বরগুনার পাথরঘাটায় বাক্প্রতিবন্ধী ভাইবোনের বাড়ি দখলে ব্যর্থ হয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। প্রতিবেশী প্রবাসী ও তার স্ত্রী ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে এই হামলা করেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। 
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে কাঁঠালতলী ইউনিয়নের আমতলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতরা হলেন– আকিমুননেছা (৭০), তাঁর মেয়ে পারভীন আক্তার, ছেলে নজরুল হক, লিটন হাওলাদার ও নাতি লিপি বেগম (৬)। আহত পারভীন ও নজরুল হক বাক্প্রতিবন্ধী। 
আহত লিটন হাওলাদার জানান, তারা চার ভাইবোন। বাড়িটি তাঁর ভাই সাইদুল হকের। সে মারা যাওয়ার পর তাঁর স্ত্রী চলে যান বাবার বাড়ি। এর পর থেকে ওই বাড়িতে চার ভাইবোন বসবাস করছেন। বাড়িটির ওপর নজর পড়ে প্রবাসী মিজানুর রহমানের স্ত্রী নাসরীন বেগমের। তারা বাড়িটি কিনে নিতে চায়। এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়। এর জের ধরে গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে তাদের ঘরে আগুন দিতে আসে কয়েকজন। বাধা দিলে তাঁকে মেরে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। এ সময় গ্রামবাসী মিজানুর রহমানের ভগ্নিপতি ইলিয়াসকে ধরে থানায় সোপর্দ করে। আদালত থেকে জামিন নিয়ে ইলিয়াস ও তার শ্যালকের বউ নাসরীন ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে ফের বাড়িতে হামলা করে ঘর ভাঙচুরসহ মালপত্র লুট করে নেয়। এখন প্রতিবন্ধী দুই ভাইবোনসহ তারা খোলা জায়গায় বসবাস করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, মিজানুর রহমান কয়েক বছর ধরে প্রবাসে থাকেন। প্রচুর টাকার মালিক হয়েছেন। তাদের বাড়ির পরিসর বাড়াতে প্রতিবন্ধীদের জমি দখল করতে পরিকল্পিত এ হামলা চালিয়েছে। 
এ বিষয়ে কথা বলতে নাসরীন বেগমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ঘটনার পর থেকে তারা আত্মগোপনে থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 
এ সময় কথা হয় ইলিয়াস মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, তার শ্যালক ওই বাড়িতে জমি পাবে। কিন্তু তারা দিতে চায় না। তা নিয়ে বিরোধ চলছে। মারামারি বা ঘর ভাঙার কোনো ঘটনা ঘটেনি। 
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

.

উৎস: Samakal

এছাড়াও পড়ুন:

রোজার চাঁদ দেখলে কী দোয়া পড়বেন

রহমতের মাস রমজানের নতুন চাঁদ দেখলে; বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) পড়া সেই দোয়া পড়বেন। যেখানে শান্তি ও নিরাপত্তার প্রার্থনা রয়েছে। হাদিসে আছে-হজরত তালহা ইবনে ওবায়দুল্লাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন নতুন চাঁদ দেখতেন তখন বলতেন-

উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি ওয়াসসালামাতি ওয়াল ইসলামি ওয়াত্তাওফিকি লিমা তুহিব্বু ওয়া তারদা রাব্বুনা ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।

অর্থ: আল্লাহ মহান, হে আল্লাহ! এ নতুন চাঁদকে আমাদের নিরাপত্তা, ইমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদয় কর। আর তুমি যা ভালোবাস এবং যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও, সেটাই আমাদের তৌফিক দাও। আল্লাহ তোমাদের এবং আমাদের প্রতিপালক।’ (তিরমিজি, মিশকাত)

রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসের ২৯ তারিখ সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদের অনুসন্ধান করতেন। এমনকি সাহাবিদের চাঁদ দেখতে বলতেন। রমজানের নতুন চাঁদ দেখলে প্রিয় নবী (সা.) কল্যাণ ও বরকতের দোয়া করতেন।

আরও পড়ুনইফতারের দোয়া২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

নতুন চাঁদকে আরবিতে বলে ‘হিলাল’। ‘হিলাল’ হচ্ছে এক থেকে তিন তারিখের চাঁদ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো, চাঁদ দেখে রোজা ছাড়ো, ইফতার করো বা ঈদ করো।’ যে সন্ধ্যায় আকাশে চাঁদ দেখা যায়, সে রাত হলো ‘চাঁদরাত’। আরবি চান্দ্র বছরের নবম মাস রমজান এবং দশম মাস শাওয়াল।

যে কোনো মাসের নতুন চাঁদ, এমনকি রোজা ও ঈদের চাঁদ দেখার দোয়া একটিই। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) নতুন চাঁদ দেখলে এই দোয়া পড়তেন—

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল-য়ুমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াসসালামাতি ওয়াল ইসলামি- রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য এই চাঁদকে সৌভাগ্য ও ইমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদিত করুন।আল্লাহই আমার ও তোমার রব। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৫১)

এ ছাড়াও রমজানের চাঁদ দেখার খবর শুনে দোয়া করা হয়।

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লিমনি লিরমাদান, ওয়া সাল্লিম রামাদানা লি, ওয়া তাসলিমাহু মিন্নি মুতাক্বাব্বিলা। (তাবারানি)

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে শান্তিময় রমজান দান করুন। রমজানকে আমার জন্য শান্তিময় করুন। রমজানের শান্তিও আমার জন্য কবুল করুন।

আরও পড়ুনরোজার কাজা, কাফফারা ও ফিদিয়া কী০২ মার্চ ২০২৪

সম্পর্কিত নিবন্ধ