শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া এলাকায় ডাকাতি করে পালানোর সময় গণপিটুনিতে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পালং মডেল থানায় শনিবার (১ মার্চ) রাতে ডাকাতি ও গণপিটুনির ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা দুটি দায়ের করেন। 

ডাকাতির মামলায় গণপিটুনিতে আহত পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো ৮-১০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তিনি হলেন এবাদুল বেপারী। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কানারগাঁও এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একদল সংঘবদ্ধ ডাকাত মাদারীপুরের কালকিনির রাজারচর এলাকায় কীর্তিনাশা নদীতে বাল্কহেডে ডাকাতির চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া দেয়। তখন ডাকাতরা ফাঁকা গুলি ছোড়ে। গুলিতে বাল্কহেডের শ্রমিক পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার মাসুম মিয়া (৩০) ও পিরোজপুরের কালিকাঠীর আলামিন ফকির (১৯) গুলিবিদ্ধ হয়। পরে ডাকাতরা পালিয়ে শরীয়তপুরের আঙ্গারিয়ার ভাসানচর এলাকায় ঢুকে পড়ে। এরই মধ্যে ডাকাতির খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা সতর্ক হয়ে যায়। ওইখানে বাল্কহেডের শ্রমিকরা ডাকাতদের বাধা দেয়। পরে ডাকাতরা আবার কীর্তিনাশা নদী দিয়ে পালানোর সময় রাজগঞ্জ এলাকা দিয়ে নদীপথে বের হওয়ার চেষ্টা করে। তবে স্থানীয়রা বাল্কহেড দিয়ে ডোমসার এলাকার তেঁতুলিয়া গ্রামের নদীপথ আটকে দেয়। বাধা পেয়ে ডাকাতরা স্পিডবোট তীরে রেখে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাদের ধাওয়া করে। এ সময় ডাকাতরা হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এবং এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এ সময় ডাকাতদের গুলিতে বাল্কহেডের শ্রমিক ডোমসার মোল্লা কান্দি এলাকার তোতা মিয়া (৩৫) ও স্থানীয় একজন আহত হয়। পরে স্থানীয় জনতা ডাকাতদের ঘেরাও করে সাতজনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়।

গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলে দুইজনের মৃত্যু হয় এবং শনিবার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজনের মৃত্যু হয়। আহত পাঁচজনকে বর্তমানে পুলিশ পাহারায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ডাকাতির মামলার আসামিরা হলেন, মুন্সিগঞ্জের কালিয়ারচরের রিপন (৪০), বাংলাবাজার এলাকার রাকিব গাজী (৩০), শরীয়তপুরের জাজিরার কুন্ডেরচরের আনোয়ার দেওয়ান (৫০), নাড়িয়ার নশাশন মাঝিকান্দি এলাকার সাঈদ (২৫) ও মাদারীপুরের শিবচরের কুতুবপুর এলাকার সজীব (৩০)। তাদের মধ্যে চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, একটি কার্তুজ ও একটি স্পিডবোট উদ্ধার করেছে। গণপিটুনির মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। 

এ ব্যাপারে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.

মিতু আক্তার বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে আনা চারজনকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে তাদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, ডাকাতি ও গণপিটুনির ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। যেহেতু তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাই হত্যা মামলার প্রস্তুতিও চলছে। নিহতদের মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে হস্তান্তর করা হবে।

ঢাকা/আকাশ/বকুল

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর গণপ ট ন ত এল ক র র এল ক

এছাড়াও পড়ুন:

মা-বাবার সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় মা-বাবার সঙ্গে গোসল করতে নেমে মালিহা (৮) নামের এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১টার দিকে নানা বাড়িতে জম্বদ্বীপ খালে গোসল করতে নেমে সে নিখোঁজ হয়।

মালিহা ওই গ্রামের মৃত বাদশা খানের নাতি ও মৎস্যজীবী মো. রাসেলের মেয়ে। সে স্থানীয় জম্বদ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। 

জানা যায়, বুধবার দুপুর ১টার দিকে নানা বাড়ির সামনে জম্বদ্বীপ খালে গোসল করতে নামলে জোয়ারের স্রোতে তলিয়ে যায় মালিহা। এ সময় বাবা-মা ও দুই খালা তাকে উদ্ধারে খালে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু তাকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন। পরে খবর পেয়ে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে অভিযান শুরু করলেও তার কোনো সন্ধান পায়নি।

বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ষ্টেশনের লিডার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, স্কুলছাত্রীর খালে ডুবে যাওয়ার খবর পেয়ে বরিশালে ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়। তারা এসে কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা করেও নিখোঁজ শিশুর কোনো সন্ধান পায়নি। সন্ধ্যা নদী লাগোয় ওই শাখা খালে তীব্র স্রোতের কারণে শিশুটি ভেসে যেতে পারে বলেও তার ধারণা।

সম্পর্কিত নিবন্ধ