‘অর্ধেক দামে বিক্রি করব ওমানের মুদ্রা’, প্রতারণার নতুন ফাঁদ
Published: 4th, March 2025 GMT
‘আমার কাছে কিছু ওমানি মুদ্রা আছে, অর্ধেক দামে বিক্রি করব’, এভাবে প্রতারণার ফাঁদ পেতে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে টাকা। বিদেশি মুদ্রা দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের মামলায় চট্টগ্রাম নগরে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন জয়নাল আবেদীন, জাহান হোসেন, এয়ার হোসেন ও মিজানুর রহমান। গতকাল সোমবার রাতে নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে দোকানের এক বিক্রয়কর্মীর কাছ থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া ২৯ হাজার টাকা ও ঘটনায় ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নগরের সানমার ওশান সিটির একটি দোকানের বিক্রয়কর্মী মেজবাউল আলম দোকানের ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা জমা করার জন্য দোকান থেকে জিইসি মোড় ব্যাংক এশিয়ার শাখায় যাচ্ছিলেন। জিইসি এলিট পেইন্টের সামনে এলে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক তাঁকে বলেন, তাঁর কাছে বিদেশি মুদ্রা আছে, ওমানের। তখন দোকানের বিক্রয়কর্মী নগরের আগ্রাবাদে গিয়ে বিক্রির জন্য বলেন। ইতিমধ্যে সেখানে জড়ো হন অটোরিকশাচালকের কয়েকজন সহযোগী। তাঁরা যাত্রী সেজে দ্রুত চালককে নিয়ে যেতে চান।
তখন চালক বলেন, অর্ধেক দামে হলেও মুদ্রাগুলো বিক্রি করে দেব। তখন যাত্রীবেশে থাকা চালকের সহযোগীরা তাতে সায় দেন। একপর্যায়ে ওমানের ১৮১টি মুদ্রা (পয়সা) ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকায় কেনেন। পরে জানতে পারেন, ওমানি এক বাইসা (পয়সা)–এর বিপরীতে বাংলাদেশি ১৫ টাকা। প্রতারণার বিষয়টি জানার পর পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন বিক্রয়কর্মী।
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
নোয়াখালীতে মাজারে হামলার মামলা তুলে নিতে বাদীর বাবাসহ চারজনকে মারধরের অভিযোগ
নোয়াখালী সদর উপজেলার কালাদরাফ ইউনিয়নে একটি মাজারে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় হওয়া মামলার বাদীর বাবা, দুই সাক্ষীসহ চারজনের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত আনুমানিক আটটার দিকে ওই ইউনিয়নের ডুবাইর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার ব্যক্তিদের দাবি, হামলাকারীরা বাদীর বাবা ও সাক্ষীদের চিকিৎসায় বাধা দেন। তাঁদের কাছ থেকে জোর করে খালি স্ট্যাম্পে সই আদায় করেন।
খবর পেয়ে সুধারাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশ সেখান থেকে কাউকে আটক করতে পারেনি। পরে আহত ব্যক্তিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুক্তার হোসেন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মাজার ভাঙচুরের মামলার বাদীর বাবাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া ও বাদীর দুই ফুফাতো ভাইকে মারধরের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। তাই হামলায় জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০ ফেব্রুয়ারি বেলা আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে কয়েক শ ব্যক্তি কালাদরাফ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সিরতালুক এলাকার শাহ সুফি আইয়ুব আলী দরবেশের মাজারে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় মাজারের সবকিছু গুঁড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। হামলাকারীরা এ মাজারে থাকা খাদেমসহ লোকজনদের এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করেন। ওই ঘটনায় স্থানীয় জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৪৪ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর থেকে মামলার আসামিরা নানাভাবে হুমকি দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ জামাল উদ্দিনের। মুঠোফোনে তিনি বলেন, গতকাল রাত আনুমানিক আটটার দিকে তাঁর বাবা চাঁন মিয়াকে (৬৫) বাড়ির পাশ থেকে তুলে পাশের ডুবাইর বাজারে বিএনপির ক্লাব নামে পরিচিত একটি ঘরে নিয়ে যান একদল লোক। সেখানে তাঁকে মারধর করে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেন। খবর পেয়ে তাঁর (জালাল উদ্দিন) ফুফাতো ভাই এমরান হোসেন ও মো. রিয়াদ এবং আরেক আত্মীয় শাহ আলম যান। তখন হামলাকারীরা তাঁদের তিনজনকেও মারধর করে আটকে রাখেন।
জামাল উদ্দিনের অভিযোগ, হামলাকারীরা এ সময় তাঁর বাবা ও ফুফাতো ভাইদের কাছ থেকে জোর করে অলিখিত স্ট্যাম্পে সই আদায় করেন। তাঁরা মামলার সাক্ষী। মারধরের পর তাঁদের চিকিৎসা নেওয়ার জন্য হাসপাতালে যেতে বাধা দেন হামলাকারীরা। বিষয়টি মুঠোফোনে সুধারাম থানার পুলিশকে জানান তিনি। পুলিশ এসে সবাইকে উদ্ধার করলেও হামলার ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করেনি।
মামলার বাদী জামাল উদ্দিনের অভিযোগ, মাজারে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি আরাফাত, আবু নোমান ও দেলোয়ারের নেতৃত্বে একদল লোক গতকাল রাতে তাঁর বাবা ও আত্মীয়দের মারধর করেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে আরাফাত হোসেন বলেন, মামলা প্রত্যাহার নিয়ে কোনো ঘটনা ঘটেনি। পাওনা টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে জামাল উদ্দিনের বাবাসহ আত্মীয়দের সঙ্গে স্থানীয় আরেকটি পক্ষের হাতাহাতি হয়েছে। ওই ঘটনায় তাঁদের ওই পক্ষের তিনজন আহত হয়েছেন।