অর্থপূর্ণ সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া মুশকিল: জিনাত আমান
Published: 1st, March 2025 GMT
বরেণ্য অভিনেত্রী জিনাত আমান ১৯৭০ সালে বলিউডে পা রাখেন। ১৯৭৮ সালে অভিনেতা-পরিচালক-প্রযোজক সঞ্জয় খানের সঙ্গে ঘর বাঁধেন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। সঞ্জয়ের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন সুখকর হয়নি। শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন জিনাত। সর্বশেষ ১৯৭৯ সালে ভেঙে যায় এই সংসার।
সঞ্জয়ের সঙ্গে সংসার ভাঙার ৬ বছর পর অভিনেতা মাজহার খানকে বিয়ে করেন জিনাত আমান। ১৩ বছর পর এ সংসারও ভেঙে যায়। তারপর আর সংসারী হননি ৭৩ বছরের জিনাত। দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে এ অভিনেত্রী জানালেন— অর্থপূর্ণ সম্পর্ক পাওয়া খুবই কঠিন।
জিনাত আমান বলেন, “আমার বয়স যখন কম ছিল তখন এটা নিয়ে চিন্তা করতাম না। কিন্তু এখন ব্যাপারটি নিয়ে কিছুটা হলেও চিন্তা করি। কথায় আছে— একাকিত্ব উপরে-নিচে সবখানে। আমি উভয়ই অনুভব করেছি।”
আরো পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রে নাইন-ইলেভেন হামলা: আটক হন সুনীল শেঠি
মা-বাবা হচ্ছেন কিয়ারা-সিদ্ধার্থ
অর্থপূর্ণ সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তা জানিয়ে জিনাত আমান বলেন, “আমি আমার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে অপ্রিয় সত্য উপলদ্ধি করেছি। তা হলো— অর্থপূর্ণ সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া কঠিন। কারণ জনসাধারণের কাছে আমার যে ব্যক্তিত্ব, তা আমার সত্যিকারের সত্ত্বাকে ঢেকে রাখে। আমাকে নিয়ে মানুষের যে ধারণা, তা কারাগারের মতো। যদিও এর সুবিধাও আছে।”
অর্থপূর্ণ সম্পর্কের মানদণ্ড কী? এ প্রশ্নের জবাবে জিনাত আমান বলেন— “পারস্পরিক সহনশীলতা।” খানিকটা ব্যাখ্যা করে জিনাত আমান বলেন, “একে অপরের সাফল্য উদযাপন করা। খারাপ সময় একসঙ্গে পাড় করা। সর্বোপরি, এমন একটি স্থানে পৌঁছানো যেখানে আপনি মুখোশহীন।”
১৯৭১ সালে ‘হরে রাম হরে কৃষ্ণ’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ের পথচলা শুরু করেন জিনাত আমান। তারপর ‘ইয়াদো কি বারাত’, ‘রোটি কাপড়া আউর মাকান’, ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’-এর মতো সুপারহিট সিনেমায় অভিনয় করে ঝড় তোলেন এই অভিনেত্রী।
ঢাকা/শান্ত
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
ট্রাম্পের শুল্ক বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার পোশাক ব্যবসায়ীদের ওপর বড় আঘাত
কোভিড, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ একটি শিল্পকে কেন্দ্র করে নিজেদের সমৃদ্ধির প্রত্যাশা জিইয়ে রেখেছিল। শিল্পটি তৈরি পোশাক, যার প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লিখিত ঝড়ঝাপটার পরে এখন এল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কের ঘোষণা।
ট্রাম্প শ্রীলঙ্কার ওপর ৪৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। আর বাংলাদেশের ওপর আরোপ করেছেন ৩৭ শতাংশ শুল্ক। এত বেশি নতুন শুল্কের ধাক্কায় দেশ দুটির ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তারা তা প্রশমিত করতে চেষ্টা করছেন। উভয় দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের শঙ্কা, তাঁরা হয়তো আর বড় উৎপাদনকারী শক্তিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠবেন না। তাঁদের ক্রয়াদেশ কম শুল্কযুক্ত ও বড় শিল্প শক্তিসম্পন্ন দেশগুলোতে স্থানান্তরিত হয়ে যাবে।
শ্রীলঙ্কার জয়েন্ট অ্যাপারেল অ্যাসোসিয়েশন ফোরামের পরামর্শক তুলি কুরে বলেন, ‘আমাদের শোকবার্তা লিখতে হবে। ৪৪ শতাংশ কিন্তু চাট্টিখানি কথা নয়।’
ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কের ধাক্কা বিশ্বের পোশাকশিল্পের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত দেশগুলোর জন্য অনেক বড়। সমতা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান উইলিয়াম ব্লেয়ারের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত তৈরি পোশাকের প্রায় ৮৫ শতাংশ উৎপাদন করে, সেসব দেশের ওপর গড়ে ৩২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, পোশাক প্রস্তুতকারী দেশগুলোকে নিশানা করার মধ্য দিয়ে শুধু ওই সব দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে না, এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর ওপরও চাপ তৈরি হবে। উইলিয়াম ব্লেয়ারের মতে, পণ্যের খরচ প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত এতে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদেরই জন্যই সমস্যা হতে পারে।
আরও পড়ুনট্রাম্পের পাল্টা শুল্কে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কি পিছিয়ে পড়বে৯ ঘণ্টা আগেশ্রীলঙ্কার কলম্বোর কাছে কাতুনায়াকেতে একটি পোশাক কারখানায় কর্মীরা পোশাক সেলাই করছেন