পবিত্র মাহে রমজান মাস উপলক্ষে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল নিয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ। স্বল্প আয়ের মানুষের সহায়তায় সুলভ মূল্যে ৭০ টাকা লিটার দুধ, ২৭০ টাকা ক্যারেট ডিম বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে ভেটেরিনারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

প্রথম রমজান থেকে রবিবার (২ মার্চ) সকাল থেকে কার্যক্রম শুরু হলেও সোমবার (৩ মার্চ) উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে এ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তনিমা আফ্রাদ।

এ সময় সুলভ মূল্যে মাংস কিনতে আসা অনেক ক্রেতা খালি হাতে ফিরে যান। তাদের অভিযোগ যে জিনিস নেই তার কথা ব্যানারে লেখা হয়েছে কেন? স্বল্প আয়ের মানুষেরা আরো দাবি করেন যে পরিমাণ দুধ ও ডিম আনা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

এ সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.

মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমরা মাংস বিক্রি করবো। কসাই পাচ্ছিনা। তাছাড়া দামও ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছেনা।”

তিনি বলেন, “আমরা সামনের দিন থেকে মুরগীর মাংসের ব্যবস্থা করবো। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টা দুধ ও ডিম বিক্রি করা হবে। একজন মানুষ এক লিটার দুধ ও এক ক্যারেট ডিম কিনতে পারবে।”

ইউএনও তনিমা আফ্রাদ বলেন, “বাজারে দুধ ও ডিমের দাম একটু বেশি থাকায় অনেকেই কিনতে পারছেন না। তাদের কথা চিন্তা করেই উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে সূলভ মূল্যে বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে। মানুষের সাড়া পেলে পুরো রমজান মাস জুড়েই এ কর্মসূচি চলবে। এখান থেকে সরবরাহকৃত জিনিস শতভাগ নিরাপদ। আমাদের আশা, এ কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষ কিছুটা হলেও উপকৃত হবে।”

তিনি আরো বলেন, “আমি দেখলাম ব্যানারে মাংস লেখা আছে কিন্তু মাংস বিক্রি করছে না। তারা কিছু সমস্যার কথা বললো সেটা শুনেছি। পাশাপাশি গরুর মাংসের ব্যবস্থা না করতে পারলেও যেন ব্রয়লার মুরগির ব্যবস্থা করেন সেই নির্দেশনা দিয়েছি।” 

ঢাকা/রফিক/টিপু 

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর উপজ ল রমজ ন

এছাড়াও পড়ুন:

ঈদের বন্ধের পর টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু রোববার

ঈদ উপলক্ষে ৯ দিন বন্ধ থাকার পর ৬ এপ্রিল আবার শুরু হচ্ছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ও খাদ্য অধিদপ্তরের সাশ্রয়ী দামে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম।

নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী দামে তেল, ডাল ও চিনি বিক্রি করে সরকারি সংস্থা টিসিবি। সংস্থাটি স্মার্ট পরিবার কার্ডের মাধ্যমে পরিবেশক বা সরবরাহকারীর দোকানের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করে। আবার স্মার্ট কার্ড ছাড়া সর্বসাধারণের জন্য ট্রাকে করেও তেল, ডাল, চিনি বিক্রি করে সংস্থাটি।

অন্যদিকে খোলাবাজারে বিক্রি বা ওএমএস কর্মসূচির আওতায় ট্রাকে করে সাশ্রয়ী দামে চাল ও আটা বিক্রি করে খাদ্য অধিদপ্তর। ট্রাকের পাশাপাশি নির্ধারিত পরিবেশকের দোকানের মাধ্যমেও চাল-আটা বিক্রি করে সংস্থাটি।

সরকারি এই দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, ঈদের আগে সর্বশেষ গত ২৭ মার্চ পর্যন্ত সাশ্রয়ী দামে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চালিয়েছিলেন তাঁরা। সরকারি ছুটি শেষে ৬ এপ্রিল আবার এ কার্যক্রম শুরু হবে।

বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৬০ লাখ পরিবারের মধ্যে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে পণ্য বিক্রি করে টিসিবি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মোট এক কোটি পরিবার কার্ডের বিপরীতে এ পণ্য বিক্রি করা হতো। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে এসব কার্ডের মধ্যে একটি বড় অংশ অযোগ্য বা ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করে। এ কারণে সরকার প্রায় ৪৩ লাখ পরিবার কার্ড বাতিল করে। পাশাপাশি নতুন করে উপকারভোগী চিহ্নিত করে নতুন স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রমও চলছে।

অন্যদিকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ট্রাকে করেও পণ্য বিক্রি করে টিসিবি। প্রতিদিন রাজধানীর ৫০টি স্থানে, চট্টগ্রাম নগরীর ২০টি স্থানে এবং বিভাগীয় শহরের পাশাপাশি কিছু শ্রমঘন জেলায় ট্রাকে পণ্য বিক্রির এ কার্যক্রম পরিচালনা করে সংস্থাটি। টিসিবির প্রতিটি ট্রাকে ২০০ জনের পণ্য থাকে। যদিও টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ ভিড় করেন প্রতিদিন।

সংস্থাটি জানায়, টিসিবির ট্রাক থেকে যেকোনো ভোক্তা লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনতে পারেন। টিসিবির ট্রাক থেকে একজন ভোক্তা সর্বোচ্চ দুই লিটার ভোজ্যতেল, দুই কেজি মসুর ডাল ও এক কেজি চিনি কিনতে পারেন। এর মধ্যে প্রতি লিটার ভোজ্যতেলের দাম ১০০ টাকা, প্রতি কেজি মসুর ডাল ৬০ টাকা ও চিনি ৭০ টাকায় বিক্রি হয়। আর রমজান উপলক্ষে গত মাসে ছোলা ও খেজুরও বিক্রি করা হয়েছিল টিসিবির ট্রাকে।

টিসিবির সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ৬ এপ্রিল থেকে স্মার্ট কার্ডের বিপরীতে টিসিবির বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হবে। তবে ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি চালু হবে আরও কয়েক দিন পর। কারণ, এ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে পরে জানানো হবে।

এদিকে খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ওএমএস ট্রাকের মাধ্যমে চাল ও আটা বিক্রি করা হয়। খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মহানগরে ৭০টি স্থানে ট্রাক সেলের মাধ্যমে এবং প্রায় দেড় শ পরিবেশকের দোকানের মাধ্যমে চাল-আটা বিক্রি করা হয়। ট্রাক ও পরিবেশকের দোকান থেকে একজন ভোক্তা পাঁচ কেজি চাল ও দুই কেজি আটা কেনার সুযোগ পান।

রাজধানীতে ওএমএসের পণ্য বিক্রির কাজটি করে থাকে খাদ্য অধিদপ্তরের সংস্থা ঢাকা রেশনিং। ঢাকা রেশনিংয়ের সহকারী নিয়ন্ত্রক শাব্বীর আহমেদ মুরাদ বলেন, ‘৬ এপ্রিল আমাদের সব ধরনের পণ্য বিক্রি কার্যক্রম আবার শুরু হবে।’

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ফ্যান্টাসি কিংডমে নতুন ৩ রাইড, বিনোদনে বাড়তি সংযোজন
  • শেরপুরের ‘গজনী অবকাশ কেন্দ্রে’ পর্যটকের ভিড় বেড়েছে
  • সম্প্রীতির উৎসবে সংঘাত কেন?
  • ঈদের বন্ধের পর টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু রোববার
  • ঈদের পর বাজারে হাঁকডাক নেই, কমেছে শাক–সবজির দাম
  • ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ জামালের মরদেহ উদ্ধার
  • হাতিরঝিলে নৌ ভ্রমণ বাড়িয়েছে ঈদের আনন্দ 
  • প্রধান উপদেষ্টাকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মোদির চিঠি
  • ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ড. ইউনূসকে চিঠি মোদির
  • অধ্যাপক ইউনূসকে ঈদের শুভেচ্ছা নরেন্দ্র মোদির