সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে সেনাবাহিনী
Published: 4th, March 2025 GMT
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সরকারকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সরকার গঠনের প্রথম দিকে যেমন ছিল, এখনও তেমনই সমর্থন রয়েছে। অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক দলগুলোরও সমর্থন অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে অনেক পরিবর্তন এসেছে। ধ্বংসাবশেষ থেকে দেশ নতুন চেহারায় আসছে। অর্থনীতি সহজ হয়েছে। দেশ-বিদেশের আস্থা অর্জন করেছে সরকার। সম্প্রতি বিবিসি বাংলার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা তাঁর সরকারের প্রায় সাত মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংস্কার ও নির্বাচন, ছাত্র নেতৃত্বে নতুন দল গঠনসহ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি নিয়েও কথা বলেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব নেওয়ার আগের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে ড.
সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পরিস্থিতি এমন ছিল যে ফ্যাসিবাদী সরকার ১৬ বছর ধরে চলতে পেরেছে, আমরা কিছুই করতে পারিনি। তিন-তিনটা নির্বাচন হয়ে গেল, ভোটারের কোনো দেখা নেই। অসংখ্য রকমের দুর্নীতি ও ব্যর্থতা, অপশাসন থেকে দেশকে টেনে বের করে আনতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
সাত মাসে দেশের পরিবর্তনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন চেহারা আসছে। অর্থনীতি যে সহজ হয়েছে, তা ভেসে উঠছে। দেশ-বিদেশের আস্থা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। সারা দুনিয়ায় আস্থা স্থাপনের বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। প্রতিটি দেশ নিজে এসে বলেছে, তোমাদের সমর্থন করছি। তোমাদের যা দরকার, আমরা দেব। অবিশ্বাস্য রকমের সহায়তা মিলেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, সরকারের ওপর দেশের মানুষের আস্থা আছে কিনা– এটাই বড় কথা। আমার মনে হয়, দেশের মানুষের আস্থা আমাদের ওপর আছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় অতীত অভিজ্ঞতা না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কোনো বিশেষজ্ঞ এখানে এসে বসিনি। নিজের মতো করে চেষ্টা করছি। তার মধ্যে ভুলভ্রান্তি হতে পারে। কিছু ভালো করেছে, কিছু ভালো করতে পারেনি। এটা হতে পারে। এটা আমি তো অস্বীকার করছি না। তিনি বলেন, আমাদের ইচ্ছা অনেক। রাতারাতি দেশ পরিবর্তন করতে চাই। সেটা পারিনি। সে জন্য সময় লাগবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সংলাপ এখনই শুরুর পরিকল্পনা ছিল। তাও পারিনি। সংলাপ শুরু হতে হতেও দেরি হয়ে যাচ্ছে। যেগুলো সময়মতো করতে চেয়েছি, ওই সময়ে করতে পারিনি। অনেক সংস্কার কমিশন করেছি। তারা নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দিতে পারেনি। অনেক কাজ তাই একটু পিছিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনি হিসাব নিচ্ছেন। আগের বছরের তুলনায় অপরাধের পরিমাণ মোটেই বাড়েনি। আগের মতোই হয়েছে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী ছয় মাসে ডাকাতির সংখ্যা ৫০ শতাংশ বেড়েছে– এ বিষয়ে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘চেষ্টা করছি আমরা। সমস্যা আপনিও জানেন, আমিও জানি।’ তিনি বলেন, প্রথম দিকে সমস্যা ছিল পুলিশ বাহিনী ভয়ে রাস্তায় নামছিল না। এটা ঠিক করতে করতেই কয়েক মাস চলে গেছে। এখন মোটামুটি ঠিক হয়ে গেছে। এখন আবার নিয়মশৃঙ্খলার দিকে রওনা হয়েছি।
গণপিটুনিসহ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থার সংকট এখনও দূর করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু সরকার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে; কিন্তু সমাধান হয়নি।
দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিকে সরকারের প্রতি গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্ররা, রাজনৈতিক দলগুলো এবং সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা বলা হলেও এখনও পরিস্থিতি একই রয়েছে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা জানান, অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। সবাই সমর্থন করছে। রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে অনেক তফাৎ আছে। কিন্তু তার মানে এই নয়, ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরেছে। এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ছাত্রদের নতুন দল গঠনে সরকারের সহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই অভিযোগ মোটেই সঠিক নয়। সরকার তাদের কোনো সহায়তা করে না। যে রাজনীতি করতে চায়, সে নিজেই ইস্তফা দিয়ে চলে গেছে। তিনজন ছাত্র প্রতিনিধি ছিল সরকারের ভেতরে। যিনি রাজনীতি করতে মনস্থির করেছেন, তিনি ইস্তফা দিয়ে সরকার থেকে চলে গেছেন। তিনি বলেন, নতুন দলের বিষয়ে সবারই ইতিবাচক মনোভাব থাকতে পারে। কিন্তু সেটি ব্যক্তিগত। সরকার হিসেবে কোনো অবস্থান নেই।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সরকারকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রথম দিকে যেমন ছিল, এখনও তেমনই রয়েছে। সার্বভৌমত্ব নিয়ে সেনাপ্রধানের আশঙ্কা প্রকাশ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা তো সব সময় থাকে। একটা পলাতক দল দেশ ছেড়ে চলে গেছে বা তাদের নেতৃত্ব চলে গেছে। তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করছে এটাকে অস্থিতিশীল করার জন্য। এটা তো সব সময় থ্রেট আছেই। প্রতি ক্ষণেই আছে, প্রতি জায়গাতেই আছে। কাজেই এটা তো সব সময় থাকবে। তিনি বলেন, তারা মাঝেমধ্যেই বক্তৃতা দিচ্ছে। সবাই শুনছে। মানুষ উত্তেজিত হচ্ছে। তিনি বলেন, তারা কর্মসূচি দিচ্ছে, হরতাল করো, অমুক করো। মানুষ কীভাবে নেবে এটাকে বলেন? এটা কি মিষ্টিমুখে চলে যাবে সব?
বর্তমান সরকারের পক্ষে সংস্কার কতটুকু এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে–এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা প্রতিটি সুপারিশ দেব। সুপারিশের সঙ্গে কথা থাকবে যে আপনার রাজনৈতিক দল এটা কি সমর্থন করে? এটাতে রাজি আছেন? রাজি থাকলে বলেন, রাজি না থাকলে বলেন। বা এই যে সুপারিশটা আছে, সেটার মধ্যে যদি কোনো একটা সংশোধনী এনে রাজি হবেন, সেটা বলেন। এটা কি নির্বাচনের আগে সংশোধন করা ঠিক হবে, নাকি নির্বাচনের পরে– সব প্রশ্নের এখানেই সমাধান আছে।
রাজনৈতিক দলকে শুধু বলতে হবে কোনটা? সবকিছু মেলালে আমরা এটা ঠিক করব, কোন সুপারিশে সবাই একমত হয়েছে। সেটা আলাদা করব যে এটাতে সবাই একমত হয়েছে। এ রকম যেসব সুপারিশে তারা একমত হয়েছে, সেগুলো আমরা আলাদা একটা কাগজে নিয়ে আসব যে, এসব বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে। তবে এটাকে আমরা বলব একটা চার্টার– জুলাই চার্টার।
গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি দেখা গেছে। দুই দেশের সম্পর্ক এখন কোন পর্যায়ে আছে–এমন প্রশ্নে প্রধান উপদেষ্টা দাবি করেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খুবই ভালো। সম্পর্কের কোনো অবনতি হয়নি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক ভালো না থেকে উপায় নেই। পরস্পরের ওপর নির্ভরশীলতা এত বেশি এবং ঐতিহাসিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে আমাদের এত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, সেটা থেকে আমরা বিচ্যুত হতে পারব না। তবে মাঝখানে কিছু দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে, মেঘ দেখা দিয়েছে। এই মেঘগুলো মোটামুটি এসেছে অপপ্রচার থেকে। অপপ্রচারের সূত্র কারা, সেটা অন্যরা বিচার করবে। কিন্তু এই অপপ্রচারের ফলে আমাদের সঙ্গে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়ে গেছে। সেই ভুল বোঝাবুঝি থেকে আমরা উত্তরণের চেষ্টা করছি।
আওয়ামী লীগ কি নিষিদ্ধ হবে বা নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা– এমন প্রশ্নে পুরোনো অবস্থান উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যেই এসব সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। এই দেশ থেকে কারও অধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনো উপায় নেই। কিন্তু যে অন্যায় করেছে, যার বিচার হওয়া উচিত, তার বিচার হতে হবে। এটুকুই শুধু।
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: সহয গ ত র প রথম দ ক পর স থ ত সরক র র আম দ র মন ছ ল
এছাড়াও পড়ুন:
ট্রাম্পের শুল্ক বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার জন্য ধাক্কা, সুবিধা পেতে পারে ভারত
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক শহীদুল্লাহ আজিম বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই জানতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দেশের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এই খবর তাঁর কাছে ধাক্কা হয়ে আসে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার অভিঘাত থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করা তৈরি পোশাকশিল্পকে ঝুঁকিতে ফেলছে।
শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, ‘আমরা জানতাম কিছু একটা আসছে। কিন্তু সেটা এতটা তীব্র হবে, তা আমরা কখনো ধারণা করিনি।...এটা আমাদের ব্যবসা এবং হাজার হাজার শ্রমিকের জন্য ভয়াবহ।’ শহীদুল্লাহ আজিমের তৈরি পোশাকের ক্রেতাদের মধ্যে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের রিটেইলাররা (খুচরা বিক্রেতা) রয়েছেন।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের সরবরাহকারীরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মাথায় তাঁরা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এ বিষয়ে তাঁরা সরকারের সহায়তা চেয়েছেন। বাংলাদেশের এই পোশাক রপ্তানিকারকদের ক্রেতার তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ড গ্যাপ ইনকরপোরেশন এবং ভিএফ করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
বাংলাদেশের কিছু কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে দর–কষাকষি করতে সরকারি কর্মকর্তাদের চাপ দিচ্ছেন, যাতে বিদেশি ক্রেতাদের চলে যাওয়া ঠেকানো যায়।
তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অস্তিত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এই খাত থেকে। এই খাতে কাজ করেন প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাকশিল্প খাত থেকে। এসব বিষয় হিসাব করলে বলতে হয়, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক বাংলাদেশের এই খাতের জন্য সর্বশেষ ও সবচেয়ে বড় ধাক্কা।
গণ-অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। সে সময়কার সহিংস বিক্ষোভের কারণে তখন দেশটির তৈরি পোশাকের উৎপাদন বিঘ্নিত হয়েছিল। ফলে পশ্চিমা ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর কাছে বেশ জনপ্রিয় এই বাজারের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল।
শহীদুল্লাহ আজিম জানান, ব্যয় বাড়তে থাকায় ক্রেতারা তাঁর কোম্পানির ক্রয়াদেশ বাতিল করছিলেন। [কিন্তু নতুন শুল্কারোপের কারণে] বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক বাজারের অগ্রযাত্রা শেষ হয়ে যেতে পারে। তাঁর কোম্পানিতে প্রায় ৩ হাজার ২০০ জন শ্রমিক কাজ করেন।
নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর একজন প্রতিনিধি রয়টার্সকে বলেছেন, বৃহস্পতিবার তাঁরা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। শুল্কের ধাক্কা সামলাতে তাঁরা সরকারের সহায়তা চেয়েছেন। সরকারের কর্মকর্তারা তাঁদেরকে আশ্বস্ত করেছেন, বিষয়টি তাঁরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বৃহত্তম বাজারও যুক্তরাষ্ট্র।
শফিকুল আলম বলেছেন, ঢাকা বাণিজ্যসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কাজ করছে। আশা করছেন, এসব আলোচনা ‘শুল্কের বিষয়টি মোকাবিলা করতে সাহায্য’ করবে।
ভারতের কী সুবিধা
বাংলাদেশের ক্ষতি কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবেশী ভারতের জন্য লাভ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারী এভিন্স গ্রুপের মালিক আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরীর শঙ্কা, ভারত এখন আগের চেয়ে বেশি সুবিধা পাবে। কারণ, দেশটির ওপর বাংলাদেশের চেয়ে কম, তথা ২৭ শতাংশ শুল্কারোপ করেছেন ট্রাম্প। বাংলাদেশে গত বছর রাজনৈতিক সংকট শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীরা ভারতের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বেশি যোগাযোগ করছে বলেও জানান তিনি।
এভিন্স গ্রুপের ওয়েবসাইট বলছে, তাদের ক্রেতাদের মধ্যে টমি হিলফিগার এবং লেভি স্ট্রস অ্যান্ড কোং রয়েছে। তারা শার্ট, ডেনিম ও সুতার ব্যবসা করে।
আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী বলেন, ‘[ট্রাম্পের শুল্কের কারণে] যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাদের একটি বাংলাদেশ।’
যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ তৈরি পোশাক আমদানি হয়, তার মাত্র ৬-৭ শতাংশ যায় ভারত থেকে। এটা বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের চেয়ে অনেক কম। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে গত বছরের রাজনৈতিক সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৩০টি পোশাকের ব্র্যান্ড এখন বাংলাদেশের পরিবর্তে ভারতকে বেছে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় ট্রাম্পের রিসিপ্রোকাল ট্যারিফের আরেক বড় ধাক্কার শিকার দেশ শ্রীলঙ্কা। দেশটির ওপর ৪৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার তৈরি পোশাকের প্রায় ৪০ শতাংশই রপ্তানি করা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। গত বছর দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে ১৯০ কোটি ডলারের। তৈরি পোশাকশিল্প দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত। দেশটিতে এই খাতে তিন লাখ মানুষ কাজ করেন।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকের কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের কারণে যে বিষয়গুলো সামনে আসতে পারে, সেগুলো পর্যালোচনার জন্য সরকারি কর্মকর্তা ও তৈরি পোশাক কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি প্যানেল গঠন করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার জয়েন্ট অ্যাপারেল অ্যাসোসিয়েশন ফোরামের মহাসচিব ইয়োহান লরেন্স বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা খুব দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে যে ব্যবসা হয় তা কম শুল্কের দেশগুলোতে স্থানান্তরের চেষ্টা করতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা একটা গুরুতর পরিস্থিতি। এটাকে জাতীয় জরুরি বিষয় হিসেবে মোকাবিলা করা উচিত।’