বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে মৎস্য বিভাগের স্পিডবোটের সঙ্গে মাছ ধরা নৌকার সংঘর্ষে নদীতে পড়ে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৩ মার্চ) রাত পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার কালাবদর নদীতে ঘটনাটি ঘটে। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য বিভাগের মেরিন ফিশারিজ অফিসার সুকান্ত কুমার রায় এতথ্য জানান। 

মারা যাওয়া জেলের নাম মিরাজ ফকির (৩০)। তিনি মেহেন্দিগঞ্জের মিয়ার চর এলাকার ফখরুল ফকিরের ছেলে।  

আরো পড়ুন:

ঝিনাইদহে ডোবায় ডুবে শিশুর মৃত্যু

বগুড়ার ক্লিনিকে প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ, ভাঙচুর 

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য বিভাগের মেরিন ফিশারিজ অফিসার সুকান্ত কুমার রায় বলেন, “মাছ শিকারের জন্য কালাবদর নদীর শ্রীপুর এলাকায় নিষিদ্ধ বাধা জাল ফেলেছেন জেলেরা এমন খবর পেয়ে মৎস্য বিভাগের একটি দল স্পিডবোট নিয়ে সেখানে অভিযান চালায়। নদী থেকে জাল তোলার সময় ৮/১০টি জেলে নৌকা তাদের ওপর হামলা করে। এ সময় এক নৌকা এসে তাদের স্পিডবোটের ওপর উঠিয়ে দেয়। এসময় নৌকা থেকে এক জেলে নদীতে পড়ে যান।”

তিনি আরো বলেন, “তাকে উদ্ধার করে জেলেরা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।” 

মেহন্দিগঞ্জের কালিগঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) এনামুল হক বলেন, “স্পিডবোট ও জেলে নৌকার সংঘর্ষে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”

ঢাকা/পলাশ/মাসুদ

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর মৎস য ব ভ গ র

এছাড়াও পড়ুন:

উৎসবেও কেন আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি

আঁশসমৃদ্ধ খাবারের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো, এসব খাবার খেলে রক্তের খারাপ চর্বির মাত্রা কমে যায়। উৎসবের সময় এক দিকে থাকে ভারী খাবারদাবারের আয়োজন, আবার অনেকেই এ সময় শরীরচর্চা করেন না। লম্বা ছুটিতে এমন জীবনধারা বেছে নিলে কিন্তু রক্তে খারাপ চর্বির মাত্রা বাড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। তাই এ সময় আঁশসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা দারুণ অভ্যাস। সঙ্গে একআধটু শরীরচর্চা করতে পারলে তো খুবই ভালো হয়। তিনবেলা খাওয়ার পর ১০ মিনিট করেই নাহয় হাঁটুন। সুস্থ থাকবেন।

এ সময় আঁশের আরও উপকারিতা

আঁশসমৃদ্ধ খাবার পেটের জন্য ভালো। উৎসব-আয়োজনে জম্পেশ খাওয়াদাওয়ার পর পেটের পীড়ায় ভোগেন অনেকেই। এই সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে আঁশসমৃদ্ধ খাবার। আমাদের অন্ত্রে স্বাভাবিকভাবেই যেসব উপকারী জীবাণু থাকে, সেসবের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে খাবারের আঁশ। ফলে বাড়ে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা। তাতে পেটের পীড়ার ঝুঁকি কমে যায়। পর্যাপ্ত আঁশ গ্রহণ করলে কোষ্টকাঠিন্য এড়ানো সহজ হয়। আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেলে বেশ লম্বা সময় ক্ষুধাও লাগে না। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে আঁশসমৃদ্ধ খাবার।

আরও পড়ুনআপনিও কি খাওয়ার পরে গ্যাসের ওষুধ খান? ১৫ আগস্ট ২০২৪

কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

নানান রকম ফলমূল এবং সবজি খাবেন। ফলের রসের চেয়ে গোটা বা টুকরা করা ফল ভালো। যেসব খোসা সমেত খেতে পারবেন, সেসবের খোসা ফেলবেন না। অন্তত একবেলা শাক খাওয়া ভালো। নানান ধরনের ডাল, বীজ, বাদাম প্রভৃতি খেতে পারেন। রিফাইনড বা পরিশোধিত শস্যের চেয়ে গোটা শস্যে বেশি আঁশ থাকে। লাল চাল বা লাল আটা বেছে নিতে পারেন। একবেলা হয়তো ওটস দিয়ে মজার কিছু তৈরি করে খেলেন। ইনস্ট্যান্ট নুডলস-জাতীয় প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া উচিত। আঁশ যেমন খাবেন, পর্যাপ্ত পানিও খাবেন রোজ।

কতটা খাবেন আঁশ

রোজ একজনের গড়ে ২৮-৩৪ গ্রাম আঁশ প্রয়োজন। এতটা আঁশ কিন্তু রোজকার জীবনে অনেকেই গ্রহণ করেন না। তাই আঁশের মাত্রা বেশি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আদতে খুবই কম। ধরুন, আপনি ১০০ গ্রাম সবজি বা ফল খেলেন। এর ১০০ গ্রামই তো আর আঁশ নয়। সবজি বা ফলভেদে প্রতি ১০০ গ্রামের জন্য কিছু পরিমাণ আঁশ পাবেন আপনি। একেবারে গুগল থেকে আঁশের মাত্রা খুঁজে বের করে ক্যালকুলেটরে হিসাব করে খেতে হবে, তা কিন্তু নয়। খানিকটা কমবেশি হলে কোনো ক্ষতি নেই। চেষ্টা করুন আঁশ একটু বেশিই গ্রহণ করতে। তবে কেউ যদি একেবারে অতিরিক্ত আঁশ গ্রহণ করে ফেলেন, তাহলে অবশ্য তাঁর অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা, পেটব্যথা বা পাতলা পায়খানার মতো কিছু সমস্যা হতে পারে।

আরও পড়ুনঅতিরিক্ত খেয়ে পেট ফাঁপলে উপায় কী?১৭ জুন ২০২৪

উৎসবের পরও

উৎসবের পরও আঁশ খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন। উপকার মিলবে। রক্তের খারাপ চর্বি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে। তাই আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাবেন রোজ। তাতে প্রদাহের ঝুঁকিও কিন্তু কমে। ডায়াবেটিস এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। গবেষণা এমনটাও জানাচ্ছে, আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেলে স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি কমে।

সূত্র: হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল

আরও পড়ুনকী খেলে আঁশ পাবেন২০ জানুয়ারি ২০১৭

সম্পর্কিত নিবন্ধ