২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়। এটি ৯/১১ নামেও পরিচিত। এ হামলার সময়ে দেশটির লস অ্যাঞ্জেলেসে শুটিং করছিলেন সুনীল শেঠি। দুভার্গ্যক্রমে, পুলিশের হাতে আটক হন এই অভিনেতা। প্রায় চব্বিশ বছর পর সেই ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন সুনীল।  

সুনীল শেঠি বলেন, “হোটেলে ঢোকার জন্য লিফটে উঠার পর বুঝতে পারি চাবি নিয়ে আসিনি। সেখানে একজন মার্কিন ভদ্রলোক ছিলেন। আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আপনার কাছে চাবি আছে?’ আমি তো চাবি আনতে ভুলে গেছি আর আমার স্টাফ বাইরে চলে গেছে। লোকটি দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে হট্টগোল শুরু করলেন। পুলিশ চলে এলো। বন্দুক উঁচিয়ে পুলিশ বলল,  “শুয়ে পড়ো, না হলে গুলি করব।”  

পরের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সুনীল শেঠি বলেন, “আমি জানতাম না কী হচ্ছে। সুতরাং আমাকে হাঁটু গেড়ে বসতে হয়েছিল। তারা আমাকে হাতকড়া পরিয়ে দেয়।” ঠিক সেই সময়ে সিনেমার প্রযোজনা টিম হস্তক্ষেপ করে। হোটেল ম্যানেজারদের একজন ছিলেন পাকিস্তানি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “তিনি একজন অভিনেতা, তার নাম সুনীল।”

আরো পড়ুন:

মা-বাবা হচ্ছেন কিয়ারা-সিদ্ধার্থ

শিবলিঙ্গ জড়িয়ে ধরে বিতর্কে অক্ষয়

পুরো ঘটনাকে ‘পাগলামি’ বলে মন্তব্য করেন সুনীল শেঠি। এ অভিনেতা বলেন, “সেই সময়ে আমরা যেসব ঘটনার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলাম, তা ছিল পাগলামি। আমি জানতাম না এরপর কী ঘটবে। কারণ এত হট্টগোল ছিল! তা ছাড়া আমার মুখভর্তি দাড়ি ছিল।”

সুনীল শেঠি মনে করেন, লিফটে থাকা ব্যক্তি ইংরেজি বুঝতে না পারার কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমি ভেবেছিলাম সে ভাষা বোঝে না। হয়তো সে ইংরেজি বলতে পারে না। তাই আমি ইশারায় চাবি, লিফটের কথা বলেছিলাম। কিন্তু এটি আমার বিরুদ্ধে কাজ করেছিল।”

সঞ্জয় গুপ্তা নির্মিত ‘কান্তে’ সিনেমা ২০০২ সালে মুক্তি পায়। ৯/১১ হামলার সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমাটির দৃশ্যধারণের কাজ হয়। সিনেমাটিতে আরো অভিনয় করেন— সঞ্জয় দত্ত, অমিতাভ বচ্চন, কুমার গৌরব, মহেশ মাঞ্জেরেকর প্রমুখ।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সন্ত্রাসীরা দুটি উড়োজাহাজ ছিনতাই করে আছড়ে ফেলে নিউ ইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের সুউচ্চ জোড়া ভবন বা টুইন টাওয়ারে। আরেকটি উড়োজাহাজ আছড়ে পড়ে পেন্টাগনে। হামলা হয় পেনসিলভেনিয়াতেও। এসব হামলায় প্রাণ হারায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ, আহত হয় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলা এটি।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

ঢাকা/শান্ত

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর

এছাড়াও পড়ুন:

‘লেখক ছাড়া অন্য পেশার মানুষের সঙ্গ বেশি পছন্দ করি’

১৯৬২ সালের ৩০ অক্টোবর, সিলভিয়া প্লাথ ব্রিটিশ কাউন্সিলের পিটার ওরের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করেন। অর্থাৎ এই সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছিল কবির মৃত্যুর মাত্র তিন মাস আগে। এটি ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত দ্য পোয়েট স্পিকস: ইন্টারভিউস উইথ কনটেম্পোরারি পোয়েটস গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়; যা হিলারি মরিশ, পিটার ওর, জন প্রেস ও ইয়ান স্কট-কিলভার্ট কর্তৃক গৃহীত সমসাময়িক কবিদের সাক্ষাৎকারের সংকলন। 

ওর: সিলভিয়া, কীভাবে কবিতা লেখা শুরু করলেন?
প্লাথ: আমি ঠিক জানি না কীভাবে শুরু করলাম। ছোটবেলা থেকেই লিখতাম। সম্ভবত শিশুতোষ ছড়াগুলো ভালোবাসতাম। মনে হয়েছিল আমিও এমন লিখতে পারি। আমার প্রথম কবিতা, প্রথম প্রকাশিত কবিতা, লিখেছিলাম যখন আমার বয়স ছিল সাড়ে আট। সেটা দ্য বোস্টন ট্রাভেলার-এ প্রকাশিত হয়েছিল, আর তখন থেকেই বলা যায় আমি পেশাদার হয়ে গেছি।
ওর: অনেক বছর পেরিয়ে এসে এখন যদি জিজ্ঞেস করা হয়, এমন কোনো থিম আছে কি– যা একজন কবি হিসেবে আপনাকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করে? এমন কিছু, যা নিয়ে আপনি লিখতে চান?
প্লাথ: হয়তো এটি কিছুটা মার্কিনিসুলভ ব্যাপার– অনুভব করি নতুন একটি প্রাপ্তি নিয়ে আমি দারুণ উচ্ছ্বসিত হয়ে আছি। যা সম্ভবত এসেছে রবার্ট লোয়েলের লাইফ স্টাডিজের সাথে সাথে। এটি একরকম প্রবল অগ্রযাত্রা; যা একই সাথে খুব গুরুতর, দারুণ ব্যক্তিগত এবং আবেগপ্রবণ অভিজ্ঞতার দিকে নিয়ে যায়, যা বোধ করি কিছুটা ট্যাবু হিসেবে গণ্য করা হতো। উদাহরণস্বরূপ, রবার্ট লোয়েলের মানসিক হাসপাতালের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা কবিতাগুলো আমাকে তীব্রভাবে আগ্রহী করে তুলেছিল। আমার মতে এই অদ্ভুত, ব্যক্তিগত এবং নিষিদ্ধ বিষয়গুলো নিয়ে সাম্প্রতিক আমেরিকান কবিতায় বিশেষভাবে অনুসন্ধান করা হয়েছে। বিশেষ করে কবি অ্যান সেক্সটনের কথা বলব, যিনি একজন মা হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন। এমন একজন মা; যিনি স্নায়বিক বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন। 


তিনি একজন অত্যন্ত আবেগপ্রবণ এবং অনুভূতিশীল তরুণী। তাঁর কবিতাগুলো খুবই কারিগরি নৈপুণ্যের সঙ্গে লেখা। তাঁর কবিতাগুলোর মধ্যে একধরনের আবেগিক ও মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা রয়েছে, যা আমি মনে করি কিছুটা নতুন এবং খুবই উদ্দীপনাদায়ক।
lআপনি একজন কবি হিসেবে এবং একজন ব্যক্তি হিসেবে আটলান্টিকের দুই পাশে আছেন। যদি আমি এভাবে বলতে চাই, একজন আমেরিকান হিসেবে…
llএটা বেশ একটি অস্বস্তিকর অবস্থান, কিন্তু আমি মেনে নিচ্ছি!
lযদি আমি এই রূপকটি আরেকটু এগিয়ে নিই, তাহলে পাল্লার কোন দিকটিতে আপনার ঝোঁক বেশি হবে?
llআচ্ছা, আমি মনে করি, ভাষার দিক থেকে আমি একজন আমেরিকান। সত্যি বলতে আমার উচ্চারণ আমেরিকান, কথা বলার ভঙ্গি আমেরিকান ধাঁচের, একেবারে সেকেলে আমেরিকান যাকে বলে। এটাই সম্ভবত অনেক কারণের একটি, যার জন্য আমি এখন ইংল্যান্ডে আছি এবং যে কারণে আমি সব সময় ইংল্যান্ডেই থাকব। রুচির দিক থেকে আমি হয়তো পঞ্চাশ বছর পিছিয়ে আছি এবং স্বীকার করতেই হবে যে, যেসব কবি আমাকে সবচেয়ে বেশি উদ্দীপ্ত করেন, তারা আমেরিকান। এমন খুব কম সংখ্যক ইংরেজ কবি আছেন; যাদের আমি ভক্ত।
lএর মানে কি আপনি মনে করেন যে সমসাময়িক ইংরেজি কবিতা আমেরিকান কবিতার তুলনায় সময়ের থেকে পিছিয়ে আছে?
llনা, যদি আমাকে বলতে বলার সুযোগ দেন, আমি মনে করি কবিতা এখানে কিছুটা আঁটোসাঁটো বন্ধনে আবদ্ধ। ব্রিটিশ সমালোচক আলভারেজের একটি প্রবন্ধ ছিল। সেখানে তিনি ইংল্যান্ডে সুশীলতার বিপদ সম্পর্কে যা বলেছেন, তা খুবই প্রাসঙ্গিক এবং যথার্থ। আমি মনে করি, আমি খুব একটা সুশীল নই এবং অনুভব করি যে এই ভদ্রতার আতিশয্য যেন একরকম শ্বাসরোধ করছে: ইংল্যান্ডের সর্বত্র যে পরিচ্ছন্নতা ও নিখুঁত পরিপাটি ভাব দেখা যায়, তা হয়তো ওপরে ওপরে যতটা নিরীহ মনে হয়, আসলে তার চেয়েও বেশি মারাত্মক হয়ে ওঠে।
lসিলভিয়া, আপনি বলেছেন যে আপনি নিজেকে একজন আমেরিকান মনে করেন, কিন্তু যখন আমরা ‘ড্যাডি’ কবিতাটি শুনি, যেখানে ডাখাউ, অশভিৎস এবং মাইন কাম্পফ সম্পর্কে বলা হয়েছে, তখন আমার মনে হয় এটি এমন একটি কবিতা; যা প্রকৃত একজন আমেরিকান লিখতে পারার কথা নয়। কারণ, আটলান্টিকের ওপারে এই নামগুলো এতটা গভীর তাৎপর্য বহন করে না, তাই না?
llঠিক আছে, আপনি এখন আমার সাথে কথা বলছেন সাধারণ একজন আমেরিকান হিসেবে। কিন্তু নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে আমার পারিবারিক পটভূমির কথা যদি বলি, তবে তা হলো জার্মান ও অস্ট্রিয়ান। একদিক থেকে আমি প্রথম প্রজন্মের আমেরিকান, আরেক দিক থেকে দ্বিতীয় প্রজন্মের। ফলে কনসেনট্রেশন ক্যাম্প এবং এসব বিষয় নিয়ে আমার অনুভূতি বিশেষভাবে তীব্র। আরেকটি কথা হলো, আমি কিছুটা রাজনীতিসচেতন মানুষও বটে। তাই আমার মনে হয়, কবিতাটি এসেছে আমার নিজের এই অংশ থেকে।
lএকজন কবি হিসেবে আপনার কি ইতিহাস বিষয়ে গভীর ও তীব্র চেতনা রয়েছে?
llআমি ইতিহাসবিদ নই, কিন্তু খেয়াল করছি যে আমি ক্রমশ ইতিহাসের প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট হয়ে পড়ছি। এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ইতিহাস পড়ছি। যেমন– বর্তমানে নেপোলিয়নের প্রতি আমি খুবই আগ্রহী– যুদ্ধ, লড়াই, গ্যালিপোলি, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে খুবই আগ্রহী। আমি মনে করি, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি আরও বেশি ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করছি। অবশ্যই, বিশের কোঠার শুরুর দিকের বয়সে আমি মোটেই এ রকম ছিলাম না।
lআপনি যাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন বা আপনার জন্য যারা গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন– এমন লেখকদের সম্পর্কে কিছু বলবেন?
llতেমন আসলে খুব কম সংখ্যকই ছিল। সত্যি বলতে তাদের খুঁজে নাম বলতে বেগ পেতে হবে। যখন আমি কলেজে ছিলাম, তখন আধুনিক লেখকেরা আমাকে বিস্মিত ও অভিভূত করেছেন– ডিলান টমাস, ইয়েটস, এমনকি অডেনও। একসময় তো আমি অডেনের জন্য পাগল ছিলাম এবং যা কিছু লিখতাম সবই অনিবার্যভাবে অডেনীয় (অডেনেস্ক) হয়ে উঠত। এখন আবার আমি যখন পেছনে ফিরে যাচ্ছি, ব্লেকের দিকে নজর চলে যাচ্ছে। আর অবশ্যই, শেক্সপিয়রের মতো কারও দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার কথা বলাটা ধৃষ্টতাই হবে। শেক্সপিয়রকে পড়া হয়, ব্যস, এই তো।
lসিলভিয়া, আপনার কবিতা পড়তে এবং শুনতে গিয়ে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে এবং দ্রুত বোঝা যায়– দুটি বৈশিষ্ট্য খুব স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। একটি হলো সেগুলোর স্বচ্ছতা বা প্রাঞ্জলতা এবং আরেকটি হলো পাঠের সময় একটি শক্তিশালী ঘোর তৈরি হওয়া (এবং আমি মনে করি এই দুটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে)। এখন, আপনি কি সচেতনভাবে আপনার কবিতাগুলো স্পষ্ট এবং উচ্চ স্বরে পাঠ করলে ঘোরের মাঝে নিয়ে যাবে এভাবে লেখেন?
llআমার শুরুর দিককার কবিতাগুলো এমনভাবে আমি লিখিনি। উদাহরণস্বরূপ, আমার প্রথম বই ‘দ্য কলোসাস’-এর কবিতাগুলো এখন উচ্চকণ্ঠে আমি আবৃত্তি করতে পারি না। সেগুলো আমি এমনভাবে লিখিনি, যাতে আবৃত্তি করা যায়। এই কবিতাগুলো ব্যক্তিগতভাবে আমাকে ক্লান্ত করে তোলে। কিন্তু এইমাত্র আমি যে কবিতাগুলো পড়লাম, যেগুলো একদম সাম্প্রতিক, সেগুলো আমি নিজেই নিজেকে শোনাই। আমি মনে করি, আমার নিজের লেখার বিকাশের ক্ষেত্রে এটি আমার জন্য একদম নতুন একটি বিষয়। এবং যদি এগুলোর মধ্যে কোনো স্বচ্ছতা থাকে, তবে তা এই কারণে যে আমি এগুলো নিজে নিজেকে শোনাই, উঁচু গলায়ই শোনাই।
lএকমুহূর্তের জন্য কবিতাকে পাশে সরিয়ে রাখি। এমন অন্য কিছু আছে কি– যা আপনি লিখতে চান বা যা আপনি লিখেছেন?
llদেখুন, আমি সব সময় গদ্যের প্রতি আগ্রহী ছিলাম। কিশোর বয়সে আমি ছোটগল্প লিখে প্রকাশ করতাম। আমি সব সময় দীর্ঘ ছোটগল্প লিখতে চেয়েছি, উপন্যাস লিখতে চেয়েছি। এখন আমি বলা যায় একটি সম্মানজনক বয়সে পৌঁছেছি এবং কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। তাই গদ্য এবং বিশেষ করে উপন্যাসের প্রতি আরও বেশি আগ্রহ অনুভব করি। আমি মনে করি, উপন্যাসে আপনি টুথব্রাশ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের যাবতীয় ছোটখাটো জিনিস ঢুকিয়ে দিতে পারেন, যা কবিতায় করা বেশ কঠিন। আমি অনুভব করি কবিতা বড় কঠোর এক শাস্ত্র। আপনাকে খুব অল্প পরিসরে খুব দ্রুত অনেক দূর যেতে হয়, ফলে সব গৌণ বিষয় বাদ দিতে হয়। কবিতা থেকে দূরে থাকাটা আমাকে পোড়ায়! আবার আমি একজন নারী, আমি আমার ছোটখাটো জিনিসগুলো ভালোবাসি, আমি তুচ্ছ বিষয়গুলো পছন্দ করি, এবং উপন্যাসে আমি জীবনের অনেক বেশি কিছু তুলে ধরতে পারি– হয়তো এতটা তীব্রভাবে নয়, কিন্তু নিঃসন্দেহে অনেক বিস্তৃতভাবে। আর এই কারণেই উপন্যাস লেখার প্রতি আমার আগ্রহ বেড়ে গেছে।
lআপনি কি অন্যান্য লেখক বা কবিদের সংস্পর্শে নিজেকে খুব একটা খুঁজে পান?
llআমি বরং ডাক্তার, ধাত্রী, আইনজীবী– লেখক ছাড়া অন্য যে কোনো পেশার মানুষের সঙ্গ বেশি পছন্দ করি। আমি মনে করি, লেখক ও শিল্পীরা সবচেয়ে আত্মকেন্দ্রিক মানুষ। যদিও এটা বলা উচিত নয়। কারণ, আমি অনেক লেখক ও শিল্পীকে পছন্দ করি, এমনকি আমার অনেক বন্ধু তাদের মধ্যে রয়েছেন। কিন্তু আমি সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা করি সেই মানুষকে; যিনি বাস্তব অভিজ্ঞতার কোনো ক্ষেত্রে নিজেকে পারদর্শী করে তুলেছেন এবং আমাকে কিছু না কিছু শেখাতে পারেন। যেমন– আমার এলাকার স্থানীয় একজন ধাত্রী আমাকে মৌমাছি পালন করতে শিখিয়েছেন। কিন্তু তিনি আমার লেখার কিছুই বুঝতে পারেন না। অথচ সত্যি বলতে, আমি তাকে অধিকাংশ কবির চেয়ে বেশি পছন্দ করি। আমার বন্ধুদের মাঝেও এমন অনেককে পাই, যারা নৌকা চালানো, নির্দিষ্ট কিছু খেলাধুলা বা কারও শরীর কেটে কোনো অঙ্গ অপসারণ করার মতো বিষয় সম্পর্কে বিস্তর জানেন। ব্যবহারিক বিষয়ে এই দক্ষতা আমাকে মুগ্ধ করে। কবি হিসেবে, আমরা যেন একটু বাতাসে ভেসে থাকি। তাই আমি সব সময় এমন কাউকে পছন্দ করি, যে আমাকে বাস্তবের কিছু শেখাতে পারে। 
 

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২৯ মাদক কারবারিকে তুলে দিল মেক্সিকো
  • হাতিরঝিলে অস্ত্র ঠেকিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ‘শুটিংয়ের দৃশ্য’
  • জাতীয় নাগরিক পার্টিকে স্বাগত জানাল ইসলামী আন্দোলন
  • চট্টগ্রামে বিএনপি নেতা নোমানের জানাজায় শোকার্ত মানুষের ঢল
  • সাইকো কিলার মিষ্টি জান্নাত!
  • বরেণ্য অভিনেতা উত্তম মারা গেছেন
  • ষোলতে বিয়ে, সতেরোতে জমজ সন্তানের মা, আঠারোতে অভিনেত্রীর বিচ্ছেদ
  • অবৈধভাবে কিডনি বিক্রি, মিয়ানমারের দুই নাগরিক জানালেন তাঁদের অভিজ্ঞতা
  • ‘লেখক ছাড়া অন্য পেশার মানুষের সঙ্গ বেশি পছন্দ করি’