Prothomalo:
2025-04-03@15:55:45 GMT

রুপন্তি যখন প্রেরণা

Published: 3rd, March 2025 GMT

সিডনিতে প্রথম দিনেই আলোচনায় হিন্দি ভিন্দি; এ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন রুপন্তি আকিদ। অস্ট্রেলিয়া-ভারত যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত আলী সায়েদ পরিচালিত এ ছবিতে রিয়ানা চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই অভিনেত্রী। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ছবিটি অস্ট্রেলিয়ায় মুক্তি পেয়েছে।
রুপন্তির এ সাফল্যে সিডনির বাংলাদেশিরা গর্বিত। এখন সিডনিতে রয়েছেন বাংলাদেশের অভিনেতা মাজনুন মিজান। তিনি প্রিমিয়ার শোতে আমন্ত্রিত হয়ে ছবিটি দেখেছেন। মিজান বলেন, ‘রুপন্তি আমাদের গর্ব। ও ভালো অভিনয় করে, তা আমি জানি। কিন্তু এ ছবিতে ও আরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। তার এ সাফল্য আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণা।’

অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি প্রযোজক ও সমাজকর্মী রইসুদ্দীন রাসেল বলেন, ‘রুপন্তির অভিনয়ে একটি স্বাভাবিক দক্ষতা আছে। তিনি যে চরিত্রেই অভিনয় করেন, জীবন্ত হয়ে ওঠে। এ চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয়দক্ষতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। শুধু একজন অভিনেত্রী নন, তিনি আমাদের সংস্কৃতির প্রতিনিধি।’ প্রবাসীরা বলছেন, রুপন্তি আকিদের এ সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, দক্ষিণ এশীয় তরুণদের জন্য প্রেরণা হয়ে থাকবে।

সিডনির স্থানীয় থিয়েটার ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দিয়ে রুপন্তি আকিদের অভিনয়যাত্রা শুরু। অস্ট্রেলিয়ার বহুসংস্কৃতির পরিবেশে নিজের প্রতিভাকে তিনি বিকশিত করেছেন। স্থানীয় থিয়েটার গ্রুপ ও কমিউনিটি আয়োজনে নিয়মিত অংশ নিয়ে সিডনির বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির মধ্যে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

রুপন্তী আকিদ.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

‘আর কোনো দিন বাবার সঙ্গে কথা বলতে পারব না’

‘‘যাওয়ার সময় বাবা বলেছিল, তুই যাবি নে? আমি বলেছিলাম, না বাবা আমার শরীর খারাপ। বমি হচ্ছে, আমি যাব না। বাবা বলেছিল, আর কোনো জায়গায় তোকে নিয়ে যাব না। ওই দিন বাবার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। আর কোনো দিন কথা বলতে পারব না বাবার সঙ্গে। বাবা আমারে কয়ে থুয়ে গেছিল, তুই থাকিস আমি আসবনে।’’ 

বাবার মরদেহের পাশে বসে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিল চট্টগ্রামের জাঙ্গালিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কুষ্টিয়ার আশীষ মন্ডলের ৯ বছরের মেয়ে আনুশকা মন্ডল পরী।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে আশীষের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স কুষ্টিয়া শহরের কুমারগাড়া ঘোষপাড়ায় বাড়িতে পৌঁছালে তার স্বজনেরা আহাজারি করতে থাকেন। তাকে শেষবারের মতো এক নজর দেখার জন্য ভিড় করে এলাকাবাসী। বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন আশীষের স্ত্রী। স্বজনেরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিলেন। সে সময় পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন আশীষের শ্বশুর মিহির বিশ্বাস। 

আরো পড়ুন:

চট্টগ্রামে সড়কের সেই অংশে লাল পতাকা স্থাপন

মোটরসাইকেলে এক পরিবার, যশোরে বাসের ধাক্কায় শেষ তিনজন

কথা হলে চোখ মুছে তিনি বলেন, ‘‘গত রবিবার (৩০ মার্চ) কুষ্টিয়া থেকে আশীষ তার ভাইয়ের ছেলে দুর্জয়কে নিয়ে পিকনিকে যাওয়ার জন্য ঢাকায় বোনের বাড়িতে যায়। সেখানে থেকে বোন সাধনা রানী মন্ডল, ভগ্নিপতি দিলীপ কুমার বিশ্বাস, ভাগনি আরাধ্য বিশ্বাসসহ কয়েকজন মাইক্রোবাসে কক্সবাজার যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে আশীষ, তার বোন ও ভগ্নিপতির মৃত্যু হয়।’’ ওই সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১০ জন মারা যায়। 

তিনি বলেন, ‘‘আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আশীষের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছেছে। এখন কীভাবে চলবে এই পরিবার এই ভেবে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ছে।’’

স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশীষ মন্ডল স্থানীয় বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। কর্মস্থলের কাছাকাছি কুষ্টিয়া শহরের নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। খুব ছোটবেলায় মামা তাকে গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছিলেন। সেই সূত্রে মামা বাড়ির পাশেই জমি কিনে স্থায়ী বসবাস করছেন। নিহত আশীষ মন্ডল কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মৃত যতীন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে। 

এদিকে, ভাগনেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মামা গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস। কথা হলে তিনি বলেন, ‘‘আশীষের যখন দেড় বছর বয়স, তখন আমি তাকে আমার কাছে নিয়ে এসেছি। সন্তানের মতো কোলে-পিঠে করে তাকে বড় করেছি।’’

কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পড়াশোনা করে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করছিল আশীষ। বিবাহিত জীবনে তার ৯ বছরের একটি মেয়ে আছে। 

ঢাকা/কাঞ্চন/বকুল

সম্পর্কিত নিবন্ধ