পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি কর্মসূচির আওতায় বিক্রি করা গরুর মাংসের মান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তুষ্টি ও আক্ষেপ দুটোই রয়েছে।

কেউ কেউ মাংস কিনে বলছেন, শুধু এই জায়গাতেই (অধিদপ্তরের পণ্য বিক্রির গাড়ি) ৬৫০ টাকা দিয়ে এক কেজি গরুর মাংস কেনা যায়। ঢাকার কোথাও এই দামে গরুর মাংস বিক্রি করা হয় না।

কেউ আবার আক্ষেপ করে বলছেন, এক কেজিতে প্রায় আধা কেজি পরিমাণই হাড্ডি, কলিজা কিংবা অন্য কিছু। শুধু মাংসের পরিমাণ আরও বেশি হলে মানুষ সত্যিকারভাবেই উপকৃত হতো।

আজ সোমবার খামারবাড়ি গোলচত্বরসংলগ্ন ইস্পাহানি চক্ষু হাসপাতালের সামনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সুলভ মূল্যে দুধ-ডিম-মাংস বিক্রির কর্মসূচি থেকে পণ্য কিনতে যাওয়া মানুষেরা গরুর মাংস নিয়ে এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তবে ডিম ও দুধ নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্তুষ্টি দেখা গেছে। বাজার থেকে কিছুটা কম দামে পেয়ে বাড়তি ডিম-দুধও কিনে নিচ্ছেন কেউ কেউ।

রিকশাচালক বাবুল মিয়া খালি রিকশা নিয়ে পণ্য বিক্রির গাড়ির কাছে এসে রাস্তার একপাশে দাঁড় করিয়ে সারিতে দাঁড়ালেন। তখন মানুষ কম থাকায় পণ্য কেনার সারি খুব বেশি লম্বা ছিল না। প্রায় ১০ মিনিটের মাথায় তিনটি পণ্য গাড়িতে থাকা বিক্রয়কর্মীর কাছ থেকে বুঝে নিলেন বাবুল মিয়া। পণ্যগুলো পেয়ে তাঁর মুখে হাসি হাসি ভাব।

কাছে গিয়ে কী কী কিনলেন জিজ্ঞেস করতেই জানালেন, গরুর মাংস এক কেজি, এক লিটার দুধ আর এক ডজন ডিম কিনেছেন। পকেটে আর টাকা না থাকায় মুরগি আর কেনা হয়নি বলেও জানালেন বাবুল মিয়া।

বাবুল মিয়া বলেন, তিনটা পণ্য কিনতে তাঁর প্রায় সাড়ে আট শ (৮৪৪ টাকা) টাকা লেগেছে। পকেটে এর বেশি আর টাকা ছিল না। আজকে সকাল থেকে রিকশা চালিয়ে প্রায় ৩০০ টাকা রোজগার করেছেন। এ ছাড়া আগের কয়েক দিনের কিছু টাকা জমানো ছিল।

বাবুল মিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় লাইনে দাঁড়ানো অন্যরা তাঁকে পাশ থেকে জিজ্ঞেস করছিলেন, গরুর গোশত নাকি বেশি ভালো না। কেনা কী ঠিক হবে? তাঁদের উদ্দেশ্যে বাবুলের জবাব, ‘শুধু এহানেই ৬৫০ টাকায় গরুর গোস্ত পাবেন। আর কোথাও না।’

সাড়ে ১০টার দিকে গাড়ি থেকে পণ্য কেনা এক নারীকে দুইবার বিক্রয়কর্মীর কাছ থেকে গরুর মাংসের প্যাকেট বদলে নিতে দেখা গেছে। তবুও ওই নারী অধিদপ্তরের বিক্রি করা মাংস নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। শেষে ওই নারীকে অধিদপ্তরের কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা গেছে, ‘হাড্ডি, কলিজা আর ছাবা দিয়াই ভরাই রাখসেন, আসল মাংস তো একেবারে কম। মাংস কম দিয়া গরিব মাইনসেরে ঠকাইয়া লাভ কী?’ পরে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি নাম পরিচয় জানাতে রাজি হননি।

তবে গরুর মাংস নিয়ে ওই নারীর অসন্তুষ্টি দেখে এবং ওই নারীর হাতের মাংসের প্যাকেট দেখে প্রায় ২০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে গরুর মাংস কেনার সুযোগ পেয়েও আর কেনেননি আয়েশা বেগম নামের এক নারী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাড়ে ছয় শ টাকা এ মাংস কিনলে পোষাবে না। মাংসের চাইতে অন্য কিছুই বেশি। তাই আর কিনলাম না।’ তবে মুরগি, ডিম আর দুধ নিয়ে সন্তুষ্টি জানান তিনি।

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে গিয়ে তেমন মানুষের ভিড় দেখা যায়নি। মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় সারিও খুব বেশি দীর্ঘায়িত হয়নি। লোকজন আসছিলেন, ১০-১৫ মিনিট সারিতে দাঁড়িয়ে থেকে পণ্য কেনার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছিলেন। কম থাকায় কেউ কেউ দুই ডজন ডিম কিংবা তিন লিটার পর্যন্ত দুধ কিনে নেন।

ওই জায়গায় বিক্রি তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক লিয়াকত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বিক্রি শুরু করা হয়। আজ তাঁরা খামারবাড়িতে সাড়ে ৯টায় বিক্রি শুরু করেছেন। সেখানে আজ ৬০ কেজি গরুর মাংস, ৮৮ কেজি ড্রেসড ব্রয়লার, ২১১ লিটার দুধ ও ১৮৩ ডজন ডিম (বাড়তি এক হালিসহ ২২০০পিস) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শুরুতে মানুষের উপস্থিতি বেশি ছিল বলেও জানান তিনি। ওই জায়গায় সাড়ে ১১টার দিকে গরুর মাংস শেষ হয়।

ঢাকা শহরের ২৫টি স্থানে ১ রমজান থেকে ২৮ রমজান পর্যন্ত সুলভ মূল্যে প্রাণিজাত পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এলাকাগুলো হচ্ছে সচিবালয়ের পাশে (আব্দুল গণি রোড), খামারবাড়ি (ফার্মগেট), ষাটফুট রোড (মিরপুর), আজিমপুর মাতৃসদন (আজিমপুর), নয়াবাজার (পুরান ঢাকা), বনশ্রী, হাজারীবাগ (সেকশন), আরামবাগ (মতিঝিল), মোহাম্মদপুর (বাবর রোড), কালশী (মিরপুর), যাত্রাবাড়ী (মানিক নগর গলির মুখে), শাহাজাদপুর (বাড্ডা), কড়াইল বস্তি- বনানী, কামরাঙ্গীরচর চর, খিলগাঁও (রেলক্রসিংয়ের দক্ষিণে), নাখালপাড়া (লুকাস মোড়), সেগুনবাগিচা (কাঁচাবাজার), বসিলা (মোহাম্মদপুর), উত্তরা (হাউজ বিল্ডিং), রামপুরা (বাজার), মিরপুর ১০, কল্যাণপুর (ঝিলপাড়), তেজগাঁও, পুরান ঢাকা (বঙ্গবাজার) ও কাকরাইল।

ঢাকার বাইরেও অধিকাংশ জেলা ও উপজেলা শহরে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ২৮ রমজান পর্যন্ত এই বিক্রয় কার্যক্রম চলবে। একজন ভোক্তা প্রতিটি গাড়ি থেকে ৬৫০ টাকায় ১ কেজি গরুর মাংস, ২৫০ টাকায় চামড়া ছাড়া ব্রয়লার মুরগি, ৮০ টাকায় ১ লিটার পাস্তুরিত দুধ ও ১১৪ টাকায় ১ ডজন ডিম কিনতে পারছেন।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ডজন ড ম ৬৫০ ট ক ওই ন র রমজ ন

এছাড়াও পড়ুন:

সারাদিন কাঠফাটা রোদ, রাতে কাঁথামোড়া শীত

চৈত্র মাসে কাঠফাটা রোদই স্বাভাবিক। দিনের বেলায় হচ্ছেও তাই। কিন্তু রাত নামছে ভিন্ন আয়োজনে। যেন পৌষের শীত! সকালে তার রেশ থাকে কুয়াশা হয়ে। এই চিত্র কেবল উত্তরের জেলা দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারীতে নয়; দক্ষিণের খুলনা, দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা কুষ্টিয়া, চূয়াডাঙ্গা; সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার হাওরবেষ্টিত উপজেলাগুলোর চিত্রও তাই।

বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে দেখা যায়, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এসব এলাকায় রাতে শীতের আবহ বিরাজ করছে। সকাল ঢেকে থাকছে কুয়াশায়। গতকাল বুধবার ঠাকুরগাঁওয়ে সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি।

ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে  ঠাকুরগাঁও বেড়াতে গেছেন ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। তিনি সমকালকে বলেন, ঢাকায় ফ্যান ছাড়া ঘুমাতে পারি না। আর গ্রামে এসে কাঁথা গায়ে দিয়ে ঘুমাতে হচ্ছে। ফজরের নামাজের পর কুয়াশা পড়ে। এর আগে এই সময়ে এমন ঘন কুয়াশা খুব একটা দেখা যায়নি। দিনে আবার উল্টো চিত্র; কাঠফাটা গরম।

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুস সালাম  বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে উত্তরাঞ্চলে কুয়াশার প্রভাব বেশি যাচ্ছে। এর প্রভাবে ঠাকুরগাঁও ও  পঞ্চগড় জেলায় রাতে কনকনে শীতের ভাব থাকে। তবে দিনে তাপমাত্রা বেশি থাকে। এ অঞ্চলে প্রথমবারের মতো বসন্তে শীতের কুয়াশা পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে চৈত্রের এই রূপ। কোথাও বেশি, কোথাও কম। আবার অসময়ে তাপপ্রবাহও শুরু হচ্ছে। এটিকে তারা ঋতু পরিবর্তনের ধারায় পরিবর্তন বলছেন। তাদের ভাষ্য, জলবায়ু বদলের কারণেই এমনটি হচ্ছে। এই বিরূপ প্রকৃতি উদ্বেগেরও। কারণ এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে গাছগাছালির। বাড়বে ফসলের রোগবালাই।

গতকাল সকালে পঞ্চগড়ের পথঘাটও ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল। স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক বছরে এমন কুয়াশা তারা দেখেননি। এলাকায় জ্বর, সর্দিসহ নানা রোগের কথাও জানালেন কেউ কেউ। 

আবহাওয়া অফিস জানায়, পঞ্চগড়ে গতকাল সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে মঙ্গলবার দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ বলেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আকাশে জমা মেঘ কুয়াশা হয়ে ঝরছে। আবার বাতাসে ধূলিকণা বেশি ও আর্দ্রতা কম থাকছে। আরও কয়েক দিন এমন অবস্থা চলতে পারে বলে জানান তিনি।

দিনাজপুরে কয়েক দিন ধরে দিনের বেলায় রোদে গা পুড়ে যাচ্ছে। গভীর রাতে বাড়ে ঠান্ডা। নীলফামারীতে দিনের আবহাওয়া অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও শেষ রাতে তাপমাত্রা অর্ধেকে নেমে আসে। 

রাজশাহীর গ্রামাঞ্চল কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক উম্মে ছালমা বলেন, এমন কুয়াশা রাজশাহীর আমের মুকুল ও গুটির জন্য ক্ষতিকর। আমের মুকুলে ‘পাউডারি মিলডিউ’ নামে এক ধরনের রোগ দেখা দিচ্ছে। এতে মুকুল ঝরে পড়ছে।

গত সোমবার নোয়াখালীর সুবর্ণচর হঠাৎ কুয়াশায় ঢাকা পড়ে বলে জানান স্থানীয় লোকজন। মাঝারি ও ঘন কুয়াশায় সামান্য দূরের জিনিসও দেখা যাচ্ছিল না। চৈত্র মাসে এমন ঘন কুয়াশায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বোরো চাষিরা। নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চাষি মাহফুজুল হক বলেন, এবার চার একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। বেশির ভাগ গাছে শীষ বের হয়েছে। হঠাৎ ঘন কুয়াশার কারণে চিন্তায় পড়েছি।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ছাইফুল আলম জানান, বিভিন্ন এলাকায় এক সপ্তাহ ধরে কুয়াশা পড়ার খবর পাচ্ছি। কুয়াশা দীর্ঘ সময় ধরে পড়লে বোরো ফসল ব্লাস্টে আক্রান্তের আশঙ্কা আছে।

কুয়াশা দেখে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তারা বলছে, বায়ুমণ্ডলে তাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় দিনে ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত থাকে, ভোরের দিকে শীতল হয়। ওই সময়টায় বাতাস জলীয় বাষ্প ধারণ করতে না পারায় তা কুয়াশা আকারে ভেসে বেড়ায়।

আবহাওয়াবিদরা জানান, কেবল চলতি বছর নয়, গত ১০-১২ বছর মার্চ মাসজুড়েই এমন কুয়াশা থাকছে এবং অসময়ে তাপপ্রবাহ শুরু হচ্ছে। এটিকে তারা ‘সিজনাল প্যাটার্ন চেঞ্জ’ (ঋতু পরিবর্তনের ধারায় পরিবর্তন) বলছেন। এই পরিবর্তনটাকে তারা ‘অস্বাভাবিক আচরণ’ বলে মনে করছেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ‘বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল জলবায়ু : আবহাওয়ার পর্যবেক্ষণে ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সালের প্রবণতা এবং পরিবর্তন’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও নরওয়ের পাঁচজন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ গত ৪৩ বছরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গবেষণাটি করেন। এতে দেখা যায়, প্রতি ঋতুতে তাপমাত্রা আগের তুলনায় বাড়ছে। পাশাপাশি মৌসুমি বায়ু দেরিতে প্রবেশ করায় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বর্ষাকাল পিছিয়ে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় মার্চের শেষ সপ্তাহেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে, শীত অনুভূত হচ্ছে। এর মূল কারণ হিসেবে দূষণকে চিহ্নিত করেন আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল ইসলাম বলেন, এই কুয়াশা তৈরির পেছনে বাতাসের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার পার্থক্য দায়ী। এবার রাতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার আগেই কুয়াশা তৈরি হয়ে যাচ্ছে। আর বাতাস কম থাকায় কুয়াশা সরে যেতে পারছে না। তিনি জানান, এ সময় ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং চীনেও কুয়াশা তৈরি হচ্ছে।

কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক পিএইচডি গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, এক সপ্তাহ আগে রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি হয়েছিল। ফলে ওইসব জেলার মাটিতে কিছুটা আর্দ্রতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হওয়ায় ভূপৃষ্ঠ কয়েক ডিগ্রি সেলসিয়াস ঠান্ডা হয়েছে। এর মধ্যে হঠাৎ এসব জেলার ঊর্ধ্ব আকাশ দিয়ে গরম বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। শীতকালে যেমন মানুষের মুখ ও নাক থেকে বের হওয়া গরম বাতাস বাইরের শীতল বাতাসের সঙ্গে মিশে ধোঁয়ার সৃষ্টি করে, ঠিক একইভাবে এখন শীতকালের মতো কুয়াশা সৃষ্টি হচ্ছে।

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও নীলফামারী প্রতিনিধি)

সম্পর্কিত নিবন্ধ