“বাংলাদেশে বহু প্রতিষ্ঠান আছে। কেউ ৬ মাস, কেউ ১০ বছর টিকে। এতো দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রতিষ্ঠান টিকে আছে শুধু নয়, শক্ত আছে, মজবুত আছে, কার্যক্রম পরিচালনা করছে নানাদিকে ছড়িয়ে যাচ্ছে, এতিমদের দিকে নজর দিচ্ছে— এটা অবাক কাণ্ড।

এরকম আরও প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টান্ত উপমহাদেশে আছে কীনা আমার জানা নেই। আজকে আমরা গৌরববোধ করি যে, এরকম একটা প্রতিষ্ঠান যারা চালিয়েছে, সময় দিয়েছে, মেধা দিয়েছে, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”

রাজধানীর কাকরাইলে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের প্রশংসায় এ কথা বলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.

মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (৩ মার্চ) কাকরাইলে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের নতুন ভবন আঞ্জুমান জে আর টাওয়ারের উদ্বোধনের পর প্রধান উপদেষ্টা সেখানে এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতার করেন। 

ইফতারের আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম না থাকলে আমরা জানতামও না, এই লাশের কী হয়েছিল। এটা একটি প্রতীক মনে হোক, যে-সব দুর্বলতা সমাজের মধ্যে আছে সেগুলো যেন আমরা দূর করতে পারি। আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মতো মনোযোগ দিলে বহু সমস্যার সমাধান আমরা নিজেরাই করে ফেলতে পারি।”

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ও আলী ইমাম মজুমদার, আঞ্জুমানে মফিদুলের সভাপতি মুফলেহ আর ওসমানী এবং সহ-সভাপতি গোলাম রহমান।

ঢাকা/হাসান/টিপু

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ন উপদ ষ ট

এছাড়াও পড়ুন:

ঈদে দেড় লাখ কোটি টাকার বেচাকেনা

এবারের রোজার ঈদে দেশীয় পণ্যের প্রতি ছিল ক্রেতা-ভোক্তার বিশেষ ঝোঁক। বিদেশি পণ্য খুব একটা সহজলভ্যও ছিল না। বিশেষ করে ভারতীয় পণ্যের দাপট এবার দেখা যায়নি। গত বছরের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর ভারত যেতে ভিসা জটিলতার প্রভাবও ছিল ঈদবাজারে। যারা ঈদের কেনাকাটায় ভারতে যান, তাদের একটা বড় অংশই ভারতে যেতে পারেননি এবার। চিকিৎসা কিংবা বেড়ানোর জন্য যারা ভারতে যান, তারাও ঈদে উপলক্ষ করে কেনাকাটা করে থাকেন। এবার সে ব্যবস্থা একরকম বন্ধ ছিল। সব মিলিয়ে দেশীয় পণ্যের একচেটিয়া দাপট ছিল এবারের ঈদবাজারে। আবার তুলনামূলক রাজধানীর চেয়ে মফস্বল শহরে এবার বিকিকিনি ভালো হয়েছে। এর একটা বড় অংশই ছিল বাচ্চাদের পোশাক।

আকাশযাত্রার টিকিট কিংবা ফার্নিচারের মতো আইটেমেরও বেচাকেনা বাড়ে ঈদে। সাধারণত পোশাক, প্রসাধনী ও বৈদ্যুতিক পণ্যকে ঈদ আইটেম হিসেবে গণ্য করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির তথ্যমতে, এবার ঈদের বাজার ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার। এটি গত বছরের রোজার ঈদের চেয়ে কিছুটা কম। ওই ঈদে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার বেচাকেনা হয়। সারাদেশের ৭০ লাখ দোকান থেকে নেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়। সমিতির হিসাবমতে, শুধু রাজধানীতে ছোট-বড় বিপণিকেন্দ্র প্রায় আড়াই লাখ। দোকান আছে ৬০ লাখের মতো।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান টিপু গতকাল বুধবার সমকালকে বলেন, এবার ঈদে ব্যবসা পরিচালনা অনেকটাই মসৃণ ছিল। অন্যান্য বছররের মতো এবারে ঈদে বাজারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দিক থেকেও হয়রানি ছিল না। দেশি-বিদেশি পণ্যের শ্রেণিকরণ খুব সুস্পষ্ট ছিল। এ নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। এবার প্রত্যাশা অনুসারে বেচাবিক্রি হয়নি। গত বছরের চেয়ে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার মতো কম হয়েছে বিক্রি। যদি ভারতে আগের মতোই যাতায়াত সহজ হতো, তাহলে ঈদে দেশে বেচাবিক্রির পরিমাণ আরও কমে যেত। কারণ, কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে ‍অনেকেই কেনাকাটা করে থাকেন।

এবার কেনাবেচার পরিমাণ কম হওয়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, আগে যে রকম মানুষের হাতে বাড়তি অর্থ থাকত, এবার সে সুযোগ নেই। যাদের বাড়তি টাকা থাকে, তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত বাড়তি কেনাকাটা করে থাকেন। আবার বেসরকারি প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই বেতন বা বোনাস হয়েছে। একসঙ্গে বেতন-বোনাস পেয়েছেন– এরকম খুব কমই হয়েছে।

দেশীয় পণ্য ভিনদেশি নামে
জানা গেছে, এবারের ঈদে দেশীয় অনেক বস্ত্র ও পোশাক ভারতীয় ও পাকিস্তানি নামে বাজারে বিক্রি হয়েছে। আবার বিদেশি কিছু পণ্য ঈদকে টার্গেট করে এবার অনেকটা আগেভাগেই দেশের বাজারে ঢুকেছে। এ কারণে দেশীয় বস্ত্র ও পোশাক বিক্রির পরিমাণ অন্তত ২০ শতাংশ কম হয়েছে। জানতে চাইলে বেসরকারি বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) পরিচালক এবং লিটিল গ্রুপের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম সমকালকে বলেন, ভিন্ন রাজনৈতিক পরিবেশে এবার ঈদের মানুষের মনোভাবকে পুঁজি করেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। অনেকের মধ্যে ভারতবিদ্বেষি একটা মনোভাব রয়েছে– এরকম অনুমান থেকে ভারত থেকে আনা বস্ত্র ও পোশাককে পাকিস্তানি বলেও চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার দেশীয় বস্ত্র ও পোশাককেও পাকিস্তানি পণ্য দাবি করে দ্বিগুণ দাম রাখা হয়েছে। দেশীয় বস্ত্র ও পোশাকের মধ্যে কোনো কোনো আইটেমের মান ভারত, পাকিস্তান কেন– যে কোনো দেশের একই আইটেমের চেয়ে ভালো। এ কারণেই দেশীয় পণ্যকে বিদেশি বলে চালিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তাঁর মতে, দেড় লাখ কোটি টাকার এবারের ঈদবাজারের মধ্যে শুধু বস্ত্র ও পোশাকের পরিমাণ হবে অন্তত ৮৫ হাজার কোটি টাকার। সারাবছর দেশীয় বস্ত্র এবং পোশাকের বাজারের আকার ১২ বিলিয়ন ডলার। এর একটি অংশই ঈদকেন্দ্রিক। পাজামা, পাঞ্জাবি, শাড়ি, লুঙ্গি, শার্ট, গেঞ্জিসহ পরিধেয় সব বস্ত্র ও পোশাকই রয়েছে এর মধ্যে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ঈদে দেড় লাখ কোটি টাকার বেচাকেনা