চট্টগ্রামে পরোয়ানাভুক্ত আসামির খোঁজ নিতে আসা পুলিশের তথ্য সংগ্রহের মুখে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক মুদি দোকানি। রোববার বিকেলে নগরের খুলশী থানার কুসুমবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত লাল মিয়া (৬০) বরিশালের বাসিন্দা। তিনি পরিবার নিয়ে কুসুমবাগ আবাসিক এলাকায় থাকতেন। একই আবাসিকের রাজীব ভবনের নিচতলায় তার মুদি দোকান রয়েছে।

পুলিশের দাবি, পরোয়ানাভুক্ত এক আসামির বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। তবে স্বজনদের দাবি, তথ্য সংগ্রহে পুলিশের জোরাজুরিতে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে কোন অভিযোগ করেননি মৃতের পরিবার।

লাল মিয়ার শ্যালকের ছেলে মো.

শরিফ বলেন, ‘বিকেলে একটি মামলার বিষয়ে খোঁজ নিতে দুইজন পুলিশ দোকানে আসেন। এসময় আমার ফুফা ভয়ে অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে জিইসি মোড়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা বলেছেন, তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছি পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে চাননি তিনি। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা তাকে কথা বলতে জোর করেন।’

খুলশী থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, ‘পরোয়ানাভুক্ত এক আসামির তথ্য সংগ্রহ করতে পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়েছিল। আসামির বিষয়ে লাল মিয়ার কাছে তথ্য জানতে চাইলে তিনি মাথা ঘুরে পড়ে যান। তিনি বয়স্ক মানুষ। স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাই হয়ত ভয় পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।’

তবে লাল মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই বলে জানান ওসি। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগও করা হয়নি।

উৎস: Samakal

এছাড়াও পড়ুন:

কালশী ফ্লাইওভারে প্রাইভেটকার-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, ২ তরুণ নিহত

রাজধানীর পল্লবীর কালশী ফ্লাইওভারে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই তরুণ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তাদের মধ্যে একজন ফ্লাইওভার থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। 

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, গুরুতর আহত দুজনকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। তারা মারা গেছেন কি-না পুলিশ এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী প্রাইভেটকারচালক আহসান হাবিব সাংবাদিকদের বলেন, মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন দুই তরুণ। একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে সংঘর্ষের পর মোটরসাইকেলের পেছনে বসা তরুণ ফ্লাইওভার থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যান। আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলটি চুরমার যায়। আহত চালক ফ্লাইওভারে পড়েছিলেন। তার অবস্থাও ছিল আশঙ্কাজনক। সংঘর্ষের পর গাড়িটি ফ্লাইওভারের রেলিংয়ে ধাক্কা লেগে দুমড়েমুচড়ে গেছে। 

নাইম মাহমুদ নামে আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ফেসবুকে প্রায় একইরকম বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে বারবার কল দেওয়া হয়। তবে তারা সাড়া দিতে অনেক দেরি করে। পরে কিছু লোক পল্লবী থানায় যায়। তবে ততক্ষণে থানা পুলিশ রওনা হয়ে গিয়েছিল।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিহত দুই তরুণের বয়স আনুমানিক ২০ বছর।

সম্পর্কিত নিবন্ধ