পুলিশকে গুলি ছোড়া সাজ্জাদ কেন ধরা পড়ছে না, যা জানা গেল
Published: 3rd, March 2025 GMT
পুলিশকে গুলি করে পালিয়ে যাওয়া, তিনজনকে গুলি করে খুন, ওসিকে পেটানোর হুমকি—এত অপরাধ করার পরও এখনো ধরা পড়েননি চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন। পুলিশ এক মাস আগে তাঁকে ধরতে পুরস্কারও ঘোষণা করে। কিন্তু এরপরও হদিস পাচ্ছে না। পুলিশ ধরতে না পারলেও টিকটক ও ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানান দিচ্ছেন নিজের সরব উপস্থিতি।
এই সন্ত্রাসীকে কেন ধরতে পারছে না সেই প্রশ্ন উঠে আসে আজ সোমবার চট্টগ্রাম নগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনেও। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, সাজ্জাদ অত্যন্ত কৌশলী। তাঁকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।
পুলিশ জানায়, সাজ্জাদ হোসেন বিদেশে পলাতক ‘শিবির ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত আরেক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজির ১৭টি মামলা রয়েছে। গত বছরের আগস্ট থেকে অক্টোবরে আনিস, কায়সার ও আফতাব উদ্দিন নামের তিন বালু ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার মামলার আসামি তিনি।
জানা গেছে, গত বছরের ১৭ জুলাই চান্দগাঁও থানা-পুলিশ অস্ত্রসহ সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে। পরের মাসের শুরুতে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন। বায়েজিদ বোস্তামী থানাসংলগ্ন হাটহাজারীর শিকারপুরের মো.
পলাতক সাজ্জাদ ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক সন্ত্রাসী মিজানুর রহমানের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওয়াজেদিয়া এলাকায় জড়ো হলে গত রোববার পুলিশ সেখানে গিয়ে হাজির হয়। বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তিনজনকে। তাঁরা হলেন মোহাম্মদ মিল্লাত (২৪), মোহাম্মদ আবুল হাসনাত ফাহিম (২০), মো. রুবেল (২৬)। তাঁদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৯ রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, ছুরি, কাঁচি, মুঠোফোনসহ কিছু জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মিজান ও সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। সন্ত্রাসী সাজ্জাদ সেখানে অবস্থান করছেন খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান শুরু করে। কিন্তু আগেই পালিয়ে যান তাঁরা।
এই ঘটনার পর আজ দুপুরে নগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পুলিশ। সেখানে পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আসামিরা বায়েজিদ এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জায়গা দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে লিপ্ত আছে। মিজানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ছোট সাজ্জাদের বিরোধ আছে। তাঁরা এলাকায় ছোট–বড় দালান থেকে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি করে থাকেন। আমাদের কাছে তথ্য ছিল ছোট সাজ্জাদ সেখানে আসতে পারেন। আমরা তাঁকে গ্রেপ্তারে জোর চেষ্টা চালাচ্ছি। ছোট সাজ্জাদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১৭টি এবং মিজানের বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ ১০টি মামলা রয়েছে।’
পুরস্কার ঘোষণার পরও সাজ্জাদকে কেন গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না প্রশ্নের উত্তরে উপপুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘সাজ্জাদ অত্যন্ত কৌশলী। আমরা জানতে পেরেছি দেশে রয়েছে। তাঁকে ধরতে চেষ্টা অব্যাহত আছে।’
চট্টগ্রাম নগরের পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম। আজ দুপুরেউৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: গ র প ত র কর এল ক য়
এছাড়াও পড়ুন:
সম্মানজনক বিদায় নেওয়ার ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারকে বোঝাবে বিএনপি
‘এ বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচনের বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে। নির্বাচন ডিসেম্বরের পর গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হবে। এর অর্থ কিছু অস্থিরতা হতে পারে। সম্মানজনকভাবে বিদায় নেওয়ার ব্যাপারে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করব।’ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থানরত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল মঈন খান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন।
তিনি বলেছেন, চলতি বছরের মধ্যেই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকার চায় বিএনপি। এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন না হলে ‘জনগণের মধ্যে জোরালো অসন্তোষ’ এবং দেশে অস্থিরতা তৈরি হবে। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করব যে তাদের জন্য সর্বোত্তম হলো যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দেওয়া এবং সম্মানজনকভাবে বিদায় নেওয়া।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে ‘এ বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে’ এমন বক্তব্যের পর বিএনপির পক্ষ থেকে তিনি এই সতর্কবার্তা দিলেন। বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন তিনি।
নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলে তারেক রহমান ঢাকায় ফিরতে পারেন: আবদুল মঈন খান বলেছেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলে লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ঢাকায় ফিরতে পারেন। তিনি বলেন, বিএনপির জরিপে দেখা গেছে, আগামী বছরের মধ্যে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে সহজে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি জয়ী হবে। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হওয়া আদালতের বেশ কিছু রায় উল্টে গেছে। এতে তারেক রহমানের দেশে ফেরার পথ তৈরি হয়েছে।
খালেদা জিয়ার সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা কম: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লিভার ও হৃদ্রোগে গত জানুয়ারি থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশে যেমন ছিলেন, তারচেয়ে এখন অনেকটা ভালো আছেন। তবে তাঁর সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা কম।
জোট করে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই: সাক্ষাৎকারে মঈন খান আরও বলেন, জোট করে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা বিএনপির নেই। বিএনপি যদি নির্বাচিত হয় তাহলে অন্যান্য দলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চায়। সেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টিও থাকতে পারে।