ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) মধ্যে দ্বিপক্ষীয় করপোরেট স্বাস্থ্য চুক্তি হয়েছে। এখন থেকে পেট্রোবাংলার কর্মী ও তাঁদের পরিবারের এই হাসপাতালে বিশেষ ছাড়ে স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার এই চুক্তিতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্তী ও পেট্রোবাংলার সচিব রুচিরা ইসলাম।

এই চুক্তির আওতায় পেট্রোবাংলার সব কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক্সিকিউটিভ হেলথ চেক-আপ, কার্ডিয়াক হেলথ চেক-আপ ও অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বিশেষ ছাড় পাবেন। পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) এ কে এম সাহেদ হোসেন ও হেড অব করপোরেট নিতা চক্রবর্তী, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (করপোরেট বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) আমিনুল ইসলাম এবং পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা কৌশল ও রিসোর্সেস মোবিলাইজেশন) বিশ্বজিৎ সাহা ও উপমহাব্যবস্থাপক (মেডিকেল) আম্বিয়া খাতুন।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: করপ র ট

এছাড়াও পড়ুন:

স্যানিটেশন খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়াতে হবে

ওয়ার্ল্ড টয়লেট অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউটিও) প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. জ্যাক সিম সম্প্রতি এক সেমিনারে অংশ নিতে বাংলাদেশ এসেছিলেন। সমকালের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি ডব্লিউটিওর গড়ে ওঠা, স্যানিটেশন আন্দোলন, বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার হাসনাইন ইমতিয়াজ
সমকাল: স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হলেন?
জ্যাক সিম: আমার বয়স যখন ৪০ তখন দেখলাম বিশ্বের ৪০ শতাংশের বেশি লোক খোল জায়গায় মল ত্যাগ করে। বিষয়টি আমাকে ব্যথিত করে তোলে। পরে নিজের ১৬টি কোম্পানি বিক্রি করে স্যানিটেশন নিয়ে কাজ শুরু করি। এক পর্যায়ে ২০০১ সালে ওয়ার্ল্ড টয়লেট অর্গানাইজেশন (ডব্লিউটিও) গড়ে ওঠে।
সমকাল: সংস্থাটির শুরুর দিনগুলো কেমন ছিল?
জ্যাক সিম: স্যানিটেশন নিয়ে কথা বলা সহজ ছিল না। লোকজন হাসাহাসি করত। পরে ধীরে ধীরে লোকজন বুঝতে পারে। দেশে দেশে স্যানিটেশন নিয়ে কাজ শুরু হয়। জাতিসংঘ স্যানিটেশনকে নিজেদের এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করে। ২০১৩ সালে জাতিসংঘ বিশ্ব টয়লেট দিবসকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। সেই থেকে প্রতিবছর ১৯ নভেম্বর বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হচ্ছে। 
সমকাল: মানসম্মত স্যানিটেশন জরুরি কেন?
জ্যাক সিম: মানসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনা সুস্থ জাতি গঠনের পূর্বশর্ত। এ খাতে বিনিয়োগ দেশের স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ সব পর্যায়েই ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। কারণ স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনা নাগরিককে সুস্থ, সবল ও সক্ষম রাখে, যা সুস্থ সমাজের লক্ষণ। 
সমকাল: বাংলাদেশের স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
জ্যাক সিম: বাংলাদেশ স্যানিটেশন খাতে যথেষ্ট উন্নতি করলেও এখনও দেশের ৬১ শতাংশ জনগণ নিরাপদ স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের বাইরে। দেশের ২ কোটি ৩৪ লাখ মানুষ এখনও অনুন্নত শৌচাগার ব্যবহার করছে। দেশের জনসংখ্যার ৫৮ শতাংশ মৌলিক হাত ধোয়ার সুবিধার আওতায় আছে এবং মাত্র ১৬ শতাংশের বাড়িঘরে বর্জ্যপানি পরিশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই এ খাতে বাংলাদেশের যথেষ্ট উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনায় উন্নতি আনা জরুরি। খোলা স্থানে মল ত্যাগ করলে বায়ু, পরিবেশ, পানি দূষিত হয়। ঠিকমতো হাত না ধুলে অসুখ ছড়ায়। স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট না থাকলে পর্যটক আসবে না। তাই স্যানিটেশন নিয়ে জাতি সচেতন হলে আখেরে লাভ। অসুখ কম হবে। মন ভালো থাকবে। সমাজ সুস্থ থাকবে।
সমকাল: স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? 
জ্যাক সিম: একটি দেশে মানসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জরুরি। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। 
সমকাল: বাংলাদেশের মতো দেশগুলো কীভাবে টেকসই স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারে?
জ্যাক সিম: চীন, সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো পাবলিক টয়লেটের জন্য উদাহরণ। সিঙ্গাপুরে পাবলিক টয়লেট বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। সেখানে খাবার হোটেল, রেস্টুরেন্ট করতে হলে ক্লিন টয়লেট করতেই হবে। এমন আইন থাকায় সহজেই মানসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। চীনে পাবলিক টয়লেটের দেয়ালে বিজ্ঞাপন দিয়ে আয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই মডেল বাংলাদেশ গ্রহণ করতে পারে। এভাবে সরকারি উদ্যোগে এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় টেকসই ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।
সমকাল: বৈশ্বিকভাবে স্যানিটেশন এখন কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে?
জ্যাক সিম: বর্তমানে স্যানিটেশনের চেয়ে আরও অনেক ইস্যু আলোচনার মূল অংশ হয়ে উঠেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ, উদ্বাস্তুসহ নানা ইস্যুতে স্যানিটেশন চাপা পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু সুস্বাস্থ্যের জন্য স্যানিটেশন নিয়ে আমাদের আলোচনা জারি রাখতে হবে।
সমকাল: প্রযুক্তি স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে?
জ্যাক সিম: এখন স্যানিটেশনকেন্দ্রিক বিভিন্ন উদ্ভাবন হচ্ছে। নতুন নতুন স্টার্টআপ আসছে। টয়লেটে অনেক আধুনিক প্রযুক্তি এসেছে। যদিও সেগুলো বেশ ব্যয়বহুল। একসময় চাহিদা বাড়লে দাম কমে আসবে।
সমকাল: বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?
জ্যাক সিম: দেশের পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন-ওয়াশ খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়াতে হবে। নাগরিকদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে যথাযথ প্রযুক্তিসম্পন্ন টয়লেট গড়ে তুলতে হবে। 
 

সম্পর্কিত নিবন্ধ