রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে  উদ্বোধন হলো অথেনটিক কসমেটিক্স স্টোর ‘হারল্যান স্টোর’র ফ্ল্যাগশিপ আউটলেট। উদ্বোধন অনুষ্ঠান জমকালো হয়ে ওঠে তারকাদের উপস্থিতিতে। উপস্থিত ছিলেন হারল্যান স্টোরের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ও চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা সাহা মিম ও প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। আরও উপস্থিত ছিলেন রিমার্ক-হারল্যানের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও চিত্রনায়ক মামনুন হাসান ইমন। 

এ সময় জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করে  হারল্যান স্টোরের পক্ষ থেকে ‘হারল্যান ঈদের খুশি, নতুন স্কুটিতে হবে বেশি’ ক্যাম্পেইনের ঘোষণা দেয়া হয়। যার অধীনে ক্রেতারা হারল্যান স্টোরের পণ্য ক্রয় করে  আকর্ষণীয়  স্কুটি জেতার সুযোগ ও লক্ষ লক্ষ টাকার নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার পেতে পারবেন।    

 ঈদ-উল-ফিতর-২০২৫ উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী হতে যাওয়া এই ক্যাম্পেইনে হারল্যান স্টোর দিচ্ছে আকর্ষণীয় নতুন স্কুটি জেতার সুযোগ ও লক্ষ লক্ষ টাকার নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার।    

অনুষ্ঠানে হারল্যান স্টোরের পক্ষ থেকে ‘হারল্যান ঈদের খুশি, নতুন স্কুটিতে হবে বেশি’ ক্যাম্পেইনের ঘোষণা দেন নায়ক ইমন।  এ সময় তিনি বলেন, দেশের মানুষকে আন্তর্জাতিকমানের অভিজ্ঞতা দিতে হারল্যান স্টোর সদা সচেষ্ট। হারল্যান নিয়ে এসেছে নতুন স্কুটি জেতার সুযোগ। এছাড়া লাখ লাখ টাকার নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার।

অনুষ্ঠানে  জনপ্রিয় চিত্রনায়ক মামনুন হাসান ইমন বলেন, ‘দেশের মানুষকে আন্তর্জাতিকমানের অভিজ্ঞতা দিতে হারল্যান স্টোর সদা সচেষ্ট। তারই ফলশ্রুতিতে সারা দেশে দেড় শতাধিক আউটলেটের পাশাপাশি এবার যাত্রা শুরু করলো হারল্যানের এই ফ্ল্যাগশিপ স্টোরটি। এখানে থেকেই ‘হারল্যান ঈদের খুশি, নতুন স্কুটিতে হবে বেশি’ ঘোষণা দেওয়া হলো। 

এ সময় পুরো স্টোরটি ঘুরে ঘুরে দেখেন  বিদ্যা সিনহা মিম। তিনি বলেন, হারল্যান আমাদের পরিবার। এই পরিবারের নতুন সদস্য বাড়ল। মানে নতুন আরও একটি ফ্ল্যাগশিপ স্টোরের যাত্রা হলো। আশা করি মানুষ আরও বেশি হার‌ল্যানের কাছকাছি আসবে। 

 

.

উৎস: Samakal

এছাড়াও পড়ুন:

পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের রায়ে বেকায়দায় মমতা

প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের রায়ে অশান্ত হয়ে পড়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বলছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসক দলের নেতাদের দুর্নীতির কারণেই এ পরিণাম ভোগ করছে সাধারণ মানুষ। এ নিয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে।

তবে মমতা চাকরি হারানোর দায় কার্যত চাপিয়ে দিতে চাইছেন বাম দল, কংগ্রেস ও বিজেপির ঘাড়ে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, শিক্ষাসচিবসহ রাজ্য সরকারের নিয়োজিত আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পর মমতা একহাত নেন বাম দল ও বিজেপিকে। মমতা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি এটা বিজেপি করিয়েছে, সিপিএম করিয়েছে। আমি অবাক হয়ে যাই, এখানে মামলাটা করেছেন কে? আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য (সিপিএমের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য)।’ কটাক্ষ করে বলেন, ‘তিনি তো পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম আইনজীবী। তিনি কেন এখনো নোবেল পাচ্ছেন না আমি জানি না। পাওয়া উচিত। ভাবছি, একটা সুপারিশ করব। ’

যদিও মমতার এ মন্তব্যের জবাব দিয়ে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘নোবেল দিলে দিক না? তবু তো একটা কিছু পেতে পারি? মানুষ বিপদে পড়লে ঈশ্বরের নাম নেয়, আর তৃণমূল আমার নাম নিচ্ছে।’

রাজ্যের বিজেপি সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার মমতাকে কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘যোগ্য আর অযোগ্যর ফারাক করে দিতে না পারায় একসঙ্গে সবার চাকরি চলে গেল। এ জন্য দায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা। এর আগে এই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী ওমপ্রকাশ চৌথালা জেলে গিয়েছেন। এবার আর এক মুখ্যমন্ত্রী জেলে যাবেন, তাঁর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে, তাতে একা সাবেক শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় দায়ী হতে পারেন না। মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পুরো ক্যাবিনেটের জেলে থাকা উচিত।’

মমতা এদিন কলকাতা হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি ও এই মামলার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে মমতা কটাক্ষ করে বলেন,‘হাইকোর্টে যিনি এই মামলার রায় প্রথম দিয়েছিলেন, তিনি এখন বিজেপির সংসদ সদস্য। বিচার বিভাগ ছেড়ে দিয়ে বিজেপির সংসদ সদস্য হয়েছেন। গাঙ্গুলি না ডাঙ্গুলি! দুঃখিত। আমি জানি না তাঁর আসল নামটা। পরে জেনে নেব।’

মমতার এমন মন্তব্যের উত্তরে সংসদ সদস্য অভিজিৎ গাঙ্গুলি বলেছেন, ‘পাগলের প্রলাপ!’ তাই গতকালই রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা, বিজেপির বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারের। প্রসঙ্গত, ত্রিপুরায় বাম আমলে নিয়োগ দুর্নীতিতে চাকরি হারিয়েছিলেন ১০ হাজার ৩২৩ জন প্রার্থী। ঠিক তার পরের বছর ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছিল বাম ফ্রন্ট সরকারের। বিদায় নিতে হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের।

পশ্চিমবঙ্গে ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) সম্পূর্ণ নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ওঠে, যাঁরা চাকরির পরীক্ষায় শূন্য পেয়েছেন, তাঁদের উত্তরপত্র বা ওএমআর শিটে ৫০–৫২ নম্বর দিয়ে বেআইনিভাবে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে বঞ্চিত যোগ্য প্রার্থীরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে কলকাতা হাইকোর্ট  সিবিআইকে নির্দেশ দিলে সিবিআই তদন্ত করে প্রথম পর্যায়ে দুর্নীতির মাধ্যমে পাঁচ হাজারের বেশি চাকরি প্রাপকদের একটি তালিকা পেশ করে। তাতে নাম ওঠে অযোগ্য ৫ হাজার ২৪৩ জনের নাম। কিন্তু রাজ্য সরকার পৃথকভাবে অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা ভাগ না করে একসঙ্গে ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের নিয়োগ দেয়। আর যোগ্য প্রার্থীরা এ নিয়ে মামলায় লড়েন সেই ২০১৬ সালের নিয়োগের পর থেকে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত হওয়া কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি শাব্বর রশিদির নেতৃত্বে গড়া  বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ চাকরিতে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা ১১২টি মামলার একসঙ্গে শুনানি শেষে এক রায়ে ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের চাকরি বাতিল করে দিয়ে এই দুনীতির তদন্তের জন্য সিবিআইকে নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশ পাওয়ার পর সিবিআই তদন্ত শুরু করে অযোগ্য ৫ হাজার ২৪৩ জন প্রার্থীর তালিকা চায় রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের কাছে। কিন্তু পায়নি।

গতকাল সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পর চাকরিহারারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। কলকাতার বিধাননগরের এসএসসি দপ্তরের সামনে গতকাল তাঁরা প্রতিবাদ করেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের রায়ে বেকায়দায় মমতা
  • যমজ একভাই চোখের সামনে, অন্য ভাই কবরে