কুয়েটের এক প্রকৌশলীকে মারধর, অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
Published: 4th, March 2025 GMT
বিএনপির এক নেতার কাছ থেকে মারধরের হুমকি পেয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির দুই প্রকৌশলী। এ ঘটনায় এক প্রকৌশলীকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (৩ মার্চ) দুই নির্বাহী প্রকৌশলী লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতার নাম মোল্লা সোহাগ হোসেন। তিনি খানজাহান আলী থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।
আরো পড়ুন:
রিকশাচালককে জুতাপেটা করা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরখাস্ত
চার জামায়াত নেতাকে ইউএনওর সামনে ‘মারধরের’ অভিযোগ
কুয়েটের উপাচার্যের কাছে দুই নির্বাহী প্রকৌশলী লিখিত অভিযোগে বলেছেন, কুয়েটের ১৩ নম্বর ভবনের ছাদে ওয়াটার প্রুফিংয়ের কাজের দর প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের প্রকৌশলীরা বাজারদরের সঙ্গে সরকারি নিয়মানুযায়ী ভ্যাট, আইটি ও ১০ শতাংশ প্রফিট (দাপ্তরিকভাবে পূর্বনির্ধারিত) যুক্ত করে দর নির্ধারণ করা হয়। ১০ শতাংশ প্রফিটে আপত্তি করেন বিএনপি নেতা ও ঠিকাদার মোল্লা সোহাগ। তাকে আরো বেশি প্রফিট দিতে হবে বলে মুঠোফোনে প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়াকে বলেন। এ কথা বলার পর প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন, কিন্তু কোনো কথা না শুনে ফোনেই নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া ও নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ আবু হায়াতকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং মেরে ফেলার হুমকি দেন মোল্লা সোহাগ। এ অবস্থায় প্রকৌশলী দুইজন জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।
প্রকৌশলী শেখ আবু হায়াত বলেন, “গত রবিবার ৩টা বাজার কিছু আগে, খানজাহান আলী থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয়ে আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘তুই চেয়ারের পরে বসে সবাইরে ১০ লাখ, ২০ লাখ টাকার কাজ দিস, আমাকে দিছিস টেন পারসেন্ট লাভে’ বলে আমাকে যাচ্ছেতাই বলে গালিগালাজ করেন। পাঁচ মিনিট পর ফোন দিয়ে একই রকমভাবে আমাকে দেখে ছাড়বে, আমার বাড়ি আক্রমণ করবে, ফুলবাড়ি গেটে গেলে আমাকে দেখে নেবে—এসব কথা বলে হুমকি দেওয়া হয়। গালিগালাজ করা হয়।”
এ ঘটনায় কুয়েট উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয় এ কারণে বিএনপি নেতা মোল্লা সোহাগ মারধর করেছেন উল্লেখ করে প্রকৌশলী শেখ আবু হায়াত বলেন, “গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বাড়ির পাশের মহেশ্বরপাশা উত্তর বনিকপাড়া আল আকসা মসজিদ থেকে আসরের নামাজ পড়ে ফিরছিলাম। এ সময় দেখি, মোটরসাইকেলে সোহাগ মোল্লাসহ অন্য দুইজন। কথা–কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা আমার গায়ে হাত দেয় এবং আমার চশমা নিয়ে যায়।”
প্রকৌশলীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন মোল্লা সোহাগ। তবে কোনো ধরনের ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে তিনি জড়িত না বলে দাবি করেন।
মোল্লা সোহাগ বলেন, “কুয়েট হচ্ছে থানা বিএনপির সেক্রেটারি আব্বাসের নিয়ন্ত্রণে। বাদামতলার ওপাশে থানা বিএনপির সভাপতি কাজী মিজানের নিয়ন্ত্রণে। আপনি যদি প্রমাণ দেখাতে পারেন, কুয়েটে আমার একটা টাকার কাজ আছে, তাহলে যা বলবেন মেনে নেব। এখানে কাজও করে আব্বাস, হুমকি দেয় ওরা, জোর–জুলুম করে ওরা। আমার নেতার অর্ডার আছে, আমি কখনো টেন্ডারে যাই না, কোনো ঠিকাদারিতে যাই না, কোন জায়গাতেই যাই না।”
মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বিএনপির এই নেতা প্রকৌশলী শেখ আবু হায়াতের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
ঢাকা/নূরুজ্জামান/মাসুদ
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ম রধর ব এনপ ব এনপ র স ম রধর
এছাড়াও পড়ুন:
ট্রাম্প নতুন করে পাল্টা শুল্ক আরোপের কারণ কী
ভারত, পাকিস্তান, চীন, ভিয়েতনাম, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোসহ বিভিন্ন দেশে নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কারণ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে বাজেভাবে ব্যবহার করেছে এবং আমেরিকান পণ্যের ওপর অসম শুল্ক আরোপ করেছে। এটিকে তিনি প্রতারণার সঙ্গে তুলনা করেছেন। অন্যান্য দেশ অসম শুল্ক আরোপ করার কারণে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের ওপর এই পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে।
তবে তার আরোপিত শুল্ক অন্যদের আরোপিত শুল্কের প্রায় অর্ধেক বলেও তিনি দাবি করেছেন। এটিকে তিনি তার দেশের জন্য মুক্তির দিন বলে অভিহিত করেছেন। এই দিনটির জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিল বলেও জানান তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, সেই হিসেবে (অন্যদের তুলনায়) পুরোপুরি পাল্টা শুল্ক হচ্ছে না। তবে হ্যাঁ, আমি তা করতে পারতাম। কিন্তু এটি করলে অনেক দেশের জন্য কঠিন হয়ে যেত। আমি তা করতে চাইনি।
তিনি আরও বলেন, আজকের দিনটি আমেরিকান শিল্পের পুনর্জন্মের দিন এবং আজ আমেরিকা পুনরায় সম্পদশালী হল।
তবে ট্রাম্পের এমন পাল্টা শুল্ক আরোপের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে হবে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জেনে নেওয়া যাক, কোন দেশে কত শুল্ক আরোপ করা হলো-
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে তা উল্লেখ করে, এর প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র সেসব দেশে কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করল সেই তালিকা তুলে ধরেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের পাল্টা এই শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ, ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ এবং চীনের পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ, লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ এবং মাদাগাস্কারের পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি