আগামী ৩ মার্চ শুরু হচ্ছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল)। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের প্রথম পাঁচ রাউন্ডের সূচি ঘোষণা করেছে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিটন (সিসিডিএম)। উদ্বোধনী দিনে মুখোমুখি হবে আবাহনী লিমিটেড ও অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।

প্রথম পর্বের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে তিনটি ভেন্যুতে—মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) তিন ও চার নম্বর মাঠ। 

প্রথমদিনে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তিন নম্বর মাঠে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এবং গুলশান ক্রিকেট ক্লাব খেলবে। একই সময়ে বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে মুখোমুখি হবে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ও রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব।

ডিপিএল সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস। মিরপুরের ম্যাচগুলো দেখা যাবে তাদের টেলিভিশন চ্যানেলে, আর বিকেএসপির ম্যাচগুলো সম্প্রচার করা হবে টি-স্পোর্টসের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। আসর সামনে রেখে মিরপুরে ক্রিকেটারদের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ড প এল

এছাড়াও পড়ুন:

কাঁঠাল অভিযান...

বার্ষিক পরীক্ষার পরের ছুটিতে ঢাকা থেকে দূরের কোনো শহরে বেড়াতে যাবার জন্য আপু প্রতিদিন আব্বার কাছে ঘ্যান ঘ্যান করতে লাগলো। আব্বা প্রতিদিনই বলেন, এই সময়ে সবাই বেড়াতে যাওয়ায় টিকিট পাওয়া যাবে না; ভালোভাবে কোথাও সময় কাটানো যাবে না। আমার কাছেও মনে হলো একটু ঘুরে এলে কী এমন হয়? শেষ পর্যন্ত আব্বা রাজি হয়ে গেলেন। আগের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা জানতাম না, কোথায় যাবো? আব্বা যখন বললেন, কুমিল্লা পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে যাবেন, তখন আম্মু বিরক্ত হয়ে বলেন, ‌‘ওটাতো তোমাদের সরকারি অফিসারদের ট্রেনিং সেন্টার, সেখানে বাচ্চারা মজা পাবে না।’ আব্বা মুচকি হেসে বলেন, ‘বাংলার একটি প্রাচীন জনপদে গিয়ে বাচ্চারা অনেক কিছু শিখতে পারবে। পল্লী উন্নয়ন একাডেমি যাকে বার্ড বলে, সেটিও খুব সুন্দর আর নিরাপদ।’
আমরা সকালে মহানগর প্রভাতী ট্রেনে কুমিল্লা রওনা দিয়ে দুপুরের আগেই পৌঁছে গেলাম। এতো সুন্দর পাহাড়, লন টেনিসের কোর্ট, সুইমিং পুল, হাজার হাজার গাছ দেখে মনটা ভরে গেলো। আব্বা একে একে বার্ডের ভেতর ট্রেনিং সেন্টার, ক্লাসরুম, লাইব্রেরি, লাল-গোলাপি অসংখ্য রঙের ফুলের বাগান ঘুরিয়ে দেখালেন। 
আপু মামুন দাদাকে মোবাইল ফোনে জানালো, আমরা বার্ডে এসেছি। মামুন দাদা আমাদের বললেন, ‌‘লালমাইয়ের ময়নামতি বিহার-যাদুঘর, নব শালবন বৌদ্ধ বিহার, রাণীদিঘি, শালবন অবশ্যই ঘুরে আসবে।’ তিনি কুমিল্লা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের একটা ছবি তুলে দিতে বলেন। কেননা, সেই স্কুলের ছাত্র ছিলেন তিনি। এই স্কুলটি বর্তমানে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ। ছোটবেলায় মামুন দাদা বার্ডের ঠিক পাশেই কোর্টবাড়িতে থাকতেন। আমরা বার্ডের নীলাচল পাহাড়ে উঠে ক্যাডেট কলেজের ছবি তুলে মামুন দাদাকে পাঠিয়ে দিলাম।            
কয়দিনের বেড়ানোর সময় কুমিল্লার বিখ্যাত মাতৃভাণ্ডারের মজার রসমালাই, ছানামুড়কী খাই। আসার দিন আব্বাকে বললাম, ‘মামুন দাদার জন্য কী নেব?’ একটি বড় গাছের নিচে এসে সবুজ রঙের ফল দেখিয়ে বলেন, ‘বার্ডের এই ফলটি নিয়ে যাও। তোমার মামুন দাদা অনেক খুশি হবেন।’ এটা কী ফল, বলায় আব্বা হাসতে হাসতে বলেন, ‘মুচি’। আপু রাগ করে বলে, ‘তুমি কী আমাদের বাচ্চা পেয়েছো? মুচি, আবার কোনো ফল হতে পারে?’ শেষ পর্যন্ত আব্বা বুঝিয়ে বলেন, কাঁঠালের কচি অবস্থাকে মুচি বলে। আমি একটি আস্ত কাঁঠাল টিস্যুপেপার দিয়ে মুড়িয়ে পকেটে রেখে দিলাম মামুন দাদাকে দেবো বলে। আসলে এটি হচ্ছে আমার কাঁঠাল অভিযান! 

বয়স : ১+২+২+৩+৪ বছর; ষষ্ঠ শ্রেণি, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

সম্পর্কিত নিবন্ধ