প্রাথমিক লক্ষ্য গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন
Published: 28th, February 2025 GMT
নতুন বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারীদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ (দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র) প্রতিষ্ঠার জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা এই দলের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষ্য। তাঁরা বলেছেন, সেকেন্ড রিপাবলিকে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ভেঙে পড়া রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলা ও গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষা করা হবে তাঁদের রাজনীতির অগ্রাধিকার।
শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিশাল জমায়েতের মাধ্যমে তারুণ্যনির্ভর নতুন এই রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা ছাত্র-তরুণেরাই আছেন এই দলের নেতৃত্বে। দলটির আহ্বায়ক হয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ নাহিদ ইসলাম। সদস্যসচিব হয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
বাংলাদেশকে আর কখনোই বিভাজিত করা যাবে না। বাংলাদেশে ভারতপন্থী, পাকিস্তানপন্থী কোনো রাজনীতির ঠাঁই হবে না।নাহিদ ইসলাম আহ্বায়ক, এনসিপিনতুন দলের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে শুক্রবার দুপুর থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আসতে থাকেন ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা নেতা-কর্মীরা। তাঁদের বড় অংশ তরুণ ও শিক্ষার্থী। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা বরাবর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে করা হয়েছিল পূর্বমুখী মঞ্চ। সেখান থেকে পূর্ব দিকে খামারবাড়ি মোড় পর্যন্ত (এক পাশে) জমায়েত ছিল। দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।
বিকেল সোয়া চারটার দিকে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে পবিত্র কোরআন, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল থেকে পাঠ করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত এবং জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে নীরবতা পালনের পর শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: র জন ত ক
এছাড়াও পড়ুন:
ডাকসু নির্বাচন কবে? যা বলছে ঢাবি প্রশাসন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন নিয়ে ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর আলাপ-আলোচনার মধ্যে প্রশাসন বলছে, এ বিষয়ে গঠন করা তিন কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।
সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার আগে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আগাম তারিখ ঘোষণার সুযোগ নেই বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তর।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে জনসংযোগ দপ্তর বলেছে, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন আয়োজন, নির্বাচনের আচরণবিধি প্রণয়ন বা সংশোধন এবং ডাকসু ও হল সংসদের গঠনতন্ত্র সংশোধন বা পরিমার্জনের বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া তিনটি কমিটি নিরলসভাবে কাজ করছে। এসব কমিটি প্রতিনিয়ত ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী, সাংবাদিকসহ সব অংশীজনের মতামত নিচ্ছে। তারা কয়েক দফা বৈঠক করে লিখিত মতামতও নিয়েছে।
আরো পড়ুন:
ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে কুমিল্লায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
হল ছাড়ছেন কুয়েট শিক্ষার্থীরা
দেশে ক্ষমতার পালাবদলের মধ্যে ক্যাম্পাস ছাড়া হওয়ার পর নিষিদ্ধ হয়েছে ছাত্রলীগ। এই সংগঠন বাদে অন্যান্য ছাত্র সংগঠন ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কথা বলছে, মাঝেমধ্যে শোরগোলও শোনা যাচ্ছে। কয়েকটি সংগঠন জাতীয় নির্বাচনের আগে ডাকসু নির্বাচন দেওয়ার দাবি তুলেছে। তবে নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ না দিয়ে আগে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির জন্য কমিটি করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবশ্য বলেছিল, ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে তারা এখন কমিটির সুপারিশের দিকে তাকিয়ে আছে।
তিন কমিটির মধ্যে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন সফলভাবে আয়োজনে পরামর্শ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশাকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি করে দেওয়া হয়। তারা কাজ করছে।
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি প্রণয়ন বা সংশোধনের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিকে।
আর ডাকসু ও হল সংসদের গঠনতন্ত্র সংশোধন বা পরিমার্জনের বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব পড়েছে আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকরামুল হকের নেতৃত্বাধীন আহ্বায়ক কমিটির ওপর।
ডাকসুর যত নির্বাচন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পার করেছে। এই পুরো সময়ে সেখানে ৩৭ বার ছাত্র সংসদের ভোট হয়েছে। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের ৫০ বছরে ২৯ বার আর স্বাধীন দেশে ৫৩ বছরে মাত্র আটবার নির্বাচন হয়েছে। সবশেষ ভোট আয়োজন করা হয় ২০১৯ সালে। তাতে ভিপি নির্বাচিত হন নুরুল হক নুর।
১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রতিবছর ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ছাত্র সংসদের মনোনয়নে পাঁচজন শিক্ষার্থী-প্রতিনিধি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিনেটের সদস্য হিসেবে ভূমিকা পালন করে থাকেন। তারা পুরো ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও সুযোগের বিষয়গুলো উত্থাপন করেন সিনেটে। এখন সংকট এখানেই। নির্বাচিত ছাত্র সংসদ না থাকায় সিনেটে থাকছেন না শিক্ষার্থী প্রতিনিধি।
ঢাকা/সৌরভ/রাসেল