Prothomalo:
2025-04-03@12:05:30 GMT

অরিন্দম কহিলা বিষাদে

Published: 2nd, March 2025 GMT

কবির আহমেদ মাসুম চিশতির প্রদর্শনী ‘মেঘনাদবধ’দেখতে পেলে দর্শক একটা ক্ষীণ আভাস পেতে পারেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত যখন প্রথম মেঘনাদবধ কাব্য লিখলেন, তখন বাঙালি পাঠক কেমন বোধ করেছিলেন।

মধুসূদন দত্ত মেঘনাদবধ কাব্যতে এক অভূতপূর্ব ব্যতিক্রম ঘটিয়েছিলেন। রাম ও রাবণকে ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করেছিলেন। রামায়ণের প্রচলিত বর্ণনাকে তিনি অনুসরণ করেননি। উনিশ শতকে মধুসূধনের লেখায় রাবণ হয়ে উঠেছিলেন নায়ক এবং রাম তাঁর সম্পূর্ণ বিপরীত। আর এই ঘটনার একটি একুশ শতকীয় পুনর্ঘটন দর্শক পাবেন মাসুম চিশতির প্রদর্শনীতে। চিশতিও তাঁর শিল্পে এনেছেন নিজস্ব ভাবনা ও প্রকাশের নতুনত্ব। মধুসূদন যেমন ইউরোপীয় মিথ, কাব্য ও দর্শনের নির্যাসকে ভারতীয় পুরাণ, কাব্য ও দর্শনের সঙ্গে মিশিয়ে গড়েছেন এক নতুন রূপ, তেমনি চিশতিও নিজের চিত্রকর্মে স্রেফ মেঘনাদবধ কাব্য-এর আক্ষরিক রূপবিন্যাস না করে জুড়েছেন শিল্পের বিভিন্ন আঙ্গিক আর আপন ভাবনার মোজাইক। 

মাসুম চিশতি কাজ করেছেন লিখিত ভাষার আক্ষরিক ব্যবহারের মাধ্যমে। ফলে প্রদর্শনীতে যখন দর্শক দেখতে পাবেন মেঘনাদবধ কাব্য-এর দৃশ্যপটের সঙ্গে অজস্র টেক্সট, তখন তাঁরা মোহিত ও বিমূঢ় দুই-ই হতে পারেন। চলচ্চিত্রের স্টোরিবোর্ড ও কমিক–শিল্পের ধরন অনুসরণে শিল্পী এঁকেছেন মেঘনাদবধ-এর দৃশ্য। এতে তিনি ব্যবহার করেছেন অনেক লিখিত ভাষার অক্ষর। অক্ষর বলছি কারণ, শিল্পীর হাতের লেখায় এই অক্ষর বা শব্দগুলো সব সময় বোধগম্য নয়। সেটা তিনি চেয়েছেন, এমনও নয়। তবে শিল্প তৈরির খাতিরে টেক্সটগুলো একটা সময় দর্শকের কাছে দৃশ্যের যে জন্ম দেবে, তা তো বটেই।

মাসুম চিশতির আঁকাআঁকির ক্ষেত্রে একধরণের সারগ্রাহী ভাব লক্ষণীয়। একাধারে তিনি প্রাচ্যরীতি, আধুনিক কমিকসের ধারা এবং মায় মাংগা রীতিকে নিয়ে এসেছেন শিল্পকর্মে। মধুসূদন যেমন করে ভারতীয় পুরাণ ও পাশ্চাত্য দৃষ্টিভঙ্গির মিশ্রণে লিখেছিলেন মহাকাব্যটি, একইভাবে চিশতির অঙ্কনেও পাওয়া যায় হরেক শৈলী। কাগজে চারকোল ও গ্রাফাইটের মাধ্যমে তিনি মেঘনাদবধই এঁকেছেন, কিন্তু জুড়ে দিয়েছেন আধুনিক জীবন-বাস্তবতার নানান অনুষঙ্গ। চিশতির ‘মেঘনাদবধে’ আছে যৌনতার চিত্রণ, আছে যুদ্ধবিমান, ট্যাংক ইত্যাদি আধুনিক সমরযন্ত্র।

প্রদর্শনীতে ‘মেঘনাদবধের’ ৩৮টি চিত্রকর্মের দেখা মেলে। এর বাইরে আছে আরও কিছু ছবি। লালমাটিয়ার কলাকেন্দ্র গ্যালারিতে ভাস্কর লালারুখ সেলিমের কিউরেশনে প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ৪ মার্চ অবধি।

অনিন্দ্য নাহার হাবীব

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ম স ম চ শত চ শত র

এছাড়াও পড়ুন:

বাংলাদেশি ভেবে বিএসএফের গুলি, ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে এক ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার গোরকমন্ডল সীমান্তের ৯২৯ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের ৩ নম্বর সাব পিলারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে ভারতের ভূখণ্ডে মরাকুটি (ভোরাম পয়োস্তি) এলাকায় ওই চোরাকারবারীর মরদেহ দেখেন বাংলাদেশিরা। ৪ ঘণ্টা ধরে সেখানে পড়েছিল ভারতীয় ওই চোরাকারবারীর মরদেহ। পরে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। এ নিয়ে ওই সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

নিহত যুবকের নাম জাহানুর আলম (২৪)। তিনি ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার গিদালদহ এলাকার মরাকুটি ভোরাম পয়োস্তি গ্রামের কবিদুল ইসলামের ছেলে।

সীমান্তবাসীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসাসহ গরু পারাপারে জড়িত ছিলেন তিনি।

সীমান্তে বসবাসকারী সায়েদ আলী ও হয়রত আলী জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে উভয় দেশের একদল চোরাকারবারী ওই সীমান্ত দিয়ে গাঁজা ও গরু নিয়ে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করে। এ সময় ভারতীয় ভারবান্দা ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে ৬ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে ভারতীয় চোরাকারবারী জাহানুর গুলিবৃদ্ধ হয়। সেখানে পড়ে থাকা অবস্থায় অনেকবার চিৎকার করলেও সহযোগীরা তাকে উদ্ধার না করায় ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি। গুলির শব্দ পেয়ে বাকি চোরাকারবারীরা পালিয়ে যান।

এ দিকে নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির পক্ষে গোরকমন্ডল ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার ফিরোজ এবং বিএসএফের পক্ষে ৩ বিএসএফ ব্যাটলিয়নের অধীন ভারবান্দা গিদালদহ ক্যাম্পের কমান্ডার গিরিশ চন্দ্র নেতৃত্ব দেন। পতাকা বৈঠকের পর সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ নিয়ে যায় বিএসএফ।

এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, বিএসএফের কাছে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়- ভোরের দিকে একদল ভারতীয় নাগরিক টহলরত বিএসএফ পোস্টে হামলা চালায়। তখন আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে এক ভারতীয় হামলাকারী নিহত হয়। বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীন। এর সঙ্গে বাংলাদেশ বা বিজিবির কোনও সমৃক্ততা নেই। তারপরও সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ