ডিসেম্বরে নির্বাচন ধরে নিয়ে প্রস্তুতি চলছে: সিইসি
Published: 4th, March 2025 GMT
নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে যেতে পারবে না—এমন মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। ডিসেম্বরে নির্বাচন ধরে নিয়ে সেই প্রস্তুতি চলছে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আজ সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা ইসির হাতে থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন সিইসি।
নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জাতীয় নির্বাচন ও গণপরিষদ নির্বাচন একসঙ্গে করার কথা বলেছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিইসি বলেন, কমিশন এখন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজনৈতিক দল অনেক কথা বলবে, কমিশন রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে যেতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘সরকারপ্রধান যেখানে একটা টাইমফ্রেম ঘোষণা করেছেন, হয় ডিসেম্বরে নয়তো ২০২৬ সালের শুরুর দিকে। আমরা ডিসেম্বরকে ধরে নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি ও পাসপোর্ট সেবা নিয়ে জটিলতা নিরসনে স্বতন্ত্র একটি কমিশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, গতকাল একটি বৈঠকে ইসির প্রতিনিধি মতামত তুলে ধরেছেন। আরও বৈঠক হবে সেখানেই কথা বলার সুযোগ থাকবে। এনআইডি সেবা কেন ইসির কাছে রাখা দরকার, তা ইসি লিখিতভাবে জানাবে। তিনি বিশ্বাস করেন, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সরকার তাড়াহুড়া করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বলেও তিনি মনে করেন।
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
বাংলাদেশের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কা
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য রপ্তানি ক্ষেত্রে যে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন, সেটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধরনের ‘সুনামি’। গত শত বছরের মধ্যে এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লিউটিওর কাঠামোর আওতায় স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ধরনের শুল্কারোপের কথা নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেটি করা হয়েছে। তাই এটি আমাদের একেবারে অনাকাঙ্ক্ষিত এক ধাক্কা।
প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার পণ্য আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ বিবেচনায় বাণিজ্য–ঘাটতির ভিত্তিতে এই শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমরা প্রযুক্তি, ব্যাংকিং, বিমাসহ বিভিন্ন ধরনের যে সেবা আমদানি করি, সেটিকে এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। যদি সেবা আমদানিকেও বিবেচনায় নেওয়া হতো, তাহলে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ওপর এত পরিমাণে পাল্টা শুল্কারোপ হতো না। পুরো বিষয়টি এখনো আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। অনেকগুলো বিষয় এখনো আমাদের কাছে অস্পষ্ট। তাই আমরা আগে পুরো বিষয়টি বুঝতে ও সব ব্যাখ্যা জানার চেষ্টা করছি। এরপর এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে কাজ শুরু করব।
ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে ট্রাম্প পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের এই ঘটনা জানার পরপরই বৃহস্পতিবার বাণিজ্যসচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যানকে নিয়ে আমি তিন ঘণ্টা বৈঠক করেছি। সেখানে পুরো বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করেছি। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে। যেসব বিষয় আমাদের কাছে অস্পষ্ট, সেগুলোর ব্যাখ্যা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামী রোববার বিষয়টি নিয়ে সব অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছেন অর্থ উপদেষ্টা। সেখানেও করণীয় বিষয়ে আলোচনা হবে।
তবে আমি মনে করি, এটি যতটা দ্বিপক্ষীয় সমস্যা, তার চেয়ে বেশি এটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এটি একটি ‘সুনামি’র মতো। তাই বড় বড় অর্থনীতির দেশগুলো এই ঘটনায় কি ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে বা কি প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে সেদিকেও আমরা গভীরভাবে নজর রাখছি। দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় উদ্যোগের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান কতটুকু সম্ভব হবে সেটি নিয়ে সন্দিহান। যদি এ ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় কোনো উদ্যোগ নিয়ে সমস্যার সমাধার করা যায় সরকারের পক্ষ থেকে সেটি করা হবে।
আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে, বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এই শুল্ক যতটা কমিয়ে আনা যায় সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এ জন্য যদি আমদানি নীতি সংশোধন করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি বাড়িয়ে কিছুটা সুবিধা নেওয়া যায় সেই চেষ্টাও আমরা করব। যদিও ডব্লিউটিওর কাঠামোর আওতায় এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ খুবই কম।
ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের বিষয়টি জানার পরপরই এটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে আমি বিষয়টি বোঝার ও জানার চেষ্টা করছি। বিশ্বজুড়ে এর প্রতিক্রিয়াও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমার মনে হয় পুরো বিষয়টি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে দু–এক সপ্তাহ সময় লেগে যাবে। এরপরই আমরা সরকারের পক্ষ থেকে করণীয় ঠিক করতে পারব। বাণিজ্য উপদেষ্টা হিসেবে আমি এটুকু বলতে পারি, আমাদের রপ্তানি খাত যাতে ক্ষতিগ্রস্ত বা বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সরকারের দিক থেকে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সবটাই নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমরা দুই বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করি। তার বিপরীতে দেশটিতে আমাদের রপ্তানির পরিমাণ সাত থেকে আট বিলিয়ন ডলার। দুই দেশের এই বাণিজ্যে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। এখন যদি আমদানি বাড়িয়ে হলেও রপ্তানিতে শুল্কের চাপ কমানো যায়, সেই উদ্যোগও নেওয়া হবে। এ জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।
শেখ বশিরউদ্দীন, বাণিজ্য উপদেষ্টা