চলতি বছর এফএস নাঈম ও নাদিয়া আহমেদ দম্পতি দুটি অনুষ্ঠান নিয়ে এরইমধ্যে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে তাদের উপস্থাপনায় মাছরাঙা টেলিভিশনে ‘ভালোবাসার কিচেন’ ও এটিএন বাংলার ‘পাঁচফোড়ন’ অনুষ্ঠান দর্শক-প্রশংসিত হয়েছে। এবার রান্নাবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘জিরো ক্যাল ড্রিংক্স অ্যান্ড ডেজার্ট’–উপস্থাপনা করছেন এই জুটি।

পহেলা রমজান থেকে এটি শুরু হয়েছে। চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত। অনুষ্ঠানটি প্রতিদিন বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে মাছরাঙা টেলিভিশন ও বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটে চ্যানেল টোয়েন্টিফোর, একাত্তর টেলিভিশন, সময় টেলিভিশনে প্রচার হচ্ছে। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেছেন জেড আই ফয়সাল।

অনুষ্ঠানে অতিথি তালিকায় রয়েছেন মেহজাবীন চৌধুরী, মিম মানতাশা, তাসনুভা তিশা, সৌম্য জ্যোতি, পারসা ইভানা, সাবিলা নূর, সুমাইয়া শিমু, শাহনাজ সুমী, সারিকা সাবা, মামনুন হাসান ইমন, তাহমিনা সুলতানা মৌ, পার্থ শেখ, জান্নাতুল ফেরদৌসী ঐশী, রাবা খান, কেয়া, শাহনাজ খুশী, নাদিয়া হক অর্ষা, সামিয়া অথৈ, অর্চিতা স্পর্শিয়া, দিলশাদ নাহার কনা, সাফা কবির, শাশ্বত দত্ত, সাদিয়া আয়মান, মনোজ প্রমাণিক, আনিকা কবির শখ, বিজরী বরকতুল্লাহ, দিব্য জ্যোতি, দীপা খন্দকার, জয়া আহসান। 

অনুষ্ঠান উপস্থাপনা প্রসঙ্গে নাঈম বলেন, ‘সারাবছর অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়। অভিনয়ের বাইরে উপস্থাপনাও বেশ এনজয় করি। এ কারণে নতুন আইডিয়ার কোনো অনুষ্ঠান উপস্থাপনার প্রস্তাব পেলে সানন্দে রাজি হই। এ অনুষ্ঠানের আইডিয়াটা পছন্দ হয়েছে। নাদিয়ার সঙ্গে আমার উপস্থাপনার জুটিটি দর্শক বেশ পছন্দ করছেন। এবারের আয়োজনটি দর্শকদের ভালো লাগবে বলে আশা করছি। 

নাদিয়া বলেন, ‘অনুষ্ঠানের আইডিয়া অসাধারণ। প্রথমবার নাঈমের সঙ্গে এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান করছি। প্রতিপর্বে একজন তারকা অতিথি থাকেন। ইফতারির রেসিপি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। অনুষ্ঠানে যারা অতিথি হয়ে আসেন তারা আমার খুবই কাছের মানুষ। এ কারণে তাদের সঙ্গে প্রাণবন্ত সময় কাটে। আশা করছি, আয়োজনটি দর্শকের পছন্দ হবে।’

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ন দ য় আহম দ অন ষ ঠ ন

এছাড়াও পড়ুন:

পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় হামলায় বিএনপি জড়িত 

সিলেটে আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতাকর্মীর বাসায় হামলা ভাঙচুরে বিএনপি ও ছাত্রদল জড়িত বলে দাবি করেছেন সাবেক সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তিনি লন্ডনে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন। তবে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে এ ঘটনায় কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

হামলা ভাঙচুরের জন্য বিএনপি ও ছাত্রদলকে দায়ী করা হলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। তারা বলছেন, এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপি ও ছাত্রদলের সম্পৃক্ততা নেই। 

এদিকে হামলার ঘটনায় কেউ থানায় মামলা বা অভিযোগ করেনি বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, বুধবার ছাত্রলীগের মিছিল বের করার ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন– ছাত্রলীগ নেতা শাফায়াত খান, জহিরুল ইসলাম, সোহেল আহমদ সানী, রবিন কর, ফাহিম আহমদ, রাজন আহমদ রমজান, বশির খান লাল ও সোয়েব আহমেদ।

বুধবার সকালে নগরীর ধোপাদিঘির পূর্ব পাড় এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের পর সন্ধ্যায় সিরিজ এ হামলার ঘটনা ঘটে। মিছিলের পর ছাত্রদল নেতারা রাস্তায় নামেন। এক ঘণ্টার ব্যবধানে নগরীর পাঠানটুলা, হাউজিং এস্টেট, সুবিদবাজার, মেজর টিলা ও শামীমাবাদ এলাকায় পাঁচ নেতাকর্মীর বাসায় হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় সিলেটে তোলপাড় চলছে। পক্ষে বিপক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চলছে দোষারোপ। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর পাঠানটুলার মোহনা ব্লক-এ ৫৬/৯ নম্বর বাসায় গিয়ে দেখা যায়, ভেতর ও বাইরের কাচ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। ভেতরের সাতটি কক্ষের আসবাব ভাঙচুর করা হয়েছে। 

আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী গতকাল লন্ডন থেকে সমকালকে জানান, বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা হামলা করেছে। তারা নিজেদের পরিচয় দিয়ে হামলা করে। তিনি দাবি করেন, হামলার পেছনে নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদীর অনুসারীরা রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে গতকাল লোদী তাঁর ফেসবুকে লেখেন, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর অভিযোগ ভিত্তিহীন ও কাণ্ডজ্ঞানহীন। 

সাবেক মেয়রের বাসায় হামলার এক ঘণ্টার মাথায় নগরীর হাউজিং এস্টেট শুভেচ্ছা আবাসিক এলাকার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের অ্যাপার্টমেন্টে হামলা হয়। গতকাল সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনের সামনের নিরাপত্তাকর্মী বসার বক্স, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার সামনের জানালার বেশ কয়েকটি কাচ ভাঙা। নাদেল এখন ভারতে আছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভবনের ব্যবস্থাপক জানান, তিনি ঘটনার সময় বাইরে ছিলেন। সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে আসা ৩০ থেকে ৩৫ জন হামলা করে চলে যায়।

ওই দিন সন্ধ্যায় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খানের সুবিদবাজারের বাসায়, মেজরটিলা এলাকায় ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর, ছাত্রলীগ নেতা রুহেল আহমদ ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের ছোট ভাই শফিকুল হক শফির 

শামীমাবাদের বাসায় হামলা হয়। শফির বাসায় হামলার সময় ছাত্রদলের নামে স্লোগান দিতে শোনা যায়। 
অভিযোগের বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দিলোয়ার হোসেন দিনার বলেন, ‘আমরা মব জাস্টিসের বিপক্ষে। কে বা কারা হামলা করেছে আমাদের জানা নেই।’ 

সম্পর্কিত নিবন্ধ