সোসিয়েদাদকে উড়িয়ে রিয়ালের সঙ্গে ব্যবধান বাড়াল বার্সেলোনা
Published: 3rd, March 2025 GMT
লা লিগার শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করলো বার্সেলোনা। রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টানা সপ্তম জয় তুলে নিয়েছে হ্যান্সি ফ্লিকের দল। ২৬ ম্যাচ শেষে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে এখন এককভাবে শীর্ষে আছে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের চেয়ে তারা এক পয়েন্ট এগিয়ে, আর ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ, যারা শনিবার রিয়াল বেতিসের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে।
ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য সোসিয়েদাদ গোলের দেখা পেয়েছিল, তবে জাভি লোপেসের সেই গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপর ১৭ মিনিটে দানি ওলমোকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন সোসিয়েদাদের আরিৎস এলুসতোন্দো, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বার্সেলোনা এরপর ম্যাচে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে।
২৫ মিনিটে লামিনে ইয়ামালের দারুণ ড্রিবলিং থেকে বল পান দানি ওলমো, যিনি চিপ পাস বাড়ান জেরার্ড মার্টিনের উদ্দেশে। মার্টিন নিখুঁত কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন। মাত্র চার মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বার্সেলোনার যুব অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা মার্ক কাসাদো। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও ওলমোর নেয়া শট কাসাদোর হাঁটু ছুঁয়ে জালে প্রবেশ করে।
৫৬ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বলে প্রথমে হেড করেছিলেন লেভান্ডোভস্কি, তবে সোসিয়েদাদ গোলরক্ষক ফিরিয়ে দেন। তবে ফিরতি বলে হেড করেই জালে পাঠান রোনাল্ড আরাউহো। এরপর আরেকটি গোলের সুযোগ তৈরি করেন আরাউহোই। তার শটে আলতো ছোঁয়া দিয়ে বলের দিক পরিবর্তন করে জালে পাঠান রবার্ট লেভান্ডোভস্কি, যা এবারের লিগে তার ২১তম গোল।
.উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
তৃতীয় দিনটা বৃষ্টি আর নাজমুলের
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মাঠেই ছিলেন আম্পায়াররা। আকাশ পরিষ্কার হয়ে আলোর সংকট কাটে কিনা সেটি দেখতে মিনিট দশেক অপেক্ষা করেছেন তাঁরা। এরপর ঘোষণা দিয়েছেন আজ আর খেলা সম্ভব নয়।
দেরিতে শুরু আর আগেভাগেই শেষ হওয়া সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনটা বাংলাদেশ শেষ করেছে ৪ উইকেটে ১৯৪ রান নিয়ে। জিম্বাবুয়ের চেয়ে এখন ১১২ রানে এগিয়ে নাজমুল হোসেনের দল। দলের ভরসা হয়ে টিকে আছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। আগামীকাল চতুর্থ দিনটা ৬০ রানে শুরু করবেন নাজমুল। অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেটে তাঁর সঙ্গী জাকের আলী অপরাজিত ২১ রানে।
বৃষ্টির কারণে দিনের খেলা শুরু হয় দুপুর ১টা। এরপর খেলা হতে পারে ৪৪ ওভার। ১ উইকেট ৫৭ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ যোগ করতে পেরেছে ১৩৭ রান।
বৃষ্টিভেজা দিনে ইনিংসের শুরুতে নাজমুল বোলারদের ওপর চড়াও হলেও ধীরে ধীরে ফিরেছেন প্রথাগত টেস্টে মুডে। বিশেষ করে ২৬ রানের একবার জীবন পাওয়ার পর। জিম্বাবুয়ের দুই পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি ও ভিক্টর নিয়াউচি নাজমুলকে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠার প্ররোচনা দিয়েছেন বারবারই।
উদাহরণ হিসেবে ইনিংসের ৩৫তম ওভারের কথা বলা যেতে পারে। নিয়াউচির করা সেই ওভারে ষষ্ঠ-সপ্তম স্টাম্পের পাঁচ–পাঁচটি বল ছেড়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। পুরো ইনিংসে অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বলগুলোতে ছিলেন বাড়তি সতর্ক। ভুল যে করেননি তা নয়!
৩৮তম ওভারে মুজারাবানির অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়ায় দ্বিতীয় স্লিপের পাশ দিয়ে বল যায় বাউন্ডারিতে। তৃতীয় স্লিপ থাকলে অনায়াসে হতে পারত ক্যাচ। তবে দ্বিতীয় স্লিপে থাকা শন উইলিয়ামসের হাতে লেগে বল চলে যায় বাউন্ডারিতে। এরপর ব্যাট ছুড়ে নাজমুল যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তাতেই বোঝা গেছে নাজমুলের আজ ভুল করতে মানা! প্রথম ইনিংসে মুজারাবানির অফ স্টাম্পের বাইরের বলে মারতে গিয়ে ৪০ রানে আউটের পরই হয়তো এই উপলব্ধি তাঁর।
নাজমুল যা পেরেছেন সিলেটে আজ তা পারেননি মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম। দুজনের বিষয়টি অবশ্য ভিন্ন। বাঁহাতি মুমিনুল সকাল থেকে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ড টেনেছেন। তবে ব্যক্তিগত ৪৭ রানে মনযোগ হারান এই ব্যাটসম্যান। নিয়াউচির অফ স্টাম্পের বাইরে পাতা ফাঁদে ধরা পড়েন মুমিনুল।হক। ক্যাচ দেন নিয়াশা মায়াভোর গ্লাভসে।
অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বল ঠিকঠাক খেলতে পারেননি মুমিনুল। ব্যাটে লেগে ক্যাচ যায় উইকেটরক্ষক মায়াভোর কাছে। ভাঙে ৯১ বল স্থায়ী ৬৫ রানের জুটি।
মুশফিক ফেরেন এর পরপরই। ব্লেসিং মুজারাবানির অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরে বসেন মুশফিক। ৪ রান করা মুশফিকের সহজ ক্যাচ নেন আরভিন।
দিনের বাকি যে সময়টুকুতে খেলা হয়েছে, তাতে ভালোভাবেই সামলেছেন নাজমুল ও জাকের আলী। ১০৩ বলে ৭ চারে ৬০ রানে খেলছেন নাজমুল । ৩ চারে ৬০ বলে জাকের আলীর রান ২১।
সংক্ষিপ্ত স্কোরবাংলাদেশ: ১৯১ ও ৫৭ ওভারে ১৯৪/৪ (সাদমান ৪, মাহমুদুল ৩৩, মুমিনুল ৪৭, নাজমুল ৬০*, মুশফিক ৪, জাকের ২১*; মুজারাবানি ৩/৫১, নিয়াউচি ১/২৮)।জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ২৭৩।
(তৃতীয় দিন শেষে)