কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভবিষ্যতে মানুষের চেয়েও স্মার্ট হবে বলে জানিয়েছেন ইলন মাস্ক। এর ফলে এআই মানবসভ্যতার অস্তিত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন তিনি। সম্প্রতি জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স নামের এক পডকাস্টে ইলন মাস্ক বলেন, ‘আমি সব সময় মনে করি, এআই মানুষের চেয়ে অনেক বেশি স্মার্ট হবে। মানুষের অস্তিত্বের ঝুঁকি হতে পারে এআই। আর এই শঙ্কা সত্যি হতে চলেছে।’

এআইয়ের সক্ষমতা নিয়ে ইলন মাস্কের এখনো কিছুটা দ্বিধা রয়েছে। তাঁর মতে, এআইয়ের কারণে মানবসভ্যতা বিনাশের সম্ভাবনা ২০ শতাংশ হতে পারে। এবারই প্রথম নয়, গত বছর নরজেস ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিকোলাই ট্যানজেনের সঙ্গে আলোচনাকালে এআইয়ের কারণে মানবসভ্যতা ধ্বংসের সম্ভাবনা নিয়ে নিজের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন ইলন মাস্ক। সে সময় তিনি বলেন, ‘এআই আগামী দুই বছরে মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাবে। আশা করা যায় ২০২৯ বা ২০৩০ সালে এআই এমন একটি স্তরে পৌঁছাবে, যা সব মানুষের চেয়ে বেশি স্মার্ট হবে। এআইয়ের কারণে মানবসভ্যতার অস্তিত্ব ধ্বংসের সম্ভাবনা ১০ থেকে ২০ শতাংশ।’

আরও পড়ুন২৬ বছর আগের ইলন মাস্কের যে ‘প্রলাপ’ এখন বাস্তব ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪

ইলন মাস্কসহ প্রযুক্তি–দুনিয়ার অনেকেই এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করা প্রকাশ করেছেন। নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী জিওফ্রে হিন্টনের মতে, এআইয়ের কারণে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে মানবসভ্যতা বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশের মতো। অপর দিকে এআই নিরাপত্তা গবেষক রোমান ইয়াম্পলস্কির মতে, এআইয়ের কারণে মানবসভ্যতা ধ্বংসের সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ।

আরও পড়ুনপৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কীভাবে পরিচালিত হয় ইলন মাস্কের স্টারলিংক২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

এআইয়ের কারণে মানবসভ্যতা ধ্বংসের সম্ভাবনা থাকলেও ইলন মাস্ক অলাভজনক ওপেন সোর্সনির্ভর এআই কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছিলেন ২০১৬ সালে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের অন্যতম সহ–প্রতিষ্ঠাতাও ইলন মাস্ক। বিভিন্ন কারণে চ্যাটজিপিটি ছেড়ে এলেও নিজের মালিকানাধীন এক্স এআইয়ের মাধ্যমে গ্রোক এআই চ্যাটবট তৈরি করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নে কাজ করছেন তিনি।

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

আরও পড়ুনইলন মাস্কের পাঁচটি ব্যর্থতা এবং সেসব কাটিয়ে ওঠার গল্প০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ইলন ম স ক র

এছাড়াও পড়ুন:

নতুন দাঁত গজাবে মানুষের

মানুষের হাড় ভেঙে গেলে তা পুনরায় বৃদ্ধি পায়, ঠিক হয়ে যায়। দাঁত সে ক্ষেত্রে মানবশরীরের ভিন্ন একটি অঙ্গ, যা একবার পড়ে গেলে আর ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। এর ফলে বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ মানুষ একধরনের ইডেন্টুলিজম বা দাঁতহীনতায় ভুগছেন। জাপানি গবেষকেরা একটি পুনরায় দাঁত-উত্পাদনকারী ওষুধ মানবশরীরে পরীক্ষা করবেন বলে জানা গেছে। যদি পরীক্ষা সফল হয়, তাহলে ওষুধটি ২০৩০ সালের কাছাকাছি সময়ে সব ধরনের দাঁতহীনতার সমস্যা দূর করতে পারে।

সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে ২০৬টি হাড় থাকে। ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ পদার্থ ও কোলাজেনের শক্ত মিশ্রণে তৈরি হয় দাঁত। দাঁত অবিশ্বাস্য রকমের স্থিতিস্থাপক একটি অঙ্গ। যদি একবার দাঁত ভেঙে যায়, তাহলে দাঁত নিজে থেকে বিকাশের সুযোগ নেই মানবশরীরে।

দাঁত মানবদেহের সবচেয়ে কঠিন উপাদান এনামেল দিয়ে তৈরি হয়। দাঁতের নিরাময় ও পুনরায় বৃদ্ধি করার ক্ষমতা নেই। জাপানি গবেষকেরা একটি পরীক্ষামূলক ওষুধ নিয়ে কাজ করছেন, যা মানুষের দাঁত পুনরায় বৃদ্ধি করার সুযোগ করে দিচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মানুষের ওপরে এই ওষুধের পরীক্ষা করা হয়। জাপানের ওসাকার কিতানো হাসপাতালের মেডিকেল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী কাতসু তাকাহাশি বলেন, ‘যাঁরা দাঁতের ক্ষতি বা অনুপস্থিতিতে ভুগছেন, তাঁদের সাহায্য করার জন্য কিছু করতে চাই।’

নিরাময়ের চেয়ে দাঁতের বৃদ্ধির দিকে আগ্রহ বেশি মানুষের। ইউটারিন সেনসিটাইজেশন-সম্পর্কিত জিন-১ (ইউএসএজি-১) নামের একটি বিশেষ অ্যান্টিবডি নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। এই অ্যান্টিবডি ইঁদুরের দাঁতের বৃদ্ধিকে বাধা দেয়। ২০২১ সাল থেকে কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা মানুষের জন্য পরীক্ষা করতে কাজ শুরু করেন। মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি নামের একটি কৌশল আবিষ্কার করা হয় তখন। এটি জিন ও হাড়ের বোন মরফোজেনেটিক প্রোটিন বা বিএমটি নামে পরিচিত অণুর মধ্যে মিথস্ক্রিয়াকে ব্যাহত করে।

বিজ্ঞানীরা অ্যান্টিবডি দমন করে দাঁতের বৃদ্ধি নিয়ে পরীক্ষা করছেন এখন। ১১ মাস ধরে দাঁতের এই গবেষণায় ৩০ থেকে ৬৪ বছর বয়সী ৩০ জন পুরুষের ওপর নজর রাখা হয়। সব অংশগ্রহণকারীর অন্তত একটি দাঁত অনুপস্থিত ছিল। নতুন ওষুধটি শিরার মধ্য দিয়ে মানবশরীরে প্রেরণ করা হয়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে কিটানো হাসপাতালে দুই থেকে সাত বছর বয়সী রোগীদের দাঁতের চিকিত্সায় এই ওষুধ ব্যবহার করা হবে। ২০৩০ সাল নাগাদ সবার জন্য এই ওষুধ উপলব্ধ করতে চান বিজ্ঞানীরা। জন্মগত দাঁতহীন অবস্থা থেকে দাঁতের সমস্যায় এই ওষুধ ব্যাপক আকারে ব্যবহার করতে চান বিজ্ঞানীরা।

সূত্র: পপুলার মেকানিকস

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • যে পেশা ছাড়া প্রায় সব এআই দখল করে নেবে
  • নতুন দাঁত গজাবে মানুষের