হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে শুক্রবারের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নজিরবিহীন বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বৈঠকে ট্রাম্প ‘বদমাশ’ জেলেনস্কিকে যথেষ্ট সংযম দেখিয়েছেন।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা টেলিগ্রাম পোস্টে লিখেন, ‘আমি মনে করি, জেলেনস্কির একগাদা মিথ্যা কথার মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ্যাটি ছিল, হোয়াইট হাউসে তিনি দাবি করেছেন, ২০২২ সালে কিয়েভ সরকার একা ছিল। কোনো সমর্থন পায়নি।’

আরও পড়ুনবাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ালেও ট্রাম্পের প্রশংসায় রিপাবলিকানরা, জেলেনস্কির পাশে ইউরোপীয় মিত্ররা ৩৮ মিনিট আগে

মারিয়া জাখারোভা আরও লিখেন, ‘ট্রাম্প ও ভ্যান্স (যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট) কীভাবে সেই বদমাশকে আঘাত করা থেকে বিরত ছিলেন; সেটা সংযম প্রদর্শনের এক অলৌকিক ঘটনা।’

ট্রাম্প–জেলেনস্কির বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ। এক্স পোস্টে তিনি জেলেনস্কিকে একজন ‘উদ্ধত শূকর’ বলে মন্তব্য করেন।

বর্তমানে রাশিয়ার  নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা মেদভেদেভ বলেন, ‘অবশেষে উদ্ধত শূকরটি ওভাল অফিসে একটি উপযুক্ত থাপ্পড় খেয়েছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিক বলেছেন, কিয়েভের শাসনকাঠামো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে জুয়া খেলছে।’

আরও পড়ুনহোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে এক পোস্টে চারবার ‘ধন্যবাদ’ দিলেন জেলেনস্কি১ ঘণ্টা আগে

এত দিন ছিল পাল্টাপাল্টি কথার লড়াই; কিন্ত এবার মুখোমুখি বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বৈঠকে তাঁদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই রাষ্ট্রনেতার চুক্তি সইয়ের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। বাতিল করা হয় দুই নেতার যৌথ সংবাদ সম্মেলন। এর পরপরই হোয়াইট হাউস থেকে জেলেনস্কিকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

আরও পড়ুনট্রাম্প–জেলেনস্কি বৈঠকে বাগ্‌বিতণ্ডা-উত্তেজনা, হয়নি চুুক্তি, যৌথ সংবাদ সম্মেলন বাতিল২ ঘণ্টা আগে.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

মুলারের প্রয়োজন ফুরিয়েছে বায়ার্নে

সময় বড়ই নিষ্ঠুর। কদিন আগেও যে থমাস মুলার ছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের সৌভাগ্যের প্রতীক, তাঁকেই এখন বিদায়ের দিনক্ষণ শুনিয়ে দিয়েছে ক্লাবটি। ৩৫ বছর বয়সী এ ফরোয়ার্ডকে আর রাখতে চাইছে না জার্মান জায়ান্টরা। বুড়িয়ে যাওয়া এ তারকাকে বোঝা মনে করছে বায়ার্ন। চলতি মৌসুম শেষেই তাঁকে বিদায় করে দিতে চাইছে তারা।

আগামী জুনে বায়ার্নের সঙ্গে চুক্তি শেষ হবে মুলারের। এরই মধ্যে বায়ার্ন কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানিয়ে দিয়েছে তাঁর সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করবে না তারা। প্রায় ঘরবাড়ি বানিয়ে ফেলা ক্লাব এভাবে সাফ না বলে দেওয়ার পর অনেকটা অকূলপাথারে পড়েছেন তিনি। দুটি প্রভাবশালী জার্মান ক্রীড়া ম্যাগাজিন ‘স্পোর্টবিল্ড’ ও ‘কিকার’ জানিয়েছে, মুলারের পেছনে আর মোটা বেতন খরচ করতে রাজি নয় বাভারিয়ান ক্লাবটি। এই অর্থ কোনো উঠতি প্রতিভার পেছনে ব্যয় করতে চান তারা। যে কারণে চলতি মৌসুম শেষে মুলারের বায়ার্ন অধ্যায়ের ইতি ঘটার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। 

২০০৮ সালে ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যানের তত্ত্বাবধানে বায়ার্নে প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটে মুলারের। ওই মৌসুমেই লুই ফন গালের অধীনে ক্লাবের মূল দলেও নিয়মিত হয়ে যান তিনি। এরপর থেকে গত দেড় যুগে বায়ার্নের পক্ষে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রেকর্ড ৭৪২ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। যেখানে গোল করেছেন ২৪৭টি। লম্বা এ সময়ে বায়ার্নের হয়ে ১২টি বুন্দেসলিগা, দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অনেক ট্রফি জিতেছেন। এবার তাদের সামনে বুন্দেসলিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের সুযোগ রয়েছে। এ দুটি ট্রফি জিততে পারলে তাঁর বিদায়টা নিশ্চিতভাবেই স্মরণীয় হবে। 

জার্মান গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দুই সপ্তাহ আগে মুলারের প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্লাবের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন বায়ার্নের বোর্ড মেম্বার ম্যাক্স এবেরেল। কেন ক্লাব বর্ষীয়ান এ তারকার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করবে না, সে ব্যাখ্যাও দেন। তবে মুলার চেয়েছিলেন কমপক্ষে আরও একটি মৌসুম বায়ার্নে থাকতে। একটি সূত্রে অবশ্য জানা গেছে, এক মৌসুম না হলেও আগামী গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় ক্লাব বিশ্বকাপের প্রথম আসরে মুলারকে নিয়ে যেতে পারে বায়ার্ন। এ প্রস্তাবেও বোর্ড মেম্বারদের অনেকে রাজি নন।  

২০০০ সালে ১০ বছর বয়সে বায়ার্নের ‘ইয়ুথ প্রজেক্ট’ এ যোগ দেন মুলার। ২০০৭ সালে বায়ার্নের মূল দলে অভিষেক হয় তাঁর। কিছু দিনের মধ্যেই বুদ্ধিমত্তা ও পরিণত ফুটবল মস্তিষ্ক দিয়ে আলাদাভাবে নজর কাড়েন তিনি। প্রথম মৌসুমে মোট ২৩ ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি, যেখানে ১৫টিতে বদলি হিসেবে। পরের মৌসুমেই নিয়মিত হয়ে যান তিনি। এরপর থেকে প্রথম একাদশে জায়গাটা পাকাই ছিল। গত বছর ইউরোর পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পরই ভাটার টান লাগে মুলারের ক্যারিয়ারে। 

সম্পর্কিত নিবন্ধ