আত্মপ্রকাশ করা তরুণদের নতুন দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে আজ শুক্রবার দুপুরের দিকে নতুন এই দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণপত্রের ছবি দিয়ে একটি পোস্ট দেন তিনি। ওই পোস্টের একটি অংশে তিনি লিখেছেন, ‘বুঝতে আমি-ই পারিনি’।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘২০২৪–এর ভুয়া নির্বাচনের পর খুব মন খারাপ করে থাকতাম। এমন সময় আখতার একদিন আইন বিভাগে এল। বলে কয়ে আমি তাকে বাড়ি থেকে ঢাকায় আনিয়ে মাস্টার্স শেষ করতে রাজি করিয়েছিলাম। কিন্তু এরপরও ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার কোনো লক্ষণ নাই তার মধ্যে।’

ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমার গাড়ি থামিয়ে সে সালাম দিল। তারপর বেশ কিছুক্ষণ কাচুমাচু করে দাঁড়িয়ে রইল। আমি বিরক্ত হলাম। আরও বিরক্ত হলাম যখন সে বলল, নুর-রাশেদদের দল ত্যাগ করে নতুন সংগঠন করবে!

‘আমি বললাম, আবার নতুন দল! আর কতোবার মার খেতে চাও তুমি! সে মাথা নিচু করে মৃদু হাসতে থাকে। এই অদ্ভূত হাসির কোনো মানে খুঁজে পেলাম না। বেশি কথা না বলে বাসায় চলে এলাম। কয়েক দিন পর ছাত্রলীগের হাতে মার খেয়ে তার রক্তাক্ত ছবি দেখে দুঃখ আর হতাশায় বুক বিদীর্ণ হলো। সে কি বুঝতে পারছে না কিছু হবে না আর এসব করে!

‘বুঝতে আমি-ই পারিনি। নতুন সংগঠন করার কয়েক মাসের মাথায় তারা এক অসম্ভবকে সম্ভব করল। প্রবল প্রতাপশালী আর নির্মম ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটাল। আখতারের সংগঠনের নাহিদ হয়ে উঠল এই গণ–অভ্যুত্থানের প্রধান নেতা। উত্তাল জুলাই-এ আমার এবং আমার মতো লক্ষ মানুষের নেতা!

‘তারপর নাহিদের সাথে কাজ করলাম নতুন সরকারে। কতবার যে সে আমাকে বিস্মিত করল তার যোগ্যতা, বাকসংযম, ব্যক্তিত্ব আর অকল্পনীয় ম্যাচিউরিটি দিয়ে! নাহিদ থাকে আমার পাশের বাসায়। সে সরকার থেকে পদত্যাগ করার দিন গভীর রাতে তার সবুজ লনের দিকে তাকিয়ে থাকলাম অনেকক্ষণ। মায়া বড় বিচিত্র বিষয়!

‘আজ নাহিদ আর আখতার শুরু করছে নতুন যাত্রা। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ছাত্র-তারুণ্যের প্রত্যাশা পূরণে শুরু হলো তাদের নতুন দলের অভিযাত্রা। জাতীয় নাগরিক পার্টির সবার জন্য অনেক দোয়া, শুভকামনা।’

.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

কুমিল্লায় অটোরিকশার চালককে পিটিয়ে হত্যা, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

কুমিল্লায় সিএনজি গ্যাস নেওয়ার সময় কথা কাটাকাটির জেরে ওমর ফারুক মজুমদার (৪৫) নামে সিএনজি চালিত অটোরিকশার এক চালককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে লালমাই উপজেলার পেরুল এলাকার এমআর সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ওমর ফারুক জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের লুধুয়া এলাকার আবদুল বারেক মজুমদারের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে কুমিল্লা নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের লাঙ্গলকোটের লুধুয়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন নিহত ওমর ফারুকের স্বজন ও স্থানীয় সিএনজি চালকরা।

নিহত ওমরের খালাতো ভাই বাকের মজুমদার বলেন, শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে লাকসাম বাইপাস এলাকা থেকে সিএনজি গ্যাস নেওয়ার জন্য ওমর ফারুক ভাই রওনা দেয়। এসময় মুদাফফরগঞ্জ সড়কের মাথায় এক অটোরিকশার সঙ্গে সামান্য ধাক্কা লাগে। এতে ওই অটোরিকশা চালক ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে আটকে রাখে। পরে আমি দেখে ঝগড়া মেটানোর চেষ্টা করি এবং তাকে স্ট্যান্ডে গিয়ে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলতে বলি। কিন্তু ওই অটোচালক তা না শুনে মোবাইল ফোনে লোকজন ডেকে এনে ওমর ফারুককে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লাকসামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি দেখে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

এদিকে ওমর ফারুকের মরদেহ নিয়ে আসার পর কুমিল্লা নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের লুধুয়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন ফারুকের স্বজন, এলাকাবাসী ও অন্যান্য সিএনজি চালকরা। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে সড়কের দুই পাশে দুই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুনরায় সড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম রাতে সমকালকে জানান, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে জহির নামে একজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে ওমর ফারুককে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।  জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে বলে তিনি জানান।
 

সম্পর্কিত নিবন্ধ