সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) মহাপরিচালক পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির পক্ষ থেকে এই বৈঠকে যেইভাবে সীমান্ত হত্যা পুরোপুরি বন্ধের কথা বলা হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুত গত দেড় যুগ ধরে আমাদের দেশের সীমান্ত যেন আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সীমান্তে নির্মমভাবে গুলি করে যেভাবে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা করেছে, তা বিরল। এই নির্মমতায় আমাদের হৃদয়ে করেছে রক্তক্ষরণ ঘটেছে। আমরা জানি, ভূ-রাজনীতির দিক দিয়ে বাংলাদেশ তিনদিক দিয়ে ভারত দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং একদিকে বঙ্গোপসাগর। 
সীমান্তে হতাহতদের বড় অংশ হলো গবাদি পশু ব্যবসায়ী ও সীমান্তবর্তী জমির কৃষক। জানুয়ারির শুরুর দিকে, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চিনাকান্দি সীমান্তে সন্ধ্যার দিকে একটি কৃষক পরিবারের সন্তান  তাদের গরু আনতে গেলে, সীমান্তের ভেতরে ঢুকে হত্যা করে বিএসএফ। বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং মানবাধিকার সংস্থার হিসাব মতে, বিএসএফ কর্তৃক সীমান্ত হত্যার গত দেড় বছরে ছয় শতাধিকের মতো। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৩১ জন বাংলাদেশের সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছেন। 


আজ থেকে ১৪ বছর আগে যে মর্মান্তিক দৃশ্য বিশ্ববাসীকে মর্মাহত করেছিল, আর  তা ছিল ফেলানি হত্যা। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাবার সঙ্গে ফেরার সময়ে বর্বর বিএসএফ ১৪ বছর বয়সী ফেলানিকে অত্যন্ত নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রেখেছিল, যা বিশ্ববাসী দেখেছিল। এই বর্বর সীমান্ত হত্যা চলতে পারে না। মাঝেমধ্যে সীমান্ত হত্যা বন্ধের জন্য সীমান্তে আমাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়; তারপরও বন্ধ হয়নি সীমান্ত হত্যা। কিছুদিন আগে বিএসএফ লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম  সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করে ভারত, এই বেড়া নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছে বিজিবি বাংলাদেশের কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে। 


অন্যদিকে ভারতীয় মিডিয়ার বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার থেমে নেই। আমরা জানি, ইউরোপীয়  ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে একদেশ থেকে আরেক দেশে সীমান্ত পাড়ি দেওয়া যায়। আবার মেক্সিকো-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে শত্রুতা দেখা গেলেও এমনকি উত্তর-দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তেও এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা  ঘটে না। বিগত শেখ হাসিনার আওয়ামী সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে সীমান্ত হত্যা বন্ধের ব্যাপারে ভারত সরকারের সঙ্গে মীমাংসা করেনি। তাই বর্তমান সরকারের কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, ভারত সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে দ্রুত মীমাংসা করে সীমান্তে শান্তির ব্যবস্থা করা হোক।
 
মো.

ইয়ামিন খান: কলাম লেখক
 mdyamin.khan1983@gmail.com
 

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: সরক র র ব এসএফ

এছাড়াও পড়ুন:

মুজিবনগর সীমান্ত দিয়ে ১৫ জনকে ফেরত পাঠাল বিএসএফ

মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্ত দিয়ে এক রোহিঙ্গাসহ ১৫ জনকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

বুধবার ভোরে সোনাপুর মাঝপাড়া সীমান্ত দিয়ে তাদের পুশব্যাক করেছে বিএসএফ।

সীমান্ত পার হয়ে আসা বাংলাদেশিরা হলেন, পাবনা জেলার চাটমোহর থানার বিশ্বনাথপুর গ্রামের জগতবন্ধু হালদারের ছেলে শিবাস হালদার (৫০) এবং হরিদাস হালদার (২৪), চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর থানার হরিশপুর গ্রামের শাহলাল ইসলামের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (২০), চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নরেন্দ্রপুর থানার আব্দুর রউফের ছেলে আক্কাস আলী (২৮), রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার সারেংপুর গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে শাহিন আলী (২৭), চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর থানার নরেন্দ্রপুর গ্রামের সাইদুর আলীর ছেলে কাজীব আলী (২৩), চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর থানার হরিশপুর গ্রামের বদর আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ (২৭), পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি থানার বালিয়াপাড়া গ্রামের ইসাহাক সিপাইয়ের ছেলে আজিল সিপাই (৪৫), পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমারের বুতিডং জেলার থাং বাজার থানার মাঝিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও কক্সবাজার উখিয়া রোহিঙ্গা ১৬ নম্বর ক্যাম্পের এইচ-৩ ব্লকের বাসিন্দা আবুল পয়াসের ছেলে রিয়াজ (২৪) আরো ছয় জনের নাম না জানতে পারাসহ ১৫ জন।

পার হয়ে আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমে জানা যায়, তারা বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। তারা ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হয়ে বেশ কিছুদিন জেল খেটেছেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর কারাগারে জেল খাটার পর বুধবার রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ রাতের অন্ধকারে কাঁটাতার পার করে তাদের বাংলাদেশের ভেতরে ঠেলে দেয়।

রাতের আধাঁরে তারা মুজিবনগর উপজেলার কেদারগঞ্জ বাজার থেকে বাসযোগে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়।

এ বিষয়ে বিজিবির মুজিবনগর ক্যাম্প কোনও বক্তব্য দিতে চায়নি।

মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ভোরে কয়েকজন বাংলাদেশিকে পুশব্যাক করার কথা শুনেছি। তবে এ বিষয়ে পুলিশের কার্যক্রম চলমান।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • যুবককে নির্যাতন, মৃত ভেবে ফেলে গেল বিএসএফ 
  • তেঁতুলিয়া সীমান্তে আটক ৭ বাংলাদেশিকে ফেরত দিয়েছে বিএসএফ
  • তেঁতুলিয়া সীমান্তে আটক সাত বাংলাদেশিকে ফেরত দিয়েছে বিএসএফ
  • মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে ১৫ জনকে ঠেলে দিল বিএসএফ
  • মুজিবনগর সীমান্ত দিয়ে ১৫ জনকে ফেরত পাঠাল বিএসএফ