হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জে গত বন্যায় ভেঙে যাওয়া কৈয়ারঢালা স্লুইসগেটের সংযোগ সড়ক ৮ মাসেও মেরামত হয়নি। ফলে বিঘার পর বিঘা জমির বোরো ধান নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। 

কৃষকদের দাবি, স্লুইসগেটের ভাঙা অংশটি দ্রুত মেরামত করা না হলে, চৈত্রের মাঝামাঝি সময়ে কুশিয়ারা নদীতে পানি আসলে ডুবে যেতে পারে তিন উপজেলার বোরো ধান। উপজেলাগুলো হলো- আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং ও নবীগঞ্জ।

গত বছরের ৪ জুন আজমিরীগঞ্জ-বদলপুর সড়কের কুশিয়ারা তীরবর্তী কৈয়ারঢালা স্লুইসগেটের দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। সময়ের সাথে সাথে ভাঙনটি আরও বড় আকার ধারণ করে। দীর্ঘ আট মাসেও এটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এদিকে, হাওড়জুড়ে শেষ হয়েছে বোরো আবাদ। আর মাস দেড়েক পরই ফসল ঘরে তোলার সময়। কিন্তু কৈয়ার ঢালা স্লুইসগেটের সংযোগ সড়কের বাঁধটি এখনও মেরামত না করায় তিন উপজেলার কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাদের আশঙ্কা, চৈত্রে আগাম বৃষ্টিপাত হলে কুশিয়ারা নদীর পানি হাওড়ে ঢুকে পড়বে। এতে তলিয়ে যাবে বিস্তীর্ণ ফসলিজমি।

স্থানীয় সিরাজ মিয়া বলেন- “অনেক ভয়, আতঙ্কে আছি। বৈশাখ মাস চলে আসছে, এটা ভেঙে অনেক ক্ষতি হতে পারে। এখন এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে এই বাঁধ না বাঁধলে আর বাঁধা সম্ভব না।”

এই সংযোগ সড়কটির দায়িত্বে রয়েছে জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি করে দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী।

হবিগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম বলেন, “চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ঠিকাদারকে জরুরিভিত্তিতে মেরামত করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই এটা নির্মাণ করা সম্ভব হবে।”

এর আগে ২০২২ সালে কৈয়ারঢালা স্লুইসগেটে ভাঙন দেখা দেয়। পরে ত্রুটিযুক্ত মেরামতের কারণে আবারও তা ভেঙে যায়। তবে এবার যেন শক্তিশালী বাঁধ তৈরি করা হয় এমনটাই দাবি কৃষকদের।

ঢাকা/মামুন/টিপু

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর স ল ইসগ ট র স য গ সড়ক ম র মত উপজ ল

এছাড়াও পড়ুন:

বাংলাদেশি ভেবে বিএসএফের গুলি, ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে এক ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার গোরকমন্ডল সীমান্তের ৯২৯ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের ৩ নম্বর সাব পিলারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে ভারতের ভূখণ্ডে মরাকুটি (ভোরাম পয়োস্তি) এলাকায় ওই চোরাকারবারীর মরদেহ দেখেন বাংলাদেশিরা। ৪ ঘণ্টা ধরে সেখানে পড়েছিল ভারতীয় ওই চোরাকারবারীর মরদেহ। পরে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। এ নিয়ে ওই সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

নিহত যুবকের নাম জাহানুর আলম (২৪)। তিনি ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার গিদালদহ এলাকার মরাকুটি ভোরাম পয়োস্তি গ্রামের কবিদুল ইসলামের ছেলে।

সীমান্তবাসীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসাসহ গরু পারাপারে জড়িত ছিলেন তিনি।

সীমান্তে বসবাসকারী সায়েদ আলী ও হয়রত আলী জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে উভয় দেশের একদল চোরাকারবারী ওই সীমান্ত দিয়ে গাঁজা ও গরু নিয়ে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করে। এ সময় ভারতীয় ভারবান্দা ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে ৬ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে ভারতীয় চোরাকারবারী জাহানুর গুলিবৃদ্ধ হয়। সেখানে পড়ে থাকা অবস্থায় অনেকবার চিৎকার করলেও সহযোগীরা তাকে উদ্ধার না করায় ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি। গুলির শব্দ পেয়ে বাকি চোরাকারবারীরা পালিয়ে যান।

এ দিকে নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির পক্ষে গোরকমন্ডল ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার ফিরোজ এবং বিএসএফের পক্ষে ৩ বিএসএফ ব্যাটলিয়নের অধীন ভারবান্দা গিদালদহ ক্যাম্পের কমান্ডার গিরিশ চন্দ্র নেতৃত্ব দেন। পতাকা বৈঠকের পর সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ নিয়ে যায় বিএসএফ।

এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, বিএসএফের কাছে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়- ভোরের দিকে একদল ভারতীয় নাগরিক টহলরত বিএসএফ পোস্টে হামলা চালায়। তখন আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে এক ভারতীয় হামলাকারী নিহত হয়। বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীন। এর সঙ্গে বাংলাদেশ বা বিজিবির কোনও সমৃক্ততা নেই। তারপরও সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ