বিসিসিআই চালু করেছে, একনজরে তা দেখে নেওয়া যাক—

অনুশীলনের দিনে

১.

অনুশীলন এলাকায় দলগুলো দুটি নেট পাবে এবং একটি সাইড উইকেট বরাদ্দ থাকবে। মুম্বাই ভেন্যুর ক্ষেত্রে ম্যাচের দুই দল যদি একই সময়ে অনুশীলন করে, প্রতিটি দল দুটি করে উইকেট পাবে।

২. উন্মুক্ত কোনো নেট পাবে না কোনো দল।

৩. কোনো দল যদি নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুশীলন শেষ করে ফেলে, অন্য দল পিচ ব্যবহারের অনুমতি পাবে না।

৪. ম্যাচের দিনে অনুশীলনের কোনো সুযোগ থাকবে না।

৫. ম্যাচের দিনে কোনো দল মূল মাঠে খেলোয়াড়দের ফিটনেস টেস্ট নিতে পারবে না।

আইপিএলের অনুশীলনে যেতে দলের বাস ব্যবহার করতে হবে খেলোয়াড়দের

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

শাওয়ালের ছয় রোজা 

পবিত্র রমজান মাসের পরের মাস শাওয়াল। ইসলামে এ মাসের বেশ গুরুত্ব রয়েছে। শাওয়াল মাসে রয়েছে বিশেষ ছয়টি রোজা। এ ছয়টি রোজা রাখা মহানবীর (সা.) সুন্নত। এই ছয়টি নফল রোজা রমজানের ফরজ রোজার সব ভুল-ত্রুটির ক্ষতিপূরণ। রমজানের সব রোজা রাখার পর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখার মাধ্যমে সারাবছর রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যায়। নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখার পর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখে, সে যেন সারাবছরই রোজা রাখল।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা সুরা আনআমের ১৬০ আয়াতে এরশাদ করেন, কেউ কোনো নেক আমল করলে তাকে তার ১০ গুণ সওয়াব প্রদান করা হয়। রমজানের এক মাসের ১০ গুণ হলো ১০ মাস, আর শাওয়াল মাসের ছয় দিনের ১০ গুণ হলো ৬০ দিন, অর্থাৎ দুই মাস। সুতরাং ৩৬টি রোজায় সারাবছর রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যায়। 

এ রকম শর্ত থাকলেও শরিয়তসম্মত কারণে রমজানের পূর্ণ মাস রোজা রাখেননি এমন লোকদের শাওয়াল মাসের ছয় রোজা রাখাতে মানা নেই। বরং সে ক্ষেত্রে নফল রোজার সীমাহীন নেকি তিনি পাবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।    

কেননা, রাসুলুল্লাহ (সা.) বেশি বেশি নফল রোজা নিজে তো রাখতেনই, সাহাবিদেরও উৎসাহিত করতেন। নফল রোজার মধ্যে রয়েছে সাপ্তাহিক দুই রোজা সোমবার ও বৃহস্পতিবার, মাসিক তিন রোজা আইয়ামে বিজ তথা চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজা, মহররম ও আশুরার রোজা, শাবান মাসের রোজা, শাওয়ালের ছয়টি রোজা, জিলহজ মাসের প্রথম দশকের রোজা, বিশেষ করে ৯ তারিখের রোজার বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণনা করেছেন প্রিয় নবী (সা.)।   

হজরত উবাইদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন রাসুলুল্লাহকে (সা.) জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি কি সারাবছর রোজা রাখতে পারব? তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমার ওপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে। কাজেই তুমি সারাবছর রোজা না রেখে রমজানের রোজা রাখো এবং রমজানের পরবর্তী মাস শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখো, তাহলেই তুমি সারাবছর রোজা রাখার সওয়াব পাবে (তিরমিজি)।

হাদিসে বর্ণিত– প্রিয় নবী (সা.) এরশাদ করেন, আল্লাহতায়ালা শাওয়াল মাসের ছয় দিনে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এই মাসে ছয় দিন রোজা রাখবে, আল্লাহতায়ালা তাকে প্রত্যেক সৃষ্ট জীবের সংখ্যার সমান নেকি দেবেন; সমপরিমাণ গুনাহ মুছে দেবেন এবং পরকালে তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করবেন।

হাদিসে প্রিয় নবী (সা.) শাওয়াল মাসের প্রথম দিকে, মধ্যভাগে বা শেষাংশে নির্দিষ্ট করে রোজা রাখার কথা বলেননি। আবার ছয়টি রোজা লাগাতার রাখার নির্দেশনাও হাদিসে নেই। তাই শাওয়াল মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের দিনটি বাদ দিয়ে মাসের যে কোনো ছয় দিন রোজা রাখলেই উল্লিখিত সওয়াব লাভ করা যাবে।

শাওয়াল মাসে বিরতি দিয়ে ছয়টি রোজা পূর্ণ করতে পারলে হাদিসে বর্ণিত সওয়াব পাওয়া যাবে। যাদের ভাংতি রোজা আছে; অসুস্থতা কিংবা নারীদের মাসিক তথা হায়েজ-নেফাসের কারণে রমজানের রোজা অপূর্ণ থাকে, তাদের জন্য নিয়ম ও করণীয় হলো, শাওয়াল মাসে তাদের ভাংতি রোজাগুলো আগে পূর্ণ করে নেবে। 

হাদিসমতে, শাওয়াল মাসে বিয়েশাদি সুন্নত, যেরূপ শুক্রবার এবং জামে মসজিদ ও বড় মজলিসে আক্দ অনুষ্ঠিত হওয়া সুন্নত। কারণ মা আয়েশার বিয়ে শাওয়াল মাসের শুক্রবারে মসজিদে নববিতেই হয়েছিল। (মুসলিম) 

নেক আমলের প্রতিদানের একটি রূপ হলো আবার আরও নেক আমল করার সৌভাগ্য অর্জন করা। তাই নামাজ, রোজা, তেলাওয়াত ও অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগি বাকি ১১ মাসও বজায় রাখতে হবে। আল্লাহতায়ালা আমাদের শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজাসহ সারাবছর ইখলাসের সঙ্গে অন্যান্য ইবাদত করার তৌফিক দান করুন। 

ড. মো. শাহজাহান কবীর: চেয়ারম্যান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

সম্পর্কিত নিবন্ধ