গুগলে চাকরির সাক্ষাৎকারে যে প্রশ্নের উত্তর দিতে ভুল করেন অনেকে
Published: 4th, March 2025 GMT
চাকরি পাওয়ার জন্য সাক্ষাৎকার পর্বটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সেটা যদি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান গুগলে চাকরির জন্য হয়ে থাকে, তবে তো কথাই নেই। কারণ, প্রার্থীদের সৃজনশীলতা ও কল্পনাশক্তি যাচাই করার জন্য মূল প্রশ্নের পাশাপাশি অদ্ভুত ও উদ্ভট প্রশ্ন করে থাকে গুগল। এসব প্রশ্নের উত্তর কেউ দিতে পারেন, কেউ পারেন না। তবে একটি প্রশ্নের উত্তর বেশির ভাগ প্রার্থীই ভুল করেন। প্রশ্নটি করার আগে প্রার্থীদের কল্পনা করতে বলা হয়, তাদের শরীরের আকার একটি কয়েনের মতো হয়ে গেছে। তারপর তাদের একটি লম্বা ব্লেন্ডারের ভেতর ফেলে দেওয়া হয়েছে। তখন জিজ্ঞাসা করা হয়, ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে ব্লেন্ডার চালু হওয়ার আগে আপনি পালানোর জন্য কী করবেন?
প্রশ্নটির উত্তরে অনেকেই বলেন, ব্লেন্ডার থেকে এক লাফেই বের হয়ে আসা যাবে। প্রায় সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচিত এই উত্তর আসলে ঠিক নয়। প্রশ্নটি সহজ বলে মনে হলেও সঠিক উত্তর দেওয়ার জন্য এক বৈজ্ঞানিক রহস্য আপনাকে জানতেই হবে। একজন মানুষ যদি একটি কয়েনের আকার ধারণ করে তাহলে ব্লেন্ডারের দেয়াল হবে মানুষের উচ্চতার প্রায় ১৫ গুণ, যা প্রায় আটতলা একটি ভবনের সমান লাফানোর সমতুল্য।
এই প্রশ্নের উত্তর জানতে বায়োমেকানিকসের জনক হিসেবে পরিচিত ১৭ শতকের বিজ্ঞানী আলফোনসো বোরেলির গবেষণা তথ্য বেশ কার্যকর। বোরেলি সেই সময় লক্ষ্য করেছিলেন, বিভিন্ন আকারের প্রাণী একই উচ্চতায় লাফ দেয়। ভর ও উচ্চতা যা–ই হোক না কেন কুকুর, বিড়াল, ঘোড়া কিংবা কাঠবিড়ালি সবাই প্রায় ১.
সাধারণ তত্ত্বে যদি আপনাকে একটি কয়েনের আকারে সংকুচিত করা হয় তবে আপনার শক্তি ও ওজনের অনুপাত অনেক বেশি হবে। তখন আপনি–আপনার উচ্চতার বহুগুণ দ্রুত লাফ দিতে পারবেন। তখন যেহেতু আপনার পা খুব ছোট হবে, তাই আপনার পা মাটি ছেড়ে যাওয়ার আগে আপনি খুব অল্প সময়ের জন্য মাটিতে ধাক্কা দেবেন। এতে অবশ্য আপনি ব্লেন্ডার থেকে একবারে বের হতে পারবেন না। ব্লেন্ডার থেকে বের হওয়ার জন্য আপনাকে উচ্চশক্তি ব্যবহার করে ব্লেন্ডারের ব্লেডকে স্প্রিংয়ের মতো ব্যবহার করে লাফ দিতে হবে। ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে একবারে ব্লেডের ওপরে চাপ প্রয়োগ করলে আপনি বের হয়ে আসতে পারবেন।
আরও পড়ুনলিংকডইনে পছন্দের চাকরির সন্ধান পেতে যে ৫টি কাজ করতে হবে১১ অক্টোবর ২০২৪এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের লিংকন ইউনিভার্সিটির ইনসেক্ট মোশন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক গ্রেগরি সাটন বলেন, আপনি শুধু পেশিকে এমন কিছু হিসেবে কল্পনা করেন যা শক্তি উৎপন্ন করে। তখন পেশি যান্ত্রিক শক্তি তৈরি করবে, যা বিভিন্ন প্রাণীকে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতা পর্যন্ত লাফাতে সাহায্য করে। যদি সেই প্রাণীটি আকারের অর্ধেক হয়, তার অর্ধেক শক্তি থাকবে। তখন তা অর্ধেক ভর দিয়ে একই উচ্চতায় লাফ দিতে পারবে। একটি ঘাসফড়িং প্রায় এক মিটার উঁচুতে লাফ দিতে পারে। ফড়িং দুটি হাত ধরে - দ্বিগুণ ভর ও দ্বিগুণ পেশি নিয়ে এক মিটার উঁচুতে লাফ দিতে পারে।
সূত্র: ডেইলি মেইল
আরও পড়ুনলিংকডইনে জীবনবৃত্তান্ত যোগ করবেন যেভাবে১৩ ডিসেম্বর ২০২২উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: প রব ন র জন য আপন র
এছাড়াও পড়ুন:
আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে প্রেমা-আরাধ্যা
এক দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেছে কলেজপড়ুয়া তাসনিয়া ইসলাম প্রেমার। চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সে হারিয়েছে মা-বাবা ও দুই বোনকে। ফুফাতো বোনও চলে গেছে না ফেরার দেশে। পরিবারের আপন বলতে আর কেউ নেই তার। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে সেও মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। প্রাণে বাঁচলেও দুর্ঘটনায় তার মস্তিষ্ক গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার এক দিন পার হলেও এখনও জ্ঞান ফেরেনি প্রেমার।
তাঁর মতো একই অবস্থা ছয় বছর বয়সী শিশু আরাধ্যা বিশ্বাসের। এই অল্প বয়সে সেও হারিয়েছে মা-বাবাকে। দীর্ঘ সময় ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকার পরও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। যে কারণে বৃহস্পতিবার আরাধ্যাকে ওয়ার্ড থেকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তাকে যখন আইসিইউতে নেওয়া হচ্ছিল, তখন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে তার বাবা দিলীপ বিশ্বাস ও মা সাধনা মণ্ডলের মরদেহ ছিল শ্মশানের পথে। মা-বাবা যে বেঁচে নেই, তা এখনও জানে না এই অবুঝ শিশুটি।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়ায় বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে গত বুধবার দুই দম্পতিসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ঢাকার মিরপুরের রফিকুল ইসলাম শামীম ও লুৎফুন নাহার সুমি দম্পতি এবং তাদের দুই মেয়ে আনীসা আক্তার (১৪) ও লিয়ানা (৮) এবং শামীমের ভাগনি তানিফা ইয়াসমিনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হয়ে তাদের বড় মেয়ে প্রেমা (১৮) এখন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু আরাধ্যা ও তার মামাতো ভাই দুর্জয় কুমার বিশ্বাস (১৮)। আহত তিনজনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
বৃহস্পতিবার আহতদের দেখতে এসে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম।
জানা যায়, পেশাগত কাজের সুবাদে শামীম ও দিলীপের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক। তাদের কারণে দুই পরিবারের মধ্যেও সম্পর্ক অনেক পুরোনো। তারা গাজীপুরে পোশাক কারখানার কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঈদের ছুটিতে এ দুই পরিবার তাদের সন্তান ও আত্মীয়কে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথেই ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে।
চমেক আইসিইউর সামনে যেতেই চোখে পড়ে প্রেমার ছোট মামি জেসমিন রহমানের চোখেমুখে বিষণ্নতা। কিছুক্ষণ পায়চারি করছেন আবার এক কোণে গিয়ে চোখের পানি মুচছেন। তিনি বলেন, একদিন পার হয়ে গেলেও এখনও মেয়েটির জ্ঞান ফেরেনি। মা-বাবাসহ পরিবারের সবাই মারা গেছেন। আল্লাহ যেন তাকে বাঁচিয়ে রাখে। তার জন্য সবার দোয়া চাই।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঝিনাইদহের শৈলকুপার বোয়ালিয়া থেকে চমেক হাসপাতালে ছুটে এসেছেন আরাধ্যার আত্মীয় অসিত কুমার বাড়ৈ। শিশু আইসিইউর সামনে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।
তিনি বলেন, শিশুটি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। শেষবারের মতো মা-বাবার চেহারাটাও দেখার সুযোগ পেল না। লম্বা সময় পর চোখ খুলে তাকালেও সে এখনও কথা বলতে পারছে না। দুর্ঘটনায় তার দুই পায়ের হাঁড় ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাথা, মুখ, হাতসহ বিভিন্ন অঙ্গ। তার কষ্ট আর সইতে পারছি না।
দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনায় শিশু আরাধ্যার পা ভেঙে গেছে। পায়ের গুরুতর আঘাতের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে মস্তিষ্কে। সেটিই এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ। প্রেমারও জ্ঞান ফেরেনি। তার অবস্থাও খুব খারাপ। এখান থেকে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়ার অবস্থাও নেই। আহতদের সুস্থ করে তুলতে সব ধরনের চেষ্টাই করে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছয় মানববন্ধন: লোহাগাড়া প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে যথাযথ পদক্ষেপ ও ছয় লাইনে উন্নতি করার দাবিতে গতকাল পৃথক ছয়টি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্ধশতাধিক সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করে। উপজেলা সদর ও মহাসড়কসংলগ্ন পদুয়া, আমিরাবাদ, আধুনগর ও চুনতি ইউনিয়নে সকাল ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যানারে এ মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে সাবেক এমপি আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি দুর্ঘটনাপ্রবণ অঞ্চল। দুর্ঘটনা রোধে লবণবাহী ট্রাক বন্ধ করে দিয়ে লবণ রেলে এবং পানি পথে নিয়ে যেতে হবে। অতি দ্রুত এ মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করতে হবে।
অন্য এক মানববন্ধনে লোহাগাড়া বিএনপির সভাপতি নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, চুনতির জাঙ্গালিয়া মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করতে আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই।