সাদিক অ্যাগ্রোর মালিক ইমরান কারাগারে
Published: 4th, March 2025 GMT
১৩৩ কোটি টাকা পাচারের মামলায় ঢাকার মোহাম্মদপুরের সাদিক অ্যাগ্রোর মালিক মো. ইমরান হোসেনের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন ঢাকার এক আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. সায়েদুর রহমান আজ মঙ্গলবার তাকে কারাগারে হাজির করলে ঢাকা মহানগর হাকিম এম এ আজহারুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, ইমরান তার সহযোগী তৌহিদুল আলম জেনিথের সহায়তায় ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড থেকে গরু পাচার করে নিয়ে আসতেন।
এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে ইমরানকে ভবিষ্যতে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হবে, তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী জানান যে, তার মক্কেলকে হয়রানির জন্য মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাছাড়া, ইমরান ও তার পরিবারের সদস্যরা ১৯৫২ সাল থেকে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তাই তার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করা উচিত।
উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ইমরানের আত্মপক্ষ সমর্থনের আবেদন নাকচ করে তাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গতকাল ঢাকা থেকে ইমরানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
.উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
দেশে বছরে দেড় লাখের বেশি শিশুর মৃত্যু
বছরে দেড় লাখের বেশি শিশুর মৃত্যুতে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ গুরুতর চ্যালেঞ্জে পড়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ এবং ডব্লিউএইচও। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ইউনাইটেড নেশন্স ইন্টার-এজেন্সি গ্রুপ ফর চাইল্ড মরটালিটি এস্টিমেশনের ২০২৪ সালের দুটি প্রতিবেদনের একটিতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ১ লাখের বেশি শিশু তাদের পঞ্চম জন্মদিন পূর্ণ করার আগে মারা গেছে। তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের মৃত্যু হয়েছে আবার বয়স ২৮ দিনের মধ্যে। দ্বিতীয় প্রতিবেদনে ওই বছর ৬৩ হাজারের বেশি মৃত শিশু প্রসবের তথ্য রয়েছে। প্রতিবেদন দুটির হিসাবে প্রতি ৪১ শিশু জন্মের ক্ষেত্রে একটি মৃত সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ।
ইউনিসেফ এবং ডব্লিউএইচও বলেছে, ১৯৯০ সাল থেকে মা ও শিশু স্বাস্থ্যে বাংলাদেশের অর্জন প্রশংসনীয়। তবে দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত যত্নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মা ও শিশুর প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমাতে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার তাগিদ দিয়েছে তারা। এসডিজির লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশকে প্রতিবছর বাড়তি ২৮ হাজার নবজাতককে বাঁচাতে হবে। এ জন্য প্রসূতি ও নবজাতকের উন্নত যত্ন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দক্ষ সেবাদাতার উপস্থিতিতে প্রসব, গর্ভধারণ, প্রসবকালীন ও প্রসবোত্তর সেবার মান উন্নত করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থা দুটি।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের ওআইসি রিপ্রেজেন্টেটিভস ফারুক আদ্রিয়ান দুমুন বলেন, ‘অপরিণত জন্ম, সেপসিস ও নিউমোনিয়া সংক্রমণের মতো প্রসব জটিলতায় বাংলাদেশে প্রতিবছর এক লাখের বেশি নবজাতক মারা যায়। অথচ এসব জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগে অগ্রাধিকার, সব পর্যায়ে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী বিশেষ করে ধাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও সঠিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা গেলে লাখ লাখ শিশু ও মাকে বাঁচানো সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে ইউনিসেফ প্রসূতি ও শিশুর মৃত্যুরোধে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং অংশীজনের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
বাংলাদেশে ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশিদ মোহামেদ বলেন, বিগত দশকগুলোতে প্রসূতি ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। শিশু মৃত্যু ও মৃত শিশুর জন্ম প্রতিরোধে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।