প্রকৃতিপ্রেমিদের চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে মানিকদাহের লাল শিমুল
Published: 4th, March 2025 GMT
ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম মাস ফাগুনে আগুন রাঙা নানা ফুলের সমারোহে নান্দনিক হয়ে ওঠে প্রকৃতি। লাল শিমুল সেই আগুন রাঙা ফুলেদের অন্যতম একটি। এ সময়ে গাছের ডালে ডালে ফুটে লাল শিমুল ফুল ঠিক যেন চোখ ধাঁধিয়ে দেয়।
গোপালগঞ্জ শহরতলীর চর মানিকদাহ গ্রামে এখন সে আগুন ছড়াচ্ছে বেশ কিছু শিমুল ফুলের গাছ। প্রতিটি ডালে ডালে উঁকি মারছে রক্ত লাল শিমুল। ফুলে ফুলে আনন্দে মাতোয়ারা মৌমাছি থেকে শুরু করে দেশীয় নানা পাখপাখালি। সহজেই যে কোনো মানুষের দৃষ্টি কাড়ছে এই রক্তিম শিমুল ফুল। শুধু চর মানিকদাহ নয় শিমুল ফুলের দেখা মিলছে এ জেলার আরও অনেক গ্রামে।
শিমুল ফুলের রঙিন ক্যানভাসে আকুল হচ্ছেন প্রকৃতিপ্রেমিরা
বসন্তের এ রঙিন ক্যানভাসে আকুল হচ্ছেন প্রকৃতিপ্রেমিরা। নয়নাভিরাম শিমুল ফুলের সৌন্দর্য্য উপভোগে ছুটছেন তারা । শিমুল ফুলের মিষ্টি সুবাস নেওয়ার পাশাপশি অনেকেই ক্যামেরা বন্দি হচ্ছেন ফুলসমেত। শহরের মাঝেই এমন শিমুল ফুল দেখতে পেয়ে খুশি দর্শনার্থীরা।
তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও উন্নয়নের ধারায় প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এ গাছটি হারিয়ে যেতে বসেছে। গ্রামবাংলার পথে প্রান্তরে এখন আর এ ফুলের গাছটি তেমন একটা চোখে পড়ে না। তাই রয়ে যাওয়া গাছগুলোর যত্নের পাশাপশি সকলকে শিমুল ফুলের গাছ লাগানোর আহবান প্রকৃতিপ্রেমিদের।
ডালে ডালে ফুটে লাল শিমুল ফুল
মানিকদাহে শিমুলের সৌন্দর্য্য উপভোগ করছিলেন টিপু বিশ্বাস নামের একজন প্রকৃতিপ্রেমি। তিনি বলেন, “গোপালগঞ্জে শিমুল ফুল তেমন একটা দেখা যায়না। ঋতুরাজ বসন্তে শিমুলের এমন সমারোহ আমাদের জন্য অন্যরকম এক পাওয়া। কারণ, ফুল দেখলে কার না ভালো লাগে, মনটা ভালো হয়ে যায়। তাই আমরা তিন বন্ধু মিলে শিমুল ফুলের সৌন্দর্য্য দেখতে এসেছি। খুব ভালো লাগছে।”
আরেক প্রকৃতিপ্রেমি সোহানা ইসলাম বলেন, “আমরা বান্ধবীরা মিলে শিমুল ফুল দেখতে ও ঘুরতে এসেছি। কবিতার ভাষায় বলতে না পারলেও নিজের ভাষায় বলছি, শিমুলের সৌন্দর্য্যের তুলনা শুধু শিমুল ফুল দিয়েই চলে। দেখে মনটা শান্ত হয়ে গেছে। শিমুল ফুল শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, এটি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছির দল, যা পরাগায়নে সহায়তা করে।”
অনেকই স্মৃতি হিসাবে ক্যামেরায় ছবি তুলে রাখেন
এখানে বেড়াতে আসা ইফশিয়া রাত্রি বলেন, “মানিকদাহ গ্রামে শিমুল ফুলের গাছ রয়েছে শুনে ঘুরতে এসেছি। শিমুলের প্রতিটি শাখা ফুলে ফুলে ভরা। এমন দৃশ্য দেখে মনটা ভালো হয়ে গেলো। সবার কাছে অনুরোধ থাকবে সৌন্দর্য্য ধরে রাখতে সবাই যেন একটি করে হলেও শিমুল ফুলের গাছ লাগায়।”
স্থানীয় বাসিন্দা পবিত্র হীরা বলেন, “মানিকদাহ গ্রামের একটি এলাকার নাম সাধুর মোড়। এই মোড়েই একটি শিমুল গাছের নিচে আমার দোকান। প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সের প্রকৃতিপ্রেমিরা এই শিমুল ফুল দেখতে আসেন। অনেকই স্মৃতি হিসাবে ক্যামেরায় ছবি তুলে রাখেন। এতে আমার দোকানে বেচাকেনাও ভালো হয়।”
ঢাকা/টিপু
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর স ন দর য য
এছাড়াও পড়ুন:
আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে প্রেমা-আরাধ্যা
এক দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেছে কলেজপড়ুয়া তাসনিয়া ইসলাম প্রেমার। চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সে হারিয়েছে মা-বাবা ও দুই বোনকে। ফুফাতো বোনও চলে গেছে না ফেরার দেশে। পরিবারের আপন বলতে আর কেউ নেই তার। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে সেও মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। প্রাণে বাঁচলেও দুর্ঘটনায় তার মস্তিষ্ক গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার এক দিন পার হলেও এখনও জ্ঞান ফেরেনি প্রেমার।
তাঁর মতো একই অবস্থা ছয় বছর বয়সী শিশু আরাধ্যা বিশ্বাসের। এই অল্প বয়সে সেও হারিয়েছে মা-বাবাকে। দীর্ঘ সময় ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকার পরও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। যে কারণে বৃহস্পতিবার আরাধ্যাকে ওয়ার্ড থেকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তাকে যখন আইসিইউতে নেওয়া হচ্ছিল, তখন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে তার বাবা দিলীপ বিশ্বাস ও মা সাধনা মণ্ডলের মরদেহ ছিল শ্মশানের পথে। মা-বাবা যে বেঁচে নেই, তা এখনও জানে না এই অবুঝ শিশুটি।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়ায় বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে গত বুধবার দুই দম্পতিসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ঢাকার মিরপুরের রফিকুল ইসলাম শামীম ও লুৎফুন নাহার সুমি দম্পতি এবং তাদের দুই মেয়ে আনীসা আক্তার (১৪) ও লিয়ানা (৮) এবং শামীমের ভাগনি তানিফা ইয়াসমিনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হয়ে তাদের বড় মেয়ে প্রেমা (১৮) এখন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু আরাধ্যা ও তার মামাতো ভাই দুর্জয় কুমার বিশ্বাস (১৮)। আহত তিনজনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
বৃহস্পতিবার আহতদের দেখতে এসে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম।
জানা যায়, পেশাগত কাজের সুবাদে শামীম ও দিলীপের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক। তাদের কারণে দুই পরিবারের মধ্যেও সম্পর্ক অনেক পুরোনো। তারা গাজীপুরে পোশাক কারখানার কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঈদের ছুটিতে এ দুই পরিবার তাদের সন্তান ও আত্মীয়কে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথেই ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে।
চমেক আইসিইউর সামনে যেতেই চোখে পড়ে প্রেমার ছোট মামি জেসমিন রহমানের চোখেমুখে বিষণ্নতা। কিছুক্ষণ পায়চারি করছেন আবার এক কোণে গিয়ে চোখের পানি মুচছেন। তিনি বলেন, একদিন পার হয়ে গেলেও এখনও মেয়েটির জ্ঞান ফেরেনি। মা-বাবাসহ পরিবারের সবাই মারা গেছেন। আল্লাহ যেন তাকে বাঁচিয়ে রাখে। তার জন্য সবার দোয়া চাই।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঝিনাইদহের শৈলকুপার বোয়ালিয়া থেকে চমেক হাসপাতালে ছুটে এসেছেন আরাধ্যার আত্মীয় অসিত কুমার বাড়ৈ। শিশু আইসিইউর সামনে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।
তিনি বলেন, শিশুটি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। শেষবারের মতো মা-বাবার চেহারাটাও দেখার সুযোগ পেল না। লম্বা সময় পর চোখ খুলে তাকালেও সে এখনও কথা বলতে পারছে না। দুর্ঘটনায় তার দুই পায়ের হাঁড় ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাথা, মুখ, হাতসহ বিভিন্ন অঙ্গ। তার কষ্ট আর সইতে পারছি না।
দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনায় শিশু আরাধ্যার পা ভেঙে গেছে। পায়ের গুরুতর আঘাতের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে মস্তিষ্কে। সেটিই এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ। প্রেমারও জ্ঞান ফেরেনি। তার অবস্থাও খুব খারাপ। এখান থেকে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়ার অবস্থাও নেই। আহতদের সুস্থ করে তুলতে সব ধরনের চেষ্টাই করে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছয় মানববন্ধন: লোহাগাড়া প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে যথাযথ পদক্ষেপ ও ছয় লাইনে উন্নতি করার দাবিতে গতকাল পৃথক ছয়টি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্ধশতাধিক সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করে। উপজেলা সদর ও মহাসড়কসংলগ্ন পদুয়া, আমিরাবাদ, আধুনগর ও চুনতি ইউনিয়নে সকাল ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যানারে এ মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে সাবেক এমপি আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি দুর্ঘটনাপ্রবণ অঞ্চল। দুর্ঘটনা রোধে লবণবাহী ট্রাক বন্ধ করে দিয়ে লবণ রেলে এবং পানি পথে নিয়ে যেতে হবে। অতি দ্রুত এ মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করতে হবে।
অন্য এক মানববন্ধনে লোহাগাড়া বিএনপির সভাপতি নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, চুনতির জাঙ্গালিয়া মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করতে আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই।