Samakal:
2025-02-28@22:36:08 GMT

তিন উপদেষ্টার বৈঠকেও খোলেনি জট

Published: 28th, February 2025 GMT

তিন উপদেষ্টার বৈঠকেও খোলেনি জট

মালিকানা জটিলতায় বন্ধ রয়েছে ‘বিদ্রোহী চত্বর’ নির্মাণের কাজ। বিষয়টি নিয়ে তিন উপদেষ্টা বৈঠক করলেও খোলেনি জট। সূত্রের দাবি, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া প্রকল্প বলে নির্মাণে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে সরকার।
জানা যায়, রবীন্দ্র সরোবরের আদলে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে সাম্পান পর্যন্ত জমি দখলমুক্ত করে প্রায় ২৪ কোটি টাকার ‘নজরুল সরোবর’ নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন। কিন্তু গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর থমকে যায় কাজ। প্রকল্পের নাম বদলে ‘বিদ্রোহী চত্বর’ করা হলেও এক উপদেষ্টা বেঁকে বসেছেন।
কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুল ইসলাম শিবলী সমকালকে বলেন, ‘বিদ্রোহী চত্বরের দরপত্র ও ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে কাজ শুরুও হয়েছিল। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর চত্বরের মালিকানা জটিলতায় আটকে আছে নির্মাণকাজ।’
তিনি বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত, স্থানীয় সরকার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তিন উপদেষ্টাকে নিয়ে বৈঠক করেছি আমি। আশা করি, এক-দেড় মাসের মধ্যে বিদ্রোহী চত্বরের নির্মাণকাজ শুরু হবে।’

গত বছরের ২৬ মে রবীন্দ্র সরোবরের আদলে ধানমন্ডি লেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন নজরুল সরোবর প্রকল্পের নির্মাণকাজ। ডিএসসিসির অর্থায়নে ২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০ দশমিক ৯৬ কাঠা জমি নির্ধারণ করা হয়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মরণে এ প্রকল্পের নকশায় বিনোদন ও অবসর সময় কাটানোর সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়। চত্বরে উন্মুক্ত বিনোদন মঞ্চে একটি ঘাটলা, উন্মুক্ত মিলনায়তন, হাঁটার পথ, গণপরিসর, রেস্তোরাঁ ও বসার স্থান রাখা হয়। পুরো এলাকা দৃষ্টিনন্দন বাতি দিয়ে সজ্জিত ও চত্বরে সবুজের সমারোহ রাখার পরিকল্পনা করা হয়। নকশায় ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিময় মুহূর্ত এবং সাহিত্য কর্মসংবলিত ফলক। সেখান থেকে সব সময় তাদের ভাষণ, বক্তব্য, কবিতা ও সাহিত্যকর্ম প্রচারের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের পতনে সব ভেস্তে গেছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বিদ্রোহী চত্বরের জমির মালিকানা দাবি করে সাইনবোর্ড দিয়েছে। পরে নজরুল ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে গত ২৮ নভেম্বর সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, ডিএসসিসির সাবেক প্রশাসক নজরুল ইসলাম ও কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুল ইসলাম শিবলী বৈঠকে বসেন।
বৈঠকে কবি নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্রোহের চেতনাকে এক করে প্রকল্পের নাম ও নকশায় কিছু পরিবর্তন এনে ‘বিদ্রোহী চত্বর’ (রিবেল স্কয়ার) করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে প্রকল্পের আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বিদ্রোহী চত্বরের কাজ আমরা দ্রুত করতে চাই। উপদেষ্টাদের নিয়ে একটি সভা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে গণপূর্তের ক্লিয়ারেন্স লাগবে। এ জন্য একটি চিঠি প্রস্তুত করা হয়েছে।’
ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম সানাউল্লাহ বলেন, ‘জমির মালিক গণপূর্ত। এখন পর্যন্ত এটি সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর না হওয়ায় সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে।’

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: প রকল প র ন গণপ র ত উপদ ষ ট ল ইসল ম নজর ল সরক র ধ নমন

এছাড়াও পড়ুন:

রোজার চাঁদ দেখলে কী দোয়া পড়বেন

রহমতের মাস রমজানের নতুন চাঁদ দেখলে; বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) পড়া সেই দোয়া পড়বেন। যেখানে শান্তি ও নিরাপত্তার প্রার্থনা রয়েছে। হাদিসে আছে-হজরত তালহা ইবনে ওবায়দুল্লাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন নতুন চাঁদ দেখতেন তখন বলতেন-

উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি ওয়াসসালামাতি ওয়াল ইসলামি ওয়াত্তাওফিকি লিমা তুহিব্বু ওয়া তারদা রাব্বুনা ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।

অর্থ: আল্লাহ মহান, হে আল্লাহ! এ নতুন চাঁদকে আমাদের নিরাপত্তা, ইমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদয় কর। আর তুমি যা ভালোবাস এবং যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও, সেটাই আমাদের তৌফিক দাও। আল্লাহ তোমাদের এবং আমাদের প্রতিপালক।’ (তিরমিজি, মিশকাত)

রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসের ২৯ তারিখ সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদের অনুসন্ধান করতেন। এমনকি সাহাবিদের চাঁদ দেখতে বলতেন। রমজানের নতুন চাঁদ দেখলে প্রিয় নবী (সা.) কল্যাণ ও বরকতের দোয়া করতেন।

আরও পড়ুনইফতারের দোয়া২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

নতুন চাঁদকে আরবিতে বলে ‘হিলাল’। ‘হিলাল’ হচ্ছে এক থেকে তিন তারিখের চাঁদ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো, চাঁদ দেখে রোজা ছাড়ো, ইফতার করো বা ঈদ করো।’ যে সন্ধ্যায় আকাশে চাঁদ দেখা যায়, সে রাত হলো ‘চাঁদরাত’। আরবি চান্দ্র বছরের নবম মাস রমজান এবং দশম মাস শাওয়াল।

যে কোনো মাসের নতুন চাঁদ, এমনকি রোজা ও ঈদের চাঁদ দেখার দোয়া একটিই। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) নতুন চাঁদ দেখলে এই দোয়া পড়তেন—

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল-য়ুমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াসসালামাতি ওয়াল ইসলামি- রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য এই চাঁদকে সৌভাগ্য ও ইমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদিত করুন।আল্লাহই আমার ও তোমার রব। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৫১)

এ ছাড়াও রমজানের চাঁদ দেখার খবর শুনে দোয়া করা হয়।

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লিমনি লিরমাদান, ওয়া সাল্লিম রামাদানা লি, ওয়া তাসলিমাহু মিন্নি মুতাক্বাব্বিলা। (তাবারানি)

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে শান্তিময় রমজান দান করুন। রমজানকে আমার জন্য শান্তিময় করুন। রমজানের শান্তিও আমার জন্য কবুল করুন।

আরও পড়ুনরোজার কাজা, কাফফারা ও ফিদিয়া কী০২ মার্চ ২০২৪

সম্পর্কিত নিবন্ধ