Samakal:
2025-04-04@05:05:20 GMT

সংকটকালে নারীর নিরাপত্তা

Published: 1st, March 2025 GMT

সংকটকালে নারীর নিরাপত্তা

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, যৌন সহিংসতার ঘটনা সামনে আসছে। এ ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অস্থিতিশীল অবস্থার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী নারী ও শিশু। সহিংসতার এ চিত্র দেশের অগ্রযাত্রার পথে প্রতিবন্ধকতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারী এবং শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা। সেই সঙ্গে তারা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ারও দাবি জানান। গ্রন্থনা শাহেরীন আরাফাত

নিরাপত্তাহীনতা বাড়লে অন্য কাজ বিঘ্নিত হবে

খুশী কবির
সমন্বয়ক, নিজেরা করি

নারীর ওপর সহিংসতা আগে থেকেই চলে আসছে– পারিবারিক ক্ষেত্রেও, সমাজের অন্য ক্ষেত্রেও। সম্প্রতি এর মাত্রা বেড়েছে। এতে কিছু প্রশ্ন উঠেছে– বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণ বা নিরাপত্তার জন্য যেসব ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তা যথেষ্ট কিনা। একসময় বাসে অনেক ছিনতাই হতো। তখন রাতে প্রতিটি বাসে একজন সশস্ত্র গার্ড দেওয়া হতো। তখন বাসের মালিক বা চালককে শক্তভাবে নির্দেশনা দেওয়া হতো– বাস রাস্তার মাঝে দাঁড়ানো যাবে না, যাত্রী তোলা যাবে না। এর ফলে ছিনতাইয়ের ঘটনা অনেক কমে আসে। এখন এসব নির্দেশনা থাকে কিনা জানি না। এসব বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে বাসে যে ডাকাতি ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা সামনে এসেছে, যা আমাদের হতভম্ব করেছে, এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে। 
ছাত্রীহলে পুরুষরা ঢুকে ভাঙচুর করার সময় যে ছাত্রীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যুক্ত ছিলেন, তারা হামলাকারীদের প্রতিহত করতে চাইলেন; সেই ছাত্রীদেরই কর্তৃপক্ষ বহিষ্কার করল। তাহলে প্রশ্ন উঠবেই– নারীর নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়ছে কিনা। আবার মাইকে নারীর বিরুদ্ধে যখন অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তখনও আমরা দেখছি, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তখন প্রশ্ন উঠছে– তাহলে কারা নিয়ন্ত্রণে আছে; আর কে নিয়ন্ত্রণ করছে। 
এখন রাষ্ট্রের দায়িত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার আছে। এই সরকারের কাছ থেকে আমরা আশা করি, নিরপেক্ষভাবে দেশের সব মানুষ; বিশেষ করে নারী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করার জন্য তারা মূল ভূমিকা পালন করবে, যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। আমরা দুটি জিনিস চাই– সর্বক্ষেত্রে জীবন ও চলাফেরার নিরাপত্তা এবং দ্রব্যমূল্য যেন সহনীয় পর্যায়ে থাকে। নিরাপত্তাহীনতা যদি বাড়তে থাকে, তাহলে বাকি সব কাজই বিঘ্নিত হবে। তা আমাদের জন্য কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। 

 

সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে

জেড আই খান পান্না
চেয়ারপারসন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা যাচ্ছে, গাজীপুরে দুই নারীকে রাস্তায় ফেলে পেটানো ও চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাসহ নারীর প্রতি সংঘটিত সব ধরনের সহিংসতার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। বর্তমান সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, খুন, শারীরিক নির্যাতন ও নিপীড়ন, অপহরণ অনেকটাই প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হতে দেখা যাচ্ছে। দেশের নারীসমাজ একটি অস্থিতিশীল পরিবেশের মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। এর ফল নারীসমাজের ওপর ব্যাপকভাবে বর্তাচ্ছে, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার সদিচ্ছার বিষয়টি দৃশ্যমান হতে হবে। নারীর প্রতি সংকটজনক এ পরিস্থিতি সচেতন নাগরিকদের হতাশ ও উদ্বিগ্ন করে তুলছে। পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে নারীর জীবনকে স্থিতিশীল ও নিরাপদ করে গড়ে তোলার জন্য সরকারের পদক্ষেপ যথেষ্ট বলে দৃশ্যমান নয়।
সামাজিক মাধ্যমেও নারীর প্রতি ঘৃণা ও সহিংস আচরণ প্রকট আকারে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ধরনের ঘৃণা ছড়ানো বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। কেননা, মাধ্যম যা-ই হোক না কেন, নারীর প্রতি সহিংসতা অব্যাহত থাকতে পারে না। নির্যাতন শুধু সংখ্যাতেই বাড়ছে না, নির্যাতনের ধরনের পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা সমাজে ভীতি ও উৎকণ্ঠা ছড়াচ্ছে।
নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয়টি একই সঙ্গে সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার বিষয়। কাজেই সহিংসতা বন্ধের জন্য যথাযথ দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি সংঘটিত সব ধরনের সহিংসতায় প্রচলিত আইনে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। 

 

যৌন নিপীড়কদের অব্যাহতি বন্ধ করতে হবে
শাহীন আনাম
নির্বাহী পরিচালক
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন

এত জোরালো নারী আন্দোলন এবং কয়েক দশক ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করার পরেও নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা অব্যাহত থাকা সত্যিই খুব দুর্ভাগ্যজনক। 
বৈষম্যের বিরুদ্ধে এত বড় একটি গণ-আন্দোলন হলেও নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, সম্মান ও নির্বিঘ্নে চলাফেরা সেই আগের মতোই অনিরাপদ ও সহিংসময় থেকে গেছে। মহামারি, রাজনৈতিক অস্থিরতা অথবা জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সংকটকালে নারীর নিরাপত্তা আরও বেশি হুমকির মুখে পড়ে যায়।
যৌন সহিংসতা থেকে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবিতে ক’দিন ধরে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসেছে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং অপরাধীদের শাস্তিসহ তারা ১৩ দফা দাবি পেশ করেছে। 
নারী অধিকারকর্মীদের পক্ষ থেকে দাবিগুলোর একটি হলো বিচারব্যবস্থা নারীবান্ধব করা। অর্থাৎ বিচার বিভাগ এমন একটি পরিবেশ তৈরি করবে, যেখানে নারী ও তার পরিবারের সদস্যরা নির্বিঘ্নে বিচার চাইতে পারবে। আমাদের থানাগুলোও নারীবান্ধব নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা অসম্মান ও লাঞ্ছনার কারণে ধর্ষণের মামলা করতে পারেন না।
আমাদের প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় অপরাধীর বদলে ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করা, সামাজিকভাবে হেয় করা এবং সহজেই শাস্তি থেকে রেহাই পাওয়া যৌন সহিংসতা অব্যাহত থাকার মূল কারণ। ধর্ষণ মামলার মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশের ক্ষেত্রে অপরাধীরা শাস্তি পায়। তাই নিপীড়করা ধরেই নেয় যে তারা এ ধরনের অপরাধ করলেও কোনো শাস্তি পেতে হবে না।
তবুও আমরা আমাদের দেশের তরুণদের জন্য আশার আলো দেখি। লাখ লাখ নারী ও কন্যাশিশুর জীবন তছনছ করে দেওয়া এবং একটি কর্মমুখী জীবনযাপন থেকে তাদের বঞ্চিত করা এই সামাজিক ব্যাধি নিরসনের দায়িত্ব তরুণরা নিজেরাই নিয়েছে। এত ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এবং সমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে গড়ে তুলতে চাওয়া নতুন বাংলাদেশে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার জায়গা থাকতে পারে না। দেশকে সঠিক পথ দেখানো এবং সেই পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা আমাদের তরুণদের দিকে তাকিয়ে আছি। 

 

সহিংসতা আমাদের বিচলিত করছে

রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা
সহযোগী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় 

নারীর অ-নিরাপত্তা প্রসঙ্গটি কোনো রেজিম, নির্বাচিত বা অনির্বাচিত সরকারের বিষয় নয়। বরং আধিপত্য, ভয় ও ত্রাসের রাজনীতি কায়েমকরণে নারী বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্গেট গ্রুপ। বর্তমানে নারীর প্রতি সহিংসতার যে ঘটনাগুলো তিন-চার মাস ধরে আমাদের বিচলিত করছে, সেটির অন্যতম কারণ হচ্ছে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা থেকে নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয়ে নীরব থাকা এবং যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ না করা। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সংকট হলো তথাকথিত পপুলিজমের চর্চায়, সরকার পক্ষ থেকে নারীর প্রতি কট্টরপন্থি রক্ষণশীল পুরুষতান্ত্রিক মতাদর্শ সুচারুরূপে উৎসাহিত করা। 

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: পদক ষ প ন পর স থ ত সরক র র ব যবস থ এ ধরন র র জন য য ন সহ আম দ র অপর ধ র ঘটন

এছাড়াও পড়ুন:

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া মানেই কি সংক্রমণ

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি খুবই পরিচিত সমস্যা। খুব কম মানুষই আছেন, যাঁদের জীবনে কোনো না কোনো সময় এ সমস্যা হয়নি। নারীদের মধ্যে সমস্যাটি বেশি দেখা যায়। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার অন্যতম কারণ, প্রস্রাবের ইনফেকশন বা জীবাণুর সংক্রমণ। এ ইনফেকশন ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা প্যারাসাইট দিয়ে হতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই প্রস্রাবের জ্বালাপোড়ার কারণ ইনফেকশন নয়। এর আরও কিছু কারণ আছে।

প্রস্রাবে সংক্রমণের উপসর্গ

lবারবার বা ঘন ঘন প্রস্রাব।

প্রস্রাব করার সময় মূত্রপথে জ্বালাপোড়ার সঙ্গে প্রস্রাব করার জন্য দ্রুত বাথরুমে ছুটে যাওয়া।

মূত্রথলির ইনফেকশন বা সিস্টাইটিস হলে তলপেটে ব্যথা হতে পারে এবং প্রস্রাবে মাঝেমধ্যে রক্ত যেতে পারে। আরও ওপরে, মানে কিডনিতে সংক্রমণ বা পায়েলোনেফ্রাইটিস হলে জ্বর এবং ওপরের দিকে পিঠে বা পেছনে ব্যথা থাকতে পারে।

সংক্রমণের চিকিৎসা

যেখানেই সংক্রমণ হোক, সঠিক অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে সাধারণত কয়েক দিনেই এ ইনফেকশন নিরাময় হয়। মনে রাখবেন, প্রস্রাবের পরীক্ষা আগে করতে দিয়ে পরে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করবেন।

দোকানদারের কথায় বা নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করবেন না। পরীক্ষার ফলাফল পেয়ে চিকিৎসকের কাছে যাবেন, অ্যান্টিবায়োটিক সেনসিটিভিটি অনুযায়ী পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়তে পারে।

ইনফেকশন পুরোপুরি নিরাময় হলো কি না, দেখার জন্য ওষুধ খাওয়া শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পর আবার প্রস্রাবের কালচার টেস্ট করতে হবে।

 

সংক্রমণ ছাড়া কী কারণে জ্বালাপোড়া হতে পারে

ইনফেকশন ছাড়াও প্রস্রাবের রাস্তায় জ্বালাপোড়া হয়ে থাকে। এটির চিকিৎসা ও রোগনির্ণয় বেশ কঠিন।

গরমে পানি বা তরল কম খেলে প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হতে পারে এবং কোনো অসুখ ছাড়াও প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া হতে পারে। বেশি করে পানি পান করলে এ জ্বালাপোড়া চলে যাবে।

আরেক ধরনের রোগী আছেন, যাঁরা পর্যাপ্ত পানি পান করেন, তারপরও দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের মাঝেমধ্যেই প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হয়, অথচ প্রস্রাবের পরীক্ষায় কোনো ইনফেকশন পাওয়া যায় না। তরুণদের ক্ষেত্রে এ শ্রেণির জ্বালাপোড়ার অন্যতম কারণ, ক্রনিক প্রস্টেটাইটিস। বয়স্ক (পঞ্চাশোর্ধ) পুরুষের প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন প্রস্রাবের সমস্যা থাকে।

মেয়েদের মধ্যে ইনফেকশন ছাড়াও ব্লাডার পেইন সিনড্রোম বা ইন্টারস্টিশিয়াল সিস্টাইটিস–জাতীয় রোগের কারণে দীর্ঘদিন এ–জাতীয় ব্যথা, বারবার প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হতে পারে। আবার অ্যাটিপিক্যাল বা বিরল প্রজাতির জীবাণু দিয়ে সংক্রমণ হলে সাধারণ পরীক্ষায় তা ধরা না–ও পড়তে পারে।

এসব ক্ষেত্রে সঠিক কারণ খুঁজে বের করার জন্য একজন অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।

অধ্যাপক আজফার উদ্দীন শেখ: বিভাগীয় প্রধান, ইউরোলজি, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

সম্পর্কিত নিবন্ধ