যতদিন বেঁচে থাকি,অভিজ্ঞতাকে আরও কাজে লাগাতে চাই:শেখ সাদী খান
Published: 3rd, March 2025 GMT
‘তুমি রোজ বিকেলে আমার বাগানে ফুল নিতে আসতে’, ‘হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে’, ‘তোমার চন্দনা মরে গেছে’, ‘আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়’, ‘ডাকে পাখি খোল আঁখি’, ‘একি খেলা চলছে হরদম’, ‘কাল সারা রাত ছিল স্বপ্নেরও রাত’সহ অসংখ্য শ্রোতানন্দিত গানের সুরস্রষ্টা শেখ সাদী খান। স্বাধীনতা পরবর্তী যে ক’জন সুরকার আধুনিক বাংলা গানের সুরের জগতে নতুন ধারা তৈরি করেছেন তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। জীবন্ত এ কিংবদন্তি আজ ৭৫ বছরে পা রাখছেন। জন্মদিনে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো আয়োজন নেই এবার। একেবারেই ঘরোয়াভাবে দিনটি উদযাপন করবেন তিনি।
জন্মদিন প্রসঙ্গে শেখ সাদী খান বলেন, ‘৭৫-এ পা দিয়েছি। জীবন থেকে কখন যে এতগুলো দিন চলে গেলো টেরই পাইনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জীবনের এই বিশেষ দিনটি কাটাবো। আগে বাইরে জন্মদিন উদযাপন হতো। বিভিন্ন চ্যানেলে থাকতো আয়োজন। এগুলো না করার জন্য নিষেধ করেছি। মানুষ যেন দোয়া করে এটাই চাই। যতদিন বাঁচি যেন সুস্থ থেকে ভালো কিছু কাজ করে যেতে পারি-এটাই প্রত্যাশা। এখনো অনেক স্বপ্নপূরণ বাকি, কিছু ভালো ভালো কাজ করার বাকি আছে।’
জন্মদিনের উপলব্দি নিয়ে তিনি বলেন, ‘জন্মদিন মানে জীবন থেকে একটি বছর খসে যাওয়া। আমরা সামনের দিকে যাচ্ছি,মানে জীবন থেকে একটি বছর কমে যাচ্ছে। এটি মাঝে মাঝে মাথায় জেঁকে বসে। জীবন তো চলে যাচ্ছে। ক্রমেই কাছে আসছে নির্দিষ্ট গন্তেব্যে যাওয়ার জন্য। যতদিন বেঁচে থাকি, ততটুকু সময় ভালো কিছু করতে চাই। সেটিই প্রাপ্তি। অন্তরের শান্তির । নিজের অভিজ্ঞতাকে আরও কাজে লাগাতে চাই।’
দেশ স্বাধীনের আগে ‘যা যারে যারে পাখি’ গানে শেখ সাদী খান প্রথম সুর করেন। এর পর ১৯৬৮ সালে মোস্তফা কামাল সৈয়দ প্রযোজিত বিটিভির ‘সুর সাগর’ অনুষ্ঠানে শেখ সাদী খানের সুরে গানে কন্ঠ দেন প্রয়াত আব্দুল জব্বার ও আরতি ধর। ১৯৮০ সালে প্রয়াত আব্দুল্লাহ আল মামুনের পরিচালনায় ‘এখনই সময়’ সিনেমার সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এ সিনেমায় সাবিনা ইয়াসমিনের কন্ঠে ‘জীবন মানে যন্ত্রণা’, আবিদা সুলতানার কন্ঠে ‘একটা দোলনা যদি’ গান দুটির শেখ সাদী খানকে অন্যরকম জনপ্রিয়তা পাইয়ে দেয়। এখন পর্যন্ত ১০৫টিরও বেশি সিনেমায় সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। সুর করেছেন ৮০০০ হাজারেরও বেশি গান। ‘ঘানি’ ও ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায়না’সিনেমার সংগীত পরিচালনার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালে তিনি লাভ করেন একুশে পদক।
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: ক জ কর
এছাড়াও পড়ুন:
বাংলাদেশি ভেবে বিএসএফের গুলি, ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে এক ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার গোরকমন্ডল সীমান্তের ৯২৯ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের ৩ নম্বর সাব পিলারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে ভারতের ভূখণ্ডে মরাকুটি (ভোরাম পয়োস্তি) এলাকায় ওই চোরাকারবারীর মরদেহ দেখেন বাংলাদেশিরা। ৪ ঘণ্টা ধরে সেখানে পড়েছিল ভারতীয় ওই চোরাকারবারীর মরদেহ। পরে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। এ নিয়ে ওই সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
নিহত যুবকের নাম জাহানুর আলম (২৪)। তিনি ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার গিদালদহ এলাকার মরাকুটি ভোরাম পয়োস্তি গ্রামের কবিদুল ইসলামের ছেলে।
সীমান্তবাসীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসাসহ গরু পারাপারে জড়িত ছিলেন তিনি।
সীমান্তে বসবাসকারী সায়েদ আলী ও হয়রত আলী জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে উভয় দেশের একদল চোরাকারবারী ওই সীমান্ত দিয়ে গাঁজা ও গরু নিয়ে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করে। এ সময় ভারতীয় ভারবান্দা ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে ৬ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে ভারতীয় চোরাকারবারী জাহানুর গুলিবৃদ্ধ হয়। সেখানে পড়ে থাকা অবস্থায় অনেকবার চিৎকার করলেও সহযোগীরা তাকে উদ্ধার না করায় ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি। গুলির শব্দ পেয়ে বাকি চোরাকারবারীরা পালিয়ে যান।
এ দিকে নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির পক্ষে গোরকমন্ডল ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার ফিরোজ এবং বিএসএফের পক্ষে ৩ বিএসএফ ব্যাটলিয়নের অধীন ভারবান্দা গিদালদহ ক্যাম্পের কমান্ডার গিরিশ চন্দ্র নেতৃত্ব দেন। পতাকা বৈঠকের পর সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ নিয়ে যায় বিএসএফ।
এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, বিএসএফের কাছে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়- ভোরের দিকে একদল ভারতীয় নাগরিক টহলরত বিএসএফ পোস্টে হামলা চালায়। তখন আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে এক ভারতীয় হামলাকারী নিহত হয়। বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীন। এর সঙ্গে বাংলাদেশ বা বিজিবির কোনও সমৃক্ততা নেই। তারপরও সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।