শিক্ষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য একুশে পদক-২০২৫ জয়ী শিক্ষাবিদ, লেখক ও অনুবাদক অধ্যাপক নিয়াজ জামানকে সংবর্ধনা দিয়েছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)। গত বুধবার সন্ধ্যায় আইইউবি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আইইউবির ট্রাস্টি, উপাচার্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা ছাড়াও শিক্ষা ও সাহিত্যানুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই অধ্যাপক নিয়াজ জামানের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন নিয়ে আলোচনা করেন আইইউবির ইংলিশ অ্যান্ড মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজেস বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানা। অধ্যাপক নিয়াজ জামানের লেখা একটি ছোটগল্প থেকে কিছু অংশ পড়ে শোনান তিনি।

এরপর নিয়াজ জামানের কর্মজীবন, একুশে পদক প্রাপ্তি, আইইউবির অগ্রগতিতে তাঁর অবদানসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেন আইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জাভেদ হোসেন, উপাচার্য অধ্যাপক ম.

তামিম, ফিজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ও লেখক ড. আহমাদ মোস্তফা কামাল।

অধ্যাপক নিয়াজ জামান তাঁর বক্তব্যে আইইউবিতে তাঁর শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক বখতিয়ার আহমেদ।

আইইউবির ইংলিশ অ্যান্ড মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজেস বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক নিয়াজ জামান। তিনি ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান ইউনিভার্সিটি থেকে দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর এবং জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৮৭ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

তাঁর শিক্ষকতা জীবন শুরু হয় ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও হলি ক্রস কলেজে। এরপর তিনি কাজ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭২ সালে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে, যেখানে তিনি কাজ করেছেন ২০১৩ সালে অবসর নেওয়ার আগপর্যন্ত। ২০০৬ সাল থেকে তিনি আইইউবির ইংরেজি বিভাগের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখিতেও অধ্যাপক নিয়াজ জামান রেখেছেন সমান দক্ষতার ছাপ। লিখেছেন তিনটি উপন্যাস, তিনটি ছোটগল্পের বই এবং সাতটি শিশুতোষ গ্রন্থ। বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্প নিয়েও তাঁর কাজ প্রশংসিত হয়েছে। ‘দ্য আর্ট অব কাঁথা এমব্রয়ডারি’ এবং ‘টেক্সটাইলস ফ্রম বেঙ্গল: আ শেয়ার্ড লেগাসি’ গ্রন্থে উঠে এসেছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্পের গল্প। অনুবাদেও নিয়াজ জামানের রয়েছে সমান দক্ষতা।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে নিয়াজ জামান পেয়েছেন বাংলা একাডেমি অনুবাদ পুরস্কার (২০১৬), অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার (২০১৩), আমেরিকান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এডুকেশন অ্যাওয়ার্ড (২০১৭) সহ নানা সম্মাননা।

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: আইইউব র

এছাড়াও পড়ুন:

চলন্ত গাড়ি থামিয়ে নারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ, অভিযোগ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা একজন নারী শিক্ষককে চলন্ত গাড়ি থামিয়ে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দুই বছর আগে তাঁর একজন কিশোর ছাত্রকে যৌন নিপীড়ন করেছেন।

গত ১৬ মার্চ ক্রিস্টিনা ফরমেলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সম্প্রতি ইউটিউবে একটি চ্যানেলে তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় অভিযোগ শুনে তিনি তাৎক্ষণিক কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন, তার ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

রাজ্যের ডাউনার্স গ্রোভ সাউথ হাইস্কুলের বিশেষ শিক্ষার (স্পেশাল এডুকেশন) একজন শিক্ষক ফরমেলা। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দুই বছর আগে ১৫ বছরের এক কিশোরকে লেখাপড়া করানো এবং তার ফুটবল কোচ হিসেবে কাজ করার সময় ওই ছাত্রকে যৌন নিপীড়ন করেছেন তিনি।

পুলিশ বলেছে, ফরমেলা ও ওই কিশোর পরস্পরের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্ক নিয়ে বার্তা আদান–প্রদান করেছেন। সে মেসেজে যৌনতা নিয়েও নানা কথা আছে।

বেশ কিছুদিন আগে ওই কিশোরের মা নতুন একটি ফোন কিনে সেটি ছেলের জন্য ঠিকঠাক (সেটিংস) করে দিতে গিয়ে ওই মেসেজগুলো খুঁজে পান। এরপর তিনি ছেলের কাছে কী ঘটেছে, তা জানতে চান। ছেলে মায়ের কাছে ওই শিক্ষকের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা খুলে বলে এবং জানায়, সে পরে ওই সম্পর্কের ইতি টেনেছে।

মায়ের উৎসাহে ছেলেটি পুলিশের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করে, যার ভিত্তিতে শিকাগো থেকে পুলিশ ফরমেলাকে গ্রেপ্তার করে। সে সময় স্বামীর সঙ্গে গাড়িতে যাচ্ছিলেন এই শিক্ষক। পুলিশ যখন তাঁকে গাড়ি থেকে নেমে আসতে বলে, তখন ফরমেলাকে দ্বিধান্বিত দেখাচ্ছিল।

পুলিশের বডি ক্যামেরায় পুরো ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।

পুলিশ ফরমেলার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে জরুরি জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে তাদের সঙ্গে যেতে বলে।

ফরমেলার স্বামীকে তখন গাড়িতে বসেই পুলিশকে প্রশ্ন করতে দেখা যায়, ‘সে কি কোথাও যাচ্ছে?’ উত্তরে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা আপনাকে সবকিছুর ব্যাখ্যা দিতে চলেছি।’ ফরমেলাকে পুলিশ জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হবে।

ফরমেলা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি বমি করে দেবেন।

পুলিশের গাড়িতে বসে ওই শিক্ষক বলেন, ‘আমার খুবই ভয় লাগছে। আমার স্বামী কি সঙ্গে আসবেন? আমি কি বিপদে আছি? আমার খুবই হতাশ লাগছে।’

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে এই নারী বলেন, অভিযোগকারী তাঁকে ‘ব্ল্যাকমেল’ করছেন। তিনি দেখতে সুন্দর বলেই তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও জোর দাবি করেন তিনি।

পুলিশ ফরমেলাকে আদালতে হাজির করেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী ঘটনার বর্ণনায় ফরমেলা বলেছেন, ‘একদিন ওই কিশোর তাঁর ফোন হাতে পেয়ে যায়, পাসকোড দিয়ে সেটি খুলে ফেলে এবং তাঁর ফোন থেকে নিজের ফোনে একটি বার্তা পাঠায়। এরপর তাঁর ফোন থেকে ওই বার্তা মুছে দেয়। কিন্তু তাঁকে ব্ল্যাকমেল করার জন্য নিজের ফোনে ওই বার্তা রেখে দেয়।’

ওই শিক্ষক দাবি করেন, তিনি দেখতে সুন্দর। তাই সবাই তাঁর পেছনে লাগে।

ওই নারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুটি গুরুতর অপরাধমূলক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তাঁকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, ফরমেলা স্কুল প্রাঙ্গণে যেতে পারবেন না এবং ১৮ বছরের কম বয়সী কারও সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখতে পারবেন না। তাঁকে চাকরি থেকে সবেতনে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ১ নম্বরে ‘চাঁদ মামা’, ‘কন্যা’ কত নম্বরে
  • অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
  • মাইক্রোবাসে গান বাজাতে বাজাতে প্রকৌশলীকে হত্যা 
  • মাইক্রোবাসে গান শুনতে শুনতে প্রকৌশলীকে হত্যা 
  • বন্দরে পঞ্চায়েত কমিটির দ্বন্দ্বে ঈদগায় হলনা ঈদ জামাত  
  • চলন্ত গাড়ি থামিয়ে নারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ, অভিযোগ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন
  • শুধু মা-বাবার নামটুকু বলতে পারছে আহত শিশু আরাধ্য
  • ঈদের রাতে নৈশ প্রহরীকে গুলি করে হত্যা
  • অভিষিক্ত অশ্বিনীর বলে, রায়ানের ব্যাটে মুম্বাইর প্রথম জয়
  • ঘোরাঘুরি শেষে বাসায় ফিরে ত্বকের যত্নে করণীয়