Prothomalo:
2025-04-03@12:05:29 GMT

রোজায় পানিসংকট দূর করুন

Published: 4th, March 2025 GMT

চট্টগ্রামের পানিসংকট কোনো নবীন সমস্যা নয়; তৎসত্ত্বেও এর সমাধানে সুদূরপ্রসারী কোনো পরিকল্পনার বাস্তবায়ন পরিলক্ষিত হয় না। প্রতিবছর রমজান মাসে নগরবাসী এই সমস্যার সম্মুখীন হন, অথচ কার্যকর সমাধানের অভাবে এই দুরবস্থা ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে।

আকবরশাহ, হালিশহর, ইপিজেড, আগ্রাবাদ, বায়েজিদ বোস্তামী, লালখান বাজার, বহদ্দারহাটসহ প্রায় ২০টি এলাকায় ওয়াসার পানি দুর্লভ হয়ে পড়েছে। এসব স্থলে পানিপ্রবাহ এক ঘণ্টার অধিক স্থায়ী হচ্ছে না। ফলে নাগরিক জীবনে চরম দুর্দশার সৃষ্টি হয়েছে।

ওয়াসার পরিসংখ্যান অনুসারে, চট্টগ্রাম শহরে দৈনিক পানি প্রয়োজন ৫৬ কোটি লিটার, অথচ উৎপাদনক্ষমতা ৫০ কোটি লিটার মাত্র। বর্তমানে কর্ণফুলী ও হালদা নদীর পানিপ্রবাহ হ্রাস পাওয়ায় উৎপাদন আরও হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে ঘাটতি নেমেছে ১১ কোটি লিটারে। রমজানের কারণে চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। অথচ ওয়াসার প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। প্রতিবছরের মতো ওয়াসা স্বল্পমেয়াদি কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও তা নাগরিক দুর্দশা লাঘবের জন্য পর্যাপ্ত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না।

অথচ পানিসংকটের কারণে চট্টগ্রামের বহু পরিবারকে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর অতিরিক্ত আর্থিক ভার আরোপ করছে। অনেকে সুদূর প্রান্ত থেকে পানি আহরণে বাধ্য হচ্ছেন, যা বিশেষত রমজান মাসে কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহু ভবনে গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করা হলেও এতে বিদ্যুৎ ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই সংকট নিরসনে ওয়াসার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা আবশ্যক। প্রথমত, পানি শোধনাগারগুলোর উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য। কর্ণফুলী ও মদুনাঘাট শোধনাগারের উৎপাদন বৃদ্ধিমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত। দ্বিতীয়ত, গভীর নলকূপের সংখ্যা বৃদ্ধি করে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, সংকটাপন্ন এলাকাগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্তসংখ্যক পানিবাহী যান সংযোজন অপরিহার্য। প্রতিটি ওয়ার্ডে ন্যূনতম একটি করে নিয়ন্ত্রণকক্ষ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, যাতে সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হয়।

এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্য ওয়াসার জরুরি ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা কর্তব্য। মহানগরবাসী পানিপ্রাপ্তির মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারে না। যথাযথ পরিকল্পনা ও সুচিন্তিত উদ্যোগ ব্যতিরেকে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: গ রহণ

এছাড়াও পড়ুন:

বাংলাদেশি ভেবে বিএসএফের গুলি, ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে এক ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার গোরকমন্ডল সীমান্তের ৯২৯ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের ৩ নম্বর সাব পিলারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে ভারতের ভূখণ্ডে মরাকুটি (ভোরাম পয়োস্তি) এলাকায় ওই চোরাকারবারীর মরদেহ দেখেন বাংলাদেশিরা। ৪ ঘণ্টা ধরে সেখানে পড়েছিল ভারতীয় ওই চোরাকারবারীর মরদেহ। পরে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। এ নিয়ে ওই সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

নিহত যুবকের নাম জাহানুর আলম (২৪)। তিনি ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার গিদালদহ এলাকার মরাকুটি ভোরাম পয়োস্তি গ্রামের কবিদুল ইসলামের ছেলে।

সীমান্তবাসীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসাসহ গরু পারাপারে জড়িত ছিলেন তিনি।

সীমান্তে বসবাসকারী সায়েদ আলী ও হয়রত আলী জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে উভয় দেশের একদল চোরাকারবারী ওই সীমান্ত দিয়ে গাঁজা ও গরু নিয়ে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করে। এ সময় ভারতীয় ভারবান্দা ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে ৬ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে ভারতীয় চোরাকারবারী জাহানুর গুলিবৃদ্ধ হয়। সেখানে পড়ে থাকা অবস্থায় অনেকবার চিৎকার করলেও সহযোগীরা তাকে উদ্ধার না করায় ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি। গুলির শব্দ পেয়ে বাকি চোরাকারবারীরা পালিয়ে যান।

এ দিকে নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির পক্ষে গোরকমন্ডল ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার ফিরোজ এবং বিএসএফের পক্ষে ৩ বিএসএফ ব্যাটলিয়নের অধীন ভারবান্দা গিদালদহ ক্যাম্পের কমান্ডার গিরিশ চন্দ্র নেতৃত্ব দেন। পতাকা বৈঠকের পর সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ নিয়ে যায় বিএসএফ।

এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, বিএসএফের কাছে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়- ভোরের দিকে একদল ভারতীয় নাগরিক টহলরত বিএসএফ পোস্টে হামলা চালায়। তখন আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে এক ভারতীয় হামলাকারী নিহত হয়। বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীন। এর সঙ্গে বাংলাদেশ বা বিজিবির কোনও সমৃক্ততা নেই। তারপরও সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ