রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেকে) হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকেরা। দেশের অন্য সব হাসপাতালের মতো উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এই হাসপাতালটিতেও সাতদিন ধরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি চলছে। শনিবার (১ মার্চ) থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকেরাও কর্মবিরতি শুরু করেছেন। ফলে সংকট আরো বেড়েছে।

রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে ওয়ার্ড রয়েছে ৬০টি। এসব ওয়ার্ডে ২৭৭ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও প্রায় ১৫০ জন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকেরা দায়িত্ব পালন করেন। মূলত তারাই রোগী রিসিভ করেন এবং শুরুতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

তারা না থাকার কারণে এখন শুধু হাসপাতালে সরকারিভাবে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৩০০ জন মিড লেভেলের চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। গড়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে পাঁচজন করে চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছে। এই পাঁচজন শিফট ভাগ করে ২৪ ঘণ্টায় দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।

আরো পড়ুন:

ধামরাইয়ে বিস্ফোরণে বাসভবনের নিচতলা চূর্ণবিচূর্ণ, দম্পতি দগ্ধ

আট মাস বেতন বন্ধ, কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

এর বাইরে আগের মতো রাজশাহী মেডিকেল কলেজের প্রায় ১০০ জন অধ্যাপক কিংবা সহকারী অধ্যাপক সকালে একবার ওয়ার্ডে রাউন্ড দিচ্ছেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পর পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকেরাও কর্মবিরতিতে যাওয়ার ফলে শুধু সরকারি চিকিৎসক দিয়ে হাসপাতাল চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ওয়ার্ডে রোগী সামলাতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আবার ওয়ার্ডে সব সময় চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রোগীর স্বজনেরা।

এদিকে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ ও ৫ দফা দাবিতে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের সামনে সমাবেশ করেছেন চিকিৎসকেরা। কর্মসূচিতে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকদের পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক এবং মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।

কর্মসূচিতে তারা বিএমডিসির বিরুদ্ধে করা রিট প্রত্যাহার এবং শুধু এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রীধারীদের রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার দাবি জানানো হয়। তারা বিএমডিসি থেকে ম্যাটস শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করার দাবি জানান। রামেক হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসক ফোরামের সভাপতি ডা.

আব্দুল্লাহ বলেন, ‘‘আমাদের সহকর্মীরা ঢাকায় আন্দোলন করছে, তাদের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কথা বলতে চেয়েছেন। আশা করি, আমাদের দাবি মেনে নেবে। দাবি না মানলে আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।’’

এ সময় রাজশাহী মেডিকেল কলেজের রক্তরোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মুর্শেদ জামান মিঞা, ড্যাবের নেতা মনোয়ার তারিক সাবু, সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. মনিরুজ্জামান সরকার, ডা. এ এসএম আব্দুল্লাহ, ডা. শফিকুল ইসলাম, পোস্ট গ্রাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেনিং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের রামেক হাসপাতালের আহ্বাক ডা. এটিএম আখেরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতাল কীভাবে চলছে জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ‘‘ওইভাবেই চলছে। কারণ, ইন্টার্ন ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকেরা যেহেতু একটা দাবি করেছেন এবং এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ সমাধানের পথ দেয়নি, তাই আন্দোলন চলছে। তারপরও এই সময়ে রোগীরা যাতে সেবা বঞ্চিত না হন তার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের সরকারি মিড লেভেলের চিকিৎসক ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকেরা সেবা দিচ্ছেন।’
 

ঢাকা/কেয়া/বকুল

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর প স ট গ র য জ য় ট ট র ইন ম ড ক ল কল জ চ ক ৎসকদ র চ ক ৎসক র আম দ র কর ছ ন সরক র

এছাড়াও পড়ুন:

চিকিৎসা ছাড়া মায়ের কোলে ফিরল সেই শিশু

বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলার তীরে উদ্ধার হওয়া পরিচয়হীন সেই নবজাতক ফিরেছে আপন ঠিকানায়। বাবার কোলে চড়ে গত রোববার রাতে (ঈদের আগের দিন) ঢাকা থেকে বাগেরহাটে মায়ের কোলে পৌঁছায়। শিশুটি এখন মায়ের কাছে রয়েছে। তবে অনেকটা বিনা চিকিৎসায় শিশুটিকে বাড়ি ফিরতে হয়।

শিশুটির বাবা বাগেরহাট শহরে ফুটপাথের চা দোকানি গণেশ শ্যাম আজ বুধবার বিকেলে সমকালকে বলেন, গত রোববার দুপুরে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে রিলিজ দেয়। ওই রাতে তিনি ও তার শাশুড়ি সুমি দাস বাসে শিশুটিকে নিয়ে বাগেরহাটের বাসায় পৌঁছান।

রিলিজ দেওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে গণেশ জানান, শিশুটির পিঠের টিউমার নিরসনে অস্ত্রোপচার করতে হবে। কিন্তু, একমাস বয়স হওয়ার আগে অস্ত্রোপচার সম্ভব নয়। যেহেতু শিশুর বয়স এক সপ্তাহ হয়েছে। তাই, আরও তিন সপ্তাহ পর ঢামেকে ভর্তির জন্য পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।

শিশুটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বাবা গণেশ বলেন, পিঠের টিউমার থেকে পানি বের হচ্ছে। বাগেরহাটের স্থানীয় চিকিৎসকদের চিকিৎসা নিতে যোগাযোগ করছি। কিন্তু, ঈদের ছুটি হওয়ায় কোনো চিকিৎসক পাচ্ছেন না। এজন্য আগামী শনিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে আশঙ্কার কথা জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ২২ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে নগরীর সংলগ্ন কীর্তণখোলার তীরে ত্রিশ গোডাউন এলাকায় পরিত্যক্ত বাথরুমে অজ্ঞাত নবজাতক উদ্ধার হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ফুচকা বিক্রেতা পারভীন বেগম শিশুটিকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে যান। গত ২৮ মার্চ শিশুটির অভিভাবকের সন্ধান পাওয়া যায়। তার আগের দিন (২৭ মার্চ) উন্নত চিকিৎসার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর ও শেবাচিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তত্বাবধানে শিশুটিকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

বাবা গণেশ দত্ত জানান, বরিশাল নগরীর সদর রোড মোখলেসুর রহমান ক্লিনিকে ২১ মার্চ স্ত্রী অন্তরা দাস সিজারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম দেন। এটি তাদের প্রথম সন্তান। জন্মগতভাবেই পিঠের মেরুদণ্ড টিউমার ধরা পড়ে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ওইদিনই নবজাতককে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলো। ব্যয়বহুল চিকিৎসা ও পুরো সুস্থ্য না হওয়ার আশঙ্কায় পরদিন ২২ মার্চ দুপুরে ওয়ার্ডে বসেই শিশুটিকে এক রিক্সাচালকের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর তাদের আর কিছু জানা নেই।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউর মুনীর জানান, শিশুটির পিঠে মেরদণ্ডের টিসু থেকে টিউমারের উৎপত্তি হয়েছে। এটি পুরোপুরি ভাল হওয়ার সম্ভাবনা কম। চিকিৎসাও অনেক ব্যয়বহুল। তিনি জানান, শিশুটি দত্তক নিতে অনেকে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। শারীরিক অবস্থা দেখে ফিরে যান।

বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, শিশুটির চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এজন্য কেউ সাহায্যে করতে চাইলে তার মুঠোফোন ০১৭১৫-৫৪৫১৪৫ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • কীর্তনখোলার তীর থেকে উদ্ধার সেই শিশু ফিরল মায়ের কোলে
  • চিকিৎসা ছাড়া মায়ের কোলে ফিরল সেই শিশু