কিশোরগঞ্জের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী এর আগে পাঁচটি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। বাকি ছিল কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসন। এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের শ্যালক কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খানকে। জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রমজান আলী জানান, ডা. জেহাদ দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য। বৃহস্পতিবার কেন্দ্র থেকে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

আবদুল হামিদের স্ত্রী রাশিদা হামিদের ছোট ভাই জেহাদ খান ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে হৃদরোগ চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে কাজ করছেন। তিনি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে স্থাপিত প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গেও জড়িত। তাঁর বাড়ি করিমগঞ্জের জাফরাবাদ এলাকায়।

গত ১ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জ শহরতলির একটি পার্কে জামায়াতের জেলা ও উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্যদের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা সভা হয়। সেখানে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সামিউল হক ফারুকী আনুষ্ঠানিকভাবে অন্য পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছেন। 

তারা হলেন– কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুর) আসনে জেলা জামায়াতের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোসাদ্দেক আলী ভূঁইয়া। কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনে কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মোড়ল। কিশোগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ রোকন রেজা। কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রমজান আলী, কিশোরগঞ্জ-৬ (কুলিয়ারচর-ভৈরব) আসনে ভৈরব উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কবির হুসাইন।

ডা.

জেহাদের বড় ভাই ডা. নৌশাদ খান প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মিছিলে হামলা চালানোর অভিযোগে মামলায় আসামি করায় তিনি আত্মগোপন করেছেন।

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ক শ রগঞ জ জ ম য় ত ইসল ম আবদ ল হ ম দ ক শ রগঞ জ

এছাড়াও পড়ুন:

আদালতের যুগান্তকারী রায়

নিরাপদ পানিকে মৌলিক অধিকার হিসাবে ঘোষণা দান-সংক্রান্ত আদালতের রায়টি যুগান্তকারী বলিয়া আমরা মনে করি। কারণ যেই পানি জীবন রক্ষার উপকরণ, উহাই বিশুদ্ধ না হইলে জীবন হরণেরও কারণ হইতে পারে। শুক্রবার প্রকাশিত সমকালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে এই বিষয়ে সুয়োমোটো রুল জারি করিয়াছিলেন হাইকোর্ট। উক্ত রুলের চূড়ান্ত শুনানি হিসাবে বৃহস্পতিবার যেই রায় প্রদান করা হইয়াছে, উহার মাধ্যমে পানির অধিকার নিশ্চিত হইবে বলিয়া আমাদের প্রত্যাশা। রায়ের পর্যবেক্ষণে যথার্থই বলা হইয়াছে, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানিপ্রাপ্তি মৌলিক অধিকার। রাষ্ট্র এই অধিকার নিশ্চিত করিবে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে জনপরিসরে বিনামূল্যে নিরাপদ পানি সরবরাহ বিষয়েও ব্যবস্থা লইবার তাগিদ আসিয়াছে এই রায়ের মাধ্যমে। আমরা মনে করি, রায়ের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হইল, দেশে যত পানির উৎস বিদ্যমান, সেগুলিকে দূষণের হস্ত হইতে রক্ষা করিবার নির্দেশনা প্রদান করা হইয়াছে। বস্তুত দেশের পানির অন্যতম উৎস নদীগুলির অবস্থা দূষণ-দখলে সঙ্গিন। খালবিল ও অন্যান্য জলাধারের পরিস্থিতিও তথৈবচ। আদালতের রায়ে বিশেষত তুরাগ নদ, সোনারগাঁও ও হাতিরঝিলের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হইলেও পানির উৎস হিসেবে নদী ও সকল জলাধার সংরক্ষণ করিতে হইবে।

আদালত ১০ বৎসরের মধ্যে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য নিরাপদ এবং পানযোগ্য পানি সাশ্রয়ী মূল্যে নিশ্চিতকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে যেই নির্দেশ দিয়াছেন, উহাও জনগুরুত্বপূর্ণ। অযৌক্তিকভাবে বোতলজাত পানির মূল্য বৃদ্ধি করিবার বিষয়টি আমরা দেখিয়াছি। পানির অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাইয়া অনেকেই আন্দোলন করিয়াছেন; রাজপথে নামিয়া মানববন্ধনের ন্য়ায় কর্মসূচিও পালন করিয়াছেন। এমনকি ইতোপূর্বে পানি উৎপাদনে জড়িত একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিলেও বোতলজাত পানির অস্বাভাবিক মূল্য প্রতিহত করা যাইতেছে না। আমরা বিশ্বাস করি, আদালতের নির্দেশ আমলে লইয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করিলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাইবে এবং প্রত্যেকের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পানি নিশ্চিত হইবে। 

ইহাতে সুফল আসিতে পারে, কারণ আদালতের এই রায়টি চলমান আদেশরূপে থাকিবে। দেশে পানির মূল্যে যেই বৈষম্য রহিয়াছে, উহাও রোধ করা জরুরি। বিশেষ করিয়া শহরের নাগরিকদের পানিবিষয়ক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ-ওয়াসা এই বৈষম্য বহাল রাখিয়াছে; যথায় আবাসিক পর্যায়ে ঢাকা ওয়াসার এক সহস্র লিটার পানির মূল্য ১৫ টাকার অধিক, তথায় সমপরিমাণ পানির মূল্য চট্টগ্রাম ওয়াসায় ১৮ টাকা। খুলনা ওয়াসার একই পরিমাণ পানির মূল্য প্রায় ৯ টাকা। খুলনা শহর হইতে ২৫ কিলোমিটার দূরের চালনার বাসিন্দাদের কেবল এক লিটার পানির জন্যই গুনিতে হয় ৫০ পয়সা হইতে ১ টাকা। ওয়াসার পানি লইয়া আরও উদ্বেগের বিষয় হইল, এই পানি পান করিবার জন্য নিরাপদ–  নাগরিকরা এমনটা মনে করেন না। ইহাকে নিরাপদ করিতে পানি ফুটানো কিংবা অন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হয়। আবার দুর্যোগের কারণে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের মানুষও সুপেয় পানির সংকটে রহিয়াছে। আদালতের রায় এই সকল ক্ষেত্রেও কার্যকর হওয়া উচিত বলিয়া আমরা মনে করি। সত্য, সংবিধানে মৌলিক অধিকাররূপে স্বীকৃত হইবার পরও সরকার সকলের জন্য অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিতকরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে নাই। তবে এই সকল বিষয়ে সচেতন মহল ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার থাকিলে সংবিধান ও আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হইবে না।

সম্পর্কিত নিবন্ধ