কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে গুগল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে গুগল। এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে ব্যাপক অর্থ বরাদ্দ করেছে তারা। গুগল ‘পিপল অপারেশনস’ এবং ক্লাউড সংস্থাগুলোর কর্মীদের গত সপ্তাহে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে। অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে গুগল এ কাজ করতে যাচ্ছে। সিএনবিসি এক খবরে এসব তথ্য জানিয়েছে। গত বুধবার ব্লুমবার্গ গুগলের ক্লাউড বিভাগে কর্মী ছাঁটাইয়ের কথা জানিয়েছে।

গত মঙ্গলবার গুগলের মানবসম্পদ বিভাগের (এইচআর) প্রধান ফিওনা সিকোনির জারি করা একটি স্মারক পেয়েছে সিএনবিসি। স্মারক অনুসারে, গুগল এই মার্চের শুরু থেকে পিপল অপারেশনস, গুগলের মানবসম্পদ বিভাগের মার্কিনভিত্তিক পূর্ণ সময়ের কর্মীদের চাকরি ছাড়ার অফার দেবে এবং এ জন্য ‘ভলান্টারি এক্সিট প্রোগ্রাম’ নামের একটি কর্মসূচিও তৈরি করেছে।

আরও পড়ুনপল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়া নেবে ৫৪ জন২ ঘণ্টা আগে

অর্থ বিভাগের প্রধান আনাত আশকেনাজি বলেছেন, তাঁর শীর্ষ অগ্রাধিকারের মধ্যে একটি হচ্ছে ২০২৫ সালে গুগল এআই অবকাঠামোতে তার ব্যয় সম্প্রসারণ করবে। এর সঙ্গে অগ্রাধিকার আরও ব্যয় হ্রাস করা। ৩ ফেব্রুয়ারি কোম্পানি চতুর্থ ত্রৈমাসিকের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গুগল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। আশকেনাজি বলেন, গুগলের এআইয়ের জন্য তীব্র চাহিদা রয়েছে।
এইচআরের ওই স্মারক অনুযায়ী, লেভেল ৪ এবং লেভেল ৫-এর কর্মীরা ১৪ সপ্তাহের বেতন এবং কিছু সুবিধা পাবেন।

আরও পড়ুনআজ থেকে ৪০ দিনের ছুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে৬ ঘণ্টা আগে

গুগলের মুখপাত্র ব্র্যান্ডন অ্যাসবেরি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমাদের বিভিন্ন দলকে আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার জন্য এবং দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে নিশ্চিত করার জন্য পরিবর্তনগুলো অব্যাহত রাখতে হচ্ছে।’

এ বছরের জানুয়ারিতে গুগলের নির্বাহীরা বলেছিলেন, তাঁরা প্রত্যাশিত কাটছাঁটের আগে কোম্পানির ‘প্ল্যাটফর্ম এবং ডিভাইস’ ইউনিটের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কর্মীদের ছাটাইয়ে প্রস্তাব দেবেন। এ ইউনিটে ২৫ হাজারের বেশি পূর্ণকালীন কর্মচারী আছেন যাঁরা অ্যান্ড্রয়েড, ক্রোম, ক্রোমওএস, গুগল ফটোস, গুগল ওয়ান, পিক্সেল, ফিটবিট এবং নেস্টে কাজ করেন।

গত কয়েক বছরে গুগল একাধিকবার কর্মী ছাঁটাই করেছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি ১২ হাজার কর্মী ছাঁটাই করে, যা তাদের মোট কর্মী সংখ্যার ৬ শতাংশ। এই ছাঁটাইয়ের পেছনে ছিল খরচ কমানো এবং এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা।

আরও পড়ুনকারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে বিশাল নিয়োগ, সংশোধিত পদ ৭৫১০১ মার্চ ২০২৫

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গুগল আবার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয়। ব্যবস্থাপক, পরিচালক ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদমর্যাদার কর্মীদের মধ্যে ১০ শতাংশ ছাঁটাই করা হয়। এ পদক্ষেপের পেছনে ছিল কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি ও খরচ কমানোর উদ্যোগ।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: কর ম দ র র কর ম

এছাড়াও পড়ুন:

সহযোগিতা বাড়াতে চায় ৩ দেশের স্টক এক্সচেঞ্জ

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার অংশ হিসেবে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের তিন প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ। গত ২৭ মার্চ শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এবং পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ (পিএসএক্স)। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ডিএসই।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কলম্বোতে অনুষ্ঠিত সমঝোতা স্মারক স্মাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান দিলশান উইরসেকারা এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অব পাকিস্তানের চেয়ারম্যান আকিফ সাইদ। ডিএসইর প্রতিনিধি দলে ছিলেন পরিচালক শাকিল রিজভী, মিনহাজ মান্নান ইমন, রিচার্ড ডি’ রোজারিও এবং কোম্পানি সচিব আসাদুর রহমান।
সমঝোতা স্মারকটিতে তিন দেশের স্টক এক্সচেঞ্জের ডিজিটাল রূপান্তরে যৌথ উদ্যোগ, নতুন আর্থিক পণ্য ও বাজার উন্নয়নে এক্সচেঞ্জগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়, বাজার তদারকি এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা কাঠামোর সমন্বয়, মানবসম্পদ উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ, ক্রস-এক্সচেঞ্জ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং নলেজ শেয়ারিং বিষয়ে সহযোগিতার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

ডিএসইর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারকের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো– এক দেশের কোম্পানিকে অন্য দেশের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত (ক্রস বর্ডার লিস্টিং) করা এবং দেশগুলোর বিনিয়োগকারীদের অন্য দেশের কোম্পানিতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির পথ খোঁজা এবং এ লক্ষ্যে দেশ তিনটির স্টক ব্রোকারদের মধ্যে অংশীদারিত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়ানো।

সমঝোতা স্মারক বিষয়ে ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, আকারে ছোট হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ছাড়া অন্য দেশের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর প্রযুক্তিগত এবং প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এই স্টক এক্সচেঞ্জগুলো কাঙ্ক্ষিত সক্ষমতা অর্জন করতে পারছে না। সম্পদ ও অভিজ্ঞতার পারস্পরিক বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জগুলো নিজ নিজ দেশে দক্ষ ও শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠনে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। একত্রে কাজ করে আর্থিক ইকোসিস্টেমে সমৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের সুযোগ উন্মুক্ত করা যাবে। বিনিয়োগকারী এবং অংশীদারদের জন্য যা সুফল বয়ে আনবে।

শ্রীলঙ্কা সফরকালে ডিএসইর চেয়ারম্যান একটি সেমিনারে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার এবং অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশন পরবর্তী অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন। পরে ডিএসইর প্রতিনিধিরা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অব পাকিস্তানের চেয়ারম্যান, কমিশনার, পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি সিস্টেমের সিইও ও সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টির সিইও এবং কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জের সিইও, সিআরও এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন। বৈঠকে ডিএসইর চেয়ারম্যান বর্তমান কার্যক্রম, আঞ্চলিক পণ্যের বাজার উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি নিজস্বভাবে তৈরি, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • সহযোগিতা বাড়াতে চায় ৩ দেশের স্টক এক্সচেঞ্জ